এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রীর চীন সফর বাতিল আসলে কি কেন্দ্রের চাল? রাজনৈতিক জল্পনা চরমে

মুখ্যমন্ত্রীর চীন সফর বাতিল আসলে কি কেন্দ্রের চাল? রাজনৈতিক জল্পনা চরমে



একদা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় নরেন্দ্র মোদিকে চীন সফরে পাঠানোর ব্যাপারে সঠিক ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের বিদেশমন্ত্রককে। কার্যক্ষেত্রে এটা ২০১৮ সাল – ইউপিএ সরকারের বদলে এখন কেন্দ্রে এনডিএ সরকার, আর প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সরকার বদলালেও মন্ত্রক তো একই আছে। অনেকেরই প্রশ্ন ইউপিএ সরকারের মতো কেন্দ্রের বর্তমান সরকারের বিদেশমন্ত্রক কি মমতার এই চিন সফরের ব্যাপারে অতি তৎপর ছিল? নাকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত এই সফরকে ‘মূল্যহীন’ করে দেয় হল? নবান্নের দাবি, বিদেশ মন্ত্রকের প্রস্তাবে সায় দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিন যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দুই দেশের কূটনৈতিক বিনিময় কর্মসূচির এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী নিজের রাজ্যের শিল্প টানার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্তরের নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনা করার আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অনেকে মনে করছেন কেন্দ্রের বিদেশমন্ত্রক পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তৎপরতা ছিল না বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের ব্যাপারে।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কেননা এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সফলভাবে চীন-সফর করে এলে তা পরবর্তীতে রাজনৈতিক ভাবে অসুবিধায় ফেলতেই পারত কেন্দ্র সরকারকে। এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন নরেন্দ্র মোদী যখন চীন-সফর করেছিলেন তখন তিনি ছিলেন শুধুই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও স্বঘোষিত নরেন্দ্র মোদী বিরোধী, এমনকি আর এক বছরের মধ্যেই হতে চলা লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে সড়াতে বিরোধী বৃহত্তর জোটের নেতৃত্ত্বও দিচ্ছেন। অর্থাৎ ২০১১-এর মোদীর চীন-সফর ও ২০১৮-এর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চীন-সফরের মধ্যে রাজনৈতিক তাৎপর্যগত ব্যবধান সুবিশাল। এমনিতেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমোহিনী ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাংলার সীমানা পেরিয়ে পড়শী রাজ্যগুলি তো বটেই, দেশের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। এমত অবস্থায় সফল চীন-সফর মানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজের ক্যারিশমা সুপ্রতিষ্ঠিত করে ফেলবেন – যা ২০১৯-এর আগে গেরুয়া শিবিরের কাছে যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। আর তাই রীতিমত পরিকল্পনা করে তৃণমূল নেত্রীর এই চীন সফরকে ভেস্তে দেওয়া হল – শাসকদলের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই যুক্তি, এমনকি জল্পনা প্রবল যে – স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী বিশ্বাস করেন কেন্দ্রের এই রাজনীতি কুট-চালের সম্ভাবনা। সামনেই ২০১৯-এর কঠিন লড়াই আর সেই লড়াইয়ে কোনো এক রাহুল গান্ধীর থেকে মোদী-শাহ জুটির বেশি মাথাব্যথার কারণ বাংলার অগ্নিকন্যা – শেষমুহূর্তে তাঁর চীন-সফর বাতিলে এই বার্তায় পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল বলে ধারণ শাসকদলের শীর্ষনেতৃত্ত্বের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!