এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > তৃণমূলে যোগ দিয়েই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ মুকুলের, সরগরম রাজ্য-রাজনীতি!

তৃণমূলে যোগ দিয়েই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ মুকুলের, সরগরম রাজ্য-রাজনীতি!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  2017 সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। আর 2020 সালের ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারী‌। আর তারপর থেকেই তৃনমূল কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন সৈনিক বিজেপিতে চলে আসায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দলের পক্ষে তৃতীয় বার রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা সম্ভব হবে না বলে কার্যত নিশ্চিত ছিল বিজেপি নেতা কর্মীদের একাংশ। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে বিরোধী দল ভেঙে খানখান করে দিয়েছিলেন এই মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।

ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে থাকা দুই অন্যতম কারীগর বিজেপিতে চলে আসায় তৃণমূলকে যে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে। আর এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদান করার পর থেকেই ক্রমশ তার পাল্লা ভারী হতে থাকে। এদিকে লোকসভা নির্বাচনে মুকুল রায়কে বিজেপি কাজে লাগালেও বিধানসভা নির্বাচনে তাকে সেভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। যার ফলে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন মুকুল রায়।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি 77 টি আসন দখল করার পর সম্প্রতি মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এদিকে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুলবাবু তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্বাভাবিক ভাবেই এক সময় এক দলের ছাতার তলায় থাকা মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী এখন যে একে অপরের অন্যতম প্রতিপক্ষ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে মুকুল রায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে জব্দ করতে দল বিরোধী আইনের মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণনগরের উত্তরের বিধায়কের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী চেষ্টা চালালেও, এতদিন কিছুই বলেননি মুকুল রায়। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি। যেখানে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য।

প্রসঙ্গত, 2011 সালের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দিকে টানতে শুরু করে। যার ফলে সেই সময় এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় বাম এবং কংগ্রেসকে। কেন দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে বিধানসভার ভেতরে এবং বাইরে প্রশ্ন তোলে বাম এবং কংগ্রেস। কিন্তু সেই প্রশ্ন কার্যকর হয়নি।

একের পর এক বিধায়ক দলবদল করতে থাকলেও দলত্যাগ বিরোধী আইন লাগু না হওয়ার কারণে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধীদলের জায়গা দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।  বিরোধী দলনেতা হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে মুকুল রায় তৃণমূলে যোগদান করার পর থেকেই বিজেপির আরও বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করবে বলে জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু প্রথম দিন শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, তিনি দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করে দেখাবেন।

আর তারপর বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ আলোড়ন সৃষ্টি করে। আর এই পরিস্থিতিতে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে যাতে আর কেউ দলবদল করতে না পারেন, এবং তৃণমূল যাতে দল ভাঙ্গাতে না পারে, তার জন্য কাজ শুরু করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার অবশেষে বিধায়ক পদ ত্যাগ করা নিয়ে মুখ খুললেন মুকুল রায়।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, এদিন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুকুল রায় বলেন, “এখনই বিধায়ক পদ ত্যাগ করার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।” স্বভাবতই বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। সম্প্রতি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে মুকুল রায় যাতে বিধায়ক পদ ত্যাগ করেন, তার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

যেখানে তিনি জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে মুকুল রায়কে বিধায়ক পদ ত্যাগ করতে হবে। আর যদি তিনি তা না করেন, তাহলে বুধবার বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে তারা লিখিত আবেদন জানাবেন দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার জন্য। সেদিক থেকে খুব তাড়াতাড়ি শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এই দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার কথা বলে অধ্যক্ষকে চিঠি দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখনই দলবদল করলেও, তিনি যে বিধায়ক পদ ছাড়বেন না, তা স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক। স্বাভাবিক ভাবেই এক সময় এক দলে থাকলেও, এখন মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ ত্যাগ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে মুকুল রায়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ রীতিমত সরগরম করে তুলেছে রাজ্য রাজনীতিকে। তবে মুকুল রায়ের এই ধরনের বার্তা পাওয়ার পর কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!