এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > তৃণমূলের হামলার মুখে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বিজেপি কর্মীর মা, শোরগোল রাজ্য জুড়ে

তৃণমূলের হামলার মুখে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বিজেপি কর্মীর মা, শোরগোল রাজ্য জুড়ে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –সদ্য সমাপ্ত হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে যে দলকেই সমর্থন করুন না কেন, সকলেই আশা করেন, রাজ্যে শান্তির পরিবেশ অটুট থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে শান্তি তো দূরের কথা, বিভিন্ন জায়গায় হিংসা এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ রীতিমত আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেছে বেছে বিরোধী দল অর্থাৎ বিজেপির নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। তবে এবার অমানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। চোখের সামনে বিজেপি কর্মী তথা নিজের ছেলের ওপর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু হল এক মায়ের। যে ঘটনাকে হাতিয়ার করে এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বারাসাত পৌরসভার 4 নম্বর ওয়ার্ডের গীতাঞ্জলি পল্লীর বাসিন্দা বিজেপি কর্মী কৃষ্ণ মল্লিকের বাড়িতে হামলা করা হয়। আর সেই সময়ে ছেলের ওপর হামলা হচ্ছে দেখে ছুটে আসেন কৃষ্ণবাবুর মা জোসনাদেবী। এদিকে চোখের সামনে ছেলের ওপর হামলার ঘটনা দেখে সহ্য করতে না পেরে রীতিমত অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার রাতে জ্যোৎস্না মল্লিক মৃত্যুবরণ করেন। ছেলেকে হামলা করতে গিয়ে একজন মাকে যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল, সেই ঘটনা যে যথেষ্ট অমানবিক, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন সকলেই।

তবে তৃণমূলের কারণেই একজন মায়ের এইভাবে মৃত্যু হল বলে অভিযোগ করতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। স্বাভাবিক ভাবেই গোটা ঘটনায় অস্বস্তি বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের। ইতিমধ্যেই এই গোটা বিষয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির তরজা চরম আকার ধারণ করেছে। এদিন এই প্রসঙ্গে বারাসাত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের সর্বত্র সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এই সন্ত্রাস করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর। তৃণমূলের অত্যাচারে আমাদের এক কর্মী তার মাকে হারিয়েছে।”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

যদিও বা সেই ঘটনাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে বারাসাত শহর তৃণমূল সভাপতি অশনি মুখোপাধ্যায় বলেন, “জ্যোৎস্না মল্লিক বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য টোটো থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থা তৃণমূল কর্মীরাই করে দিয়েছিল। স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাতেও রাজনীতির রং লাগাচ্ছে বিজেপি।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদি এই গোটা ঘটনার পেছনে হামলা এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ দায়ী হয়, তাহলে সত্যিই তা দুর্ভাগ্যজনক। মা এবং সন্তানের মধ্যে রাজনৈতিক বেড়াজাল নেই। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসার কারণে যদি এক মা চোখের সামনে সন্তানকে আক্রান্ত হতে দেখেন, তাহলে তার জীবন চলে গেলেও তিনি যে সন্তানকে বাচাঁনোর জন্য প্রাণপাত করবেন, তা বলাই যায়।

এক্ষেত্রে বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের ছেলেকে আক্রান্ত হতে দেখে আর ঠিক থাকতে পারেননি জ্যোৎস্না মল্লিক। তাই আতঙ্ক এবং ছেলেকে বাঁচানোর তারণায় শেষ পর্যন্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। তবে দিনাজপুর থেকে শুরু করে কোচবিহার, ভোট-পরবর্তী বাংলায় যেভাবে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে, তাতে অবিলম্বে যদি তা বন্ধ করা না যায়, তাহলে বাংলা যে বড়সড় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকবে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!