এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাকে সরাতে মরিয়া দলেরই একাংশ! শিকেয় পরিষেবা, অচলাবস্থায় বাড়ছে ক্ষোভ

তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাকে সরাতে মরিয়া দলেরই একাংশ! শিকেয় পরিষেবা, অচলাবস্থায় বাড়ছে ক্ষোভ



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – আবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া শাসকদল তৃণমূলে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ ব্লকের পাটলি খাঁপুর পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদেরই। প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তাব এলো, যার ফলে কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে এই পঞ্চায়েতের। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন রকম পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে গেছে, এমনকি শংসাপত্র নিতে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষদের। পঞ্চায়েত প্রধান পঞ্চায়েতে আসাই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, হাসনাবাদ ব্লকের পাটলি খাঁপুর পঞ্চায়েতে ১৬ টি আসনের মধ্যে সমস্ত আসনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল গত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তৃণমূল নেত্রী পারুল গাজিকে পঞ্চায়েতের প্রধান করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, পঞ্চায়েত প্রধান পারুল গাজির পরিবর্তে তাঁর স্বামী রহিম গাজিই হলেন এই পঞ্চায়েতের প্রকৃত কার্যকর্তা। রহিম গাজির বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত সদস্যদের বহুদিনের বহু অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত আম্ফান ঝড়ের সময় এই এলাকার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সেসময় পঞ্চায়েত প্রধান উপযুক্ত পরিষেবা দিতে পারেননি বলে গ্রামবাসীদের এক বিরাট অংশের অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন পঞ্চায়েত সদস্যও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রধানের ভূমিকায়। এরপরই আমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। গ্রামের মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েতে এসে।

গ্রামের মানুষের এই বিক্ষোভের পর থেকেই পঞ্চায়েতে আনাগোনা যথেষ্টভাবে কমিয়ে দিয়েছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান পারুল গাজি ও তার স্বামী রহিম গাজি। এরপর গত ১৫ ই অক্টোবর এই পঞ্চায়েতের ১০ জন সদস্য পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, স্বজন পোষণের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন ব্লক প্রশাসনের কাছে। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের বহু সদস্যদের গুরুত্বহীন করে রাখা হয়েছে। তাঁদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিডিও অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানালেন যে, এখন অফিস বন্ধ রয়েছে, তাই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। পুজোর পরে অফিস খুললেই এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধান পারুল গাজির বিরুদ্ধে তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা সুনীল সিংহ জানালেন যে, পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামী পঞ্চায়েতের কাজ কর্ম পরিচালনায় একেবারেই অযোগ্য। সেইসঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজন পোষণ করছেন তারা। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত চালানোয় কোনরকম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না তারা। পঞ্চায়েত সদস্যদের কোন গুরুত্ব দেন না। পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তাঁর ইচ্ছামত পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন। একারণেই ব্লক প্রশাসনের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জানিয়েছেন তাঁরা। দ্রুত পঞ্চায়েত সচল করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে এই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অর্চনা মন্ডল জানালেন যে, তাঁর কাছেও শংসাপত্র দেওয়ার প্যাড প্রধান দেননি। ফলে শংসাপত্র নিতে এসে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর স্বামী পঞ্চায়েত অফিসে না আসার কারণে অচলাবস্থা চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। কোন দরকার হলে পঞ্চায়েত অফিস থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করতে হচ্ছে। তবে, অনেক সময় তাঁদের বাড়িতে গিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না তিনি অভিযোগ করেছেন। রাস্তার নালা নির্মাণ সহ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ স্তব্ধ হয়ে আছে এর ফলে।

তবে, এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান পারুল গাজির স্বামী রহিম গাজি দাবি করেছেন যে, পঞ্চায়েতের কোন কাজই থমকে নেই। তাঁর স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ আছেন, তাই পঞ্চায়েতে যেতে পারছেন না তিনি। কিন্তু তাঁর বাড়িতে গেলেই শংসাপত্র করে দেয়া হচ্ছে। তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেছেন। পঞ্চায়েত সদস্যরা যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানালেন।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির জনৈক তৃণমূল নেতা আনন্দ সরকার জানালেন, ” দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করছি আমরা। যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে পঞ্চায়েত চলে, তা দেখা হচ্ছে।’’ এভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শাসকদল তৃণমূলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তথা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। যার ফলে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক দলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!