এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বঙ্গ-বিজেপিতে বড়সড় ‘শুদ্ধিকরণ’? ক্ষমতার ‘ভরকেন্দ্রের’ বদল শুধু সময়ের অপেক্ষা?

বঙ্গ-বিজেপিতে বড়সড় ‘শুদ্ধিকরণ’? ক্ষমতার ‘ভরকেন্দ্রের’ বদল শুধু সময়ের অপেক্ষা?



পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজীনীতিতে আগামী এক সপ্তাহ অতীব গুরুত্ত্বপূর্ন হতে চলেছে। এমনিতেই বাঙালির রাজনৈতিক পটভূমি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে – একদিকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২ টি আসনই নিজেদের দখলে আনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরও আগাম ঘোষণা করে রেখেছে রাজ্যে ২২ টি আসন দখলের পাশাপাশি বাকি সব আসনে প্রথম দুইয়ে থাকাই আপাতত পাখির চোখ। কিন্তু, এই রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই, বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত একের পর এক কেলেঙ্কারির দাগ বঙ্গ-বিজেপি গায়ে।

এলপিজি-দুর্নীতি থেকে শুরু করে মহিলা-ঘটিত কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গেছে বঙ্গ-বিজেপির বেশ কিছু হেভিওয়েটের। এমনকি এই সব কেলেঙ্কারিতে নাম বাদ যায় নি বাংলার সঙ্ঘের নেতাদেরও। আর যেসকল নেতাদের নাম জড়িয়েছে – তাঁরা আপাতত বঙ্গ-বিজেপির ‘ডিসিশন-মেকার’। স্বাভাবিকভাবেই, রাজ্য-বিজেপির শীর্ষ-নেতৃত্ত্বের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে শাসকদল এইসব মিথ্যা বদনাম রটাচ্ছে, আইনি ও রাজনৈতিকভাবেই এইসব ‘কুৎসার’ মোকাবিলা করা হবে। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা – বিজেপির কেন্দ্রীয়নেতৃত্ত্ব ও সঙ্ঘের শীর্ষনেতৃত্ত্ব রাজ্য নেতাদের এইভাবে বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে পড়া মোটেই ভালো চোখে নেয় নি।

এমনকি, কলকাতায় এসে এই নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে গেছেন অমিত শাহ ও মোহন ভাগবতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই নেতা। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের গেস্ট হাউসে চলা সেই দুই ম্যারাথন বৈঠকে দিল্লির ওই দুই নেতা বস্তুত বুঝতে চেয়েছিলেন – এইসব অভিযোগের সত্যতা কতখানি। শুধু তাই নয়, অন্য সূত্র থেকে জেলাস্তরের নেতাদের নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যে রিপোর্ট দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জমা পড়েছে – তা বেশ ‘বিস্ফোরক’ বলেই দাবি। সবথেকে বড় কথা, ঐতিহাসিকভাবে বাংলায় সেভাবে কখনো সাফল্য পায় নি বিজেপি, কিন্তু বর্তমানে বিজেপির উপর বাংলার মানুষের আস্থা বাড়ছে বলে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই সব অভিযোগের সত্যতা থাকুক বা না থাকুক – বঙ্গ-বিজেপির ‘মুখ’ যাঁরা, তাঁদের নাম এইসব সংবেদনশীল কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যাওয়ায় আখেরে তা বিজেপির ভাবমূর্তিকেই ধাক্কা দিয়েছে বলে রিপোর্টে জমা পড়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর তাই, সূত্রের খবর – বঙ্গ-বিজেপিতে হতে চলেছে ‘শুদ্ধিকরণ’, লালকৃষ্ণ আডবানীকে উদাহরণ হিসাবে সামনে রেখে, খুব সম্ভবত ‘কেলেঙ্কারিতে’ নাম জড়ানো নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হবে – আগে পদত্যাগ করে নিজেদের নির্দোষ প্রমান করুন, তারপর সসম্মানে দলে ফিরে আসুন। দলের স্বার্থেই এই মুহূর্তে গায়ে দাগ লাগা কোনো নেতাকে আর সামনে রাখতে চাইছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব। কেননা, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আক্রমণের অভিমুখ হতে চলেছে বর্তমান শাসকদলের ‘দুর্নীতি’ – কিন্তু সাধারণ মানুষকে সেই ‘দুর্নীতির’ কথা যদি নিজেই দুর্নীতিতে বা কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো কোনো নেতা বলতে যান – তাহলে সাধারণ মানুষ কিছুতেই তা গ্রহণ করবে না। আর তাই, আপাতত ক্ষমতার বলয় থেকে সড়ে যেতে হতে পারে একঝাঁক শীর্ষনেতাকে!

তাহলে বঙ্গ-বিজেপির হাল ধরবেন কে? সূত্রের খবর, এই নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা উঁকি মারছে আর সেইসব সম্ভাবনা নিয়ে দিল্লিতে ঘনঘন বৈঠকে বসছেন খোদ অমিত শাহ এবং সঙ্ঘের এক প্রভাবশালী নেতা। এখনো পর্যন্ত যে যুক্তিটি সবথেকে জোরালোভাবে উঁকি মারছে তা হল – বঙ্গ-বিজেপির ‘ডিসিশন-মেকিং’ এর ক্ষমতা সবটাই নিজেদের হাতে নিতে চলেছে সঙ্ঘ নিজে। কেননা শাসকদলের সাম্প্রতিক কিছু বিবৃতিতে যেভাবে সঙ্ঘকে অহেতুক ‘ছোট’ করার চেষ্টা হয়েছে তা মোটেই ভালোভাবে নেয় নি সঙ্ঘ-পরিবার। শাসকদলকে তাই পাল্টা দিতে সম্মুখসমরে যাওয়ায় শ্রেয় বলে মনে করছেন সঙ্ঘের নেতারা। তবে, সঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নিলেও – বঙ্গের রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন পরিচালনা করবেন সম্ভবত এক এতদিন দলে কার্যত কোনঠাসা হয়ে থাকা এক দাপুটে নেতা। তাঁর রাজনৈতিক ‘প্রজ্ঞার’ উপরেই ভরসা রাখবেন সঙ্ঘের নেতারা। আর তাই সবমিলিয়ে, বঙ্গ-বিজেপির অন্দরে তীব্র জল্পনা – খুব শীঘ্রই ক্ষমতার ‘ভরকেন্দ্রের’ বদল হতে চলেছে গেরুয়া শিবিরে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!