এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > তৃণমূলের লোকসভা হলেও বিজেপির টার্গেট বিধানসভা! 24 বনাম 26 এর লড়াই!

তৃণমূলের লোকসভা হলেও বিজেপির টার্গেট বিধানসভা! 24 বনাম 26 এর লড়াই!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  2021 এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার ধরে রাখা যেমন প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল, ঠিক তেমনই বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলার ক্ষমতায় আসীন হওয়া। কিন্তু বিজেপি তাদের চ্যালেঞ্জ রক্ষা করতে না পারলেও, বিধায়ক সংখ্যা 3 থেকে 77 করে নিয়েছে। প্রধান বিরোধী দলের জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে তৃতীয়বারের জন্য বিজেপির চ্যালেঞ্জকে কার্যত ফিকে করে দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আর বাংলার ক্ষমতা দখল করার পরেই এবার সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজেদের বিস্তার ঘটানো এবং আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী মহাজোট তৈরি করে কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে সরানো যে তাদের প্রধান লক্ষ্য, তা একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশের ভার্চুয়াল মঞ্চ থেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে দিল্লি দখলের বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই পাল্টা তার প্রধান প্রতিপক্ষ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হুংকার ছাড়ছেন বাংলার বিধানসভা দখলের জন্য।

এক্ষেত্রে বহু আশা করে বাংলার বিজেপি কর্মীরা 2021 এ ক্ষমতা দখলের কথা অনুভব করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা দখল করতে না পারার কারণে এখন অনেকেই মুষড়ে পড়েছেন। তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার যে কিছুই নেই, তাদের যে টার্গেট আগামী 2026 সালে বাংলার ক্ষমতা দখল করা, তা তৃণমূলের শহীদ দিবসের দিনেই পাল্টা শহীদ দিবসের কর্মসূচি থেকে জানিয়ে দিলেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিপক্ষ বলে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূলের টার্গেট যখন 2024, তখন বিজেপির টার্গেট যে 2026, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই 24/26 লড়াইয়ে কে কোথায় কতটা দাগ কাটতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলকে সাংগঠনিকভাবে নতুন রূপ দিতে চলেছেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তরুণ তুর্কি মুখদের সামনে এনে বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়ে আগামী দিনে যাতে জাতীয় ক্ষেত্রে দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়, সেই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বারবার বিজেপি বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সময় নষ্ট না করে এখন থেকেই মহাজোট গঠনের দিকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এমনকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলেও, তার যে এখন বাড়তি নজর থাকবে দিল্লি এবং গোটা দেশের দিকে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে বিজেপির নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লির জার্নিকে বাধা দিতে বাংলায় রেখে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকে। তাই কথায় কথায় শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আর তৃণমূলের প্রাক্তন সতীর্থ এবার একুশে জুলাইয়ের দিনে পাল্টা বাজিমাত করতে বিজেপির যে সমস্ত নেতা কর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মরণ করে শহীদ সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন‌।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর সেই শহীদ সমাবেশ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন বিজেপিকে তুলোধোনা করে দিল্লি দখলের বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিজেপির রাজ্য দপ্তর থেকে শহীদদের স্মরণ করে 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচন যে তাদের কাছে প্রধান টার্গেট, তা বুঝিয়ে দিবেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি বলেন, “আমরা জিতব, জিতবই। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একজন পরাজিত ব্যক্তি তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আর যিনি তাকে হারিয়েছেন, তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।”

অর্থাৎ নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও, শুভেন্দু অধিকারী প্রতি সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে তার কাছে পরাজিত হয়েছেন, সেই কথা তুলে ধরে তৃণমূলের সর্বাধিনায়িকাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন। আর একুশে জুলাইয়ে বিজেপির শহীদ সমাবেশ থেকে সেই কথা তুলে ধরে আগামী দিনে যে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা সম্ভব হবে, তা দলের নেতা কর্মীদের বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন নন্দীগ্রামের বিজেপির বিধায়ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ আলাদা। 2024 এ লোকসভা নির্বাচন, 2026 বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তবে একটি নির্বাচনের ফলাফল থেকেই অপর নির্বাচনে কি হতে চলেছে, তা সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেদিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত পরিকল্পনা গ্রহন করে নিয়েছে, এবার তাদের টার্গেট কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা। 2019 এ চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

তবে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিরোধী নেতাদের অবিলম্বে মহাজোট গঠনের বার্তা দিয়েছেন। তাই মহাজোট গঠন কতটা কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে, তা অবশ্যই লক্ষণীয় বিষয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাংলার ক্ষমতা দখল করার পর দিল্লির ক্ষমতা দখলে উদ্যোগী, তখন বাংলার দিকেই বেশি মনোযোগী হতে চাইছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে 24 এ দিল্লি দখল এবং 26 এ নবান্ন দখলের লড়াইয়ে টার্গেট বেঁধে দেওয়া নেতা-নেত্রীদের মধ্যে কে শেষ হাসি হাসে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!