এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > ভোটে হেরেছেন একাধিক হেভিওয়েট! বিধান পরিষদ গড়ে তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু মমতার?

ভোটে হেরেছেন একাধিক হেভিওয়েট! বিধান পরিষদ গড়ে তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু মমতার?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যেদিন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়, সেদিন অনেক হেভিওয়েটকেই প্রার্থী করতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরেই তিনি বলেছিলেন, যাদের প্রার্থী করার ইচ্ছা থাকলেও, করা সম্ভব হয়নি, তাদেরকে তিনি বিধান পরিষদ গঠন করে পরবর্তীতে জায়গা দেবেন। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

যাদেরকে প্রার্থী করা সম্ভব হয়নি, তাদেরকে জায়গা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে যেমন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনই বেশকিছু হেভিওয়েট মন্ত্রী এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। ফলে তাদেরকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধান পরিষদ গঠন করে জায়গা দিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি এই বিধান পরিষদ গঠন করা সম্ভব! কী ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী? এখন তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ সূত্র মারফত খবর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ পূর্ণেন্দু বসু দের এই বিধান পরিষদ গঠন করে বিধানসভার সদস্য করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধানের 169 নম্বর ধারা অনুযায়ী যে কোনো রাজ্যে বিধান পরিষদ গঠন করতে পারে সেই রাজ্যের সরকার। কিন্তু কি কাজে বিধান পরিষদের? একাংশ বলছেন, এই বিধান পরিষদ অনেকটা সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার মত। ইতিমধ্যেই ভারতবর্ষের 6 টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। মূলত যেখানে রাজ্য সরকার এক তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে ক্ষমতায় আসে, সেখানে বিধান পরিষদ গঠন করা যায়।

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে 2011 সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছা ছিল, এই বিধান পরিষদ গঠন করা। কিন্তু তখন সম্ভব হয়নি। তবে 2021 সালে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিন তিনি এই বিধান পরিষদ গঠন করার কথা জানিয়েছিলেন।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর পরাজয় সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে টিকিট না দেওয়ার কারণে বিধান পরিষদের মধ্যে দিয়ে তাদের আবার জায়গা দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই কারণেই এবার বিধান পরিষদের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী থেকে শুরু করে যাদের টিকিট দেওয়া হয়নি, তাদের ভাগ্যে শিকে ছিড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিধান পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃনমূলের ইচ্ছা থাকলেও, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধান পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ভূমিকা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী যদি রাজ্য সরকারের বিধান পরিষদ গঠন করে, তাহলে তাদের কেন্দ্রীয় সরকার বা রাস্ট্রপতির সম্মতি নিতে হবে। সেদিক থেকে বাংলা দখলের স্বপ্ন থাকলেও যেভাবে তাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রের শাসকদল, তাতে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল কংগ্রেসের ইচ্ছাকে তারা কতটা প্রাধান্য দেবে, তা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন রয়েছে।

স্বভাবতই গোটা ঘটনা নিয়ে আশা যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনই আশঙ্কা গ্রাস করেছে শাসক দলের একাংশের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিধান পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে কি সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাতে রাজ্যের কোন কোন শাসকদলের নেতা এবং হেভিওয়েট প্রাক্তন মন্ত্রীদের ভাগ্য খোলে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!