এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > কংগ্রেস > তৃণমূল ছেড়ে অন্যদলের উন্নয়নের নৌকায় উঠে চূড়ান্ত ভরাডুবি! চাপে পরে পদ ছাড়ছেন হেভিওয়েট নেতা?

তৃণমূল ছেড়ে অন্যদলের উন্নয়নের নৌকায় উঠে চূড়ান্ত ভরাডুবি! চাপে পরে পদ ছাড়ছেন হেভিওয়েট নেতা?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – একসময় তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন তিনি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করার পরেই তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়। একাংশ দাবি করেন, তিনি খুব তাড়াতাড়ি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করবেন। কিন্তু তেমনটা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করার পর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন যোগ দেন কংগ্রেসে।

এমনকি মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে দেখা যায় তাকে। তবে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়ে যান তিনি। অর্থাৎ শাসক শিবির ছেড়ে বিরোধী শিবিরে নাম লেখানোর পরেও নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জানান দিতে চেয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হওয়ার কারণে এখন রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছেন তিনি।

এদিকে মোশারফ হোসেন কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়ে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার পরে তাকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে রীতিমত তৎপরতা পালন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসার আগেই এবার মুখ বাঁচাতে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সেই মোশারফ হোসেন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বস্তুত, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আবু তাহের খান জানিয়ে দেন, আগামী 24 তারিখ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে। কিন্তু সেই ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন মোশারফ হোসেন। একাংশ বলছেন, মোশারফ হোসেন খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছিলেন, তার পক্ষে সভাধিপতি পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

তাই শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাকে সরানোর কথা এবং অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা জানিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই পাল্টা কৌশল গ্রহণ করতে দেখা গেল তাকে। যেখানে সরাসরি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়ে নিজের মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করলেন কিছুদিন আগেই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার এই হেভিওয়েট নেতা বলে মনে করছেন একাংশ।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে মোশারফ হোসেন বলেন, “মানুষের রায় মাথা পেতে নিতে হবে। মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেস অনেকটাই রাজনৈতিক জমি হারিয়েছে। সেই বাস্তবের কথা মাথায় রেখে আমার জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ ধরে রাখা উচিত নয় বলেই মনে করি। তাই আমি পদত্যাগপত্র বুধবার পাঠিয়ে দিয়েছি।”

তবে অনেকে আবার বলছেন, শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করার পর তার ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেন মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তারপর মনে করা হয়েছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন। কিন্তু সেই রাস্তায় না হেঁটে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়েছিলেন। আর বর্তমান সময় যখন কংগ্রেসের টিকিটের দারিও জয়লাভ করতে পারলেন না মোশারফ হোসেন, তখন তাকে সভাধিপতির পদ থেকে সরাতে কার্যত তৎপরতা গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস।

তাই এই পরিস্থিতিতে নিজের প্রাক্তন দলের প্রতি সুর নরম করে সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পরোক্ষে কি তৃণমূল কংগ্রেসের ফেরার রাস্তা তৈরি করতে চাইলেন মোশারফ হোসেন এখন তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!