এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মুকুল রায়ের যোগদানের পরেও বিজেপির অন্দরে হঠাৎ করে ‘অধীর লাও’ গুঞ্জন কেন?

মুকুল রায়ের যোগদানের পরেও বিজেপির অন্দরে হঠাৎ করে ‘অধীর লাও’ গুঞ্জন কেন?



মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পরেই হঠাৎ করে বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে দলে নেওয়ার জন্য উৎকন্ঠা বেড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিজেপি কর্মী-সমর্থকের এই নিয়ে পোস্ট দেখা যাচ্ছে। যদিও অধীরবাবু বারবার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কংগ্রেসেই খুশি বিজেপিতে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। তবুও যেন তাঁর জন্য একটা আসন বিজেপি কর্মীদের মনে তৈরি হয়ে গেছে। এই নিয়ে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলি, জানার চেষ্টা করি অধীরবাবু যেখানে নিজে বলেছেন তিনি আসতে চান না তারপরেও এই নিয়ে কেন গুঞ্জন উঠছে? বিশেষ করে মুকুলবাবুর মত বড় নেতা যেখানে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে সদ্য যোগ দিয়েছেন, সেখানে এই আকুতি কি দৃষ্টিকটু নয়? নাকি মুকুল বাবুর উপর সেইভাবে আস্থা পাচ্ছেন না সাধারণ বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা?
সেখানে বিভিন্নজনের উত্তর পেয়ে আমাদের যা মনে হয়েছে, অধীরবাবুর জন্য আকুতি তৈরি হয়েছে ‘মুখের’ জন্য। মুকুলবাবু আসলে সাংগঠনিক নেতা, তৃণমূলেও তিনি একই কাজ করেছেন, ঘরে বসে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করাই তাঁর প্রধান কাজ। সংগঠনের দুর্বলতা কোথায় আছে, সেই দুর্বলতা ঢাকতে নিজের দলের কোন নেতার বদলে অন্য কোন নেতাকে সেই দায়িত্ত্ব দিলে কাজ হাসিল হবে বা অন্য দল থেকে অন্য কোন নেতাকে সেই কাজের জন্য নিয়ে আসতে হবে, সেই কাজে তিনি সিদ্ধহস্ত।কিন্তু তিনি জননেতা নন, একা মিটিং ডেকে লক্ষ লক্ষ লোক জোগাড় করে গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে রাজ্য রাজনীতির মোর ঘুরিয়ে তিনি তৃণমূলে থাকাকালীন কোনো দিন করে দেখাননি। এই কাজের জন্য তিনি পেয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বঘোষিত যেকজন বিরোধী রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে আছেন অধীর চৌধুরী তাঁদের মধ্যে একদম প্রথম সারিতে থাকবেন। অধীরবাবুর নিজস্ব একটা ‘ফলোয়ার’ আছে, তিনি এখনো লক্ষ লোকের সমাবেশ নিজের ‘ক্যারিশমা’ তে করতে পারেন। আর তাই মুকুল রায়ের প্রতি অনাস্থা নয়, বরং মুকুল রায়ের ‘প্ল্যানের’ পরিপূরক হিসাবে অধীর বাবুকে বিজেপিতে চাওয়াটা বিজেপি সমর্থকদের কাছে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠছে। বিশেষকরে যেখানে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ কাছাকাছি আসছে, সেক্ষেত্রে যতই মনের মধ্যে বিরোধিতা থাকুক অধীরবাবুকে দলীয় লাইন মেনে উচ্চগ্রামের মমতা-বিরোধিতা থেকে সরে আসতে হবে আর তাই দুইয়ে দুইয়ে চার করে সাধারণ সমর্থকদের এই চাওয়া মোটেই ফেলনা নয়। এখন দেখার এই সম্ভাবনা আদৌ কোনোদিন দিনের আলো দেখতে পায় কিনা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!