এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা ব্যানার্জ্জী শীতলকুচির ঘটনার দায় চাপালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর, তীব্র চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে

তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা ব্যানার্জ্জী শীতলকুচির ঘটনার দায় চাপালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর, তীব্র চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – নির্বাচনের চতুর্থ পর্বে মাথাভাঙ্গার শীতলকুচিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আজকে ছিল চতুর্থ দফার নির্বাচন এবং এদিন নির্বাচনের সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে চারজন তৃণমূল কর্মী মারা যায় বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেয় রাজ্যের শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা। কিন্তু পাল্টা কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে অভিযোগ করা হয়, তাঁদেরকে ঘিরে ধরা হয়েছিল এবং বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাই তাঁরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে বিরোধীরা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগ তুলেছে যে প্ররোচনামূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আজকের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষারোপ করে তৃণমূল নেত্রী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিজেপি রাজ্য কব্জা করতে পারবে না জেনেই ভয় দেখিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে। পাশাপাশি তিনি জানান, এই ঘটনা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। একইসাথে এদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একাসনে বসিয়ে চূড়ান্ত আক্রমণ চালিয়েছেন। এদিন ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সমস্ত সমস্ত পূর্ব কর্মসূচি বাতিল করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উড়ে গেছেন শিলিগুড়িতে।

এবং শিলিগুড়িতে পৌঁছে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করেন জানিয়েছেন, আদর্শ আচরণবিধি চলার জন্য তিনি মাথাভাঙ্গা যেতে পারছেন না। কিন্তু আগামীকাল তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাবেন। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাংলার মানুষকে সিআরপিএফকে ঘেরাও করার কথা বলেছিলেন। সেই উস্কানিমূলক কথার জন্যই আজকের মাথাভাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেউ আক্রমণ করেনি। যদি সেরকম কিছু হতো, তাহলে ভিডিও ফুটেজ অবশ্যই কারোর না কারোর কাছে পাওয়া যেত। পরিকল্পনা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি করা হয়েছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

একই সাথে তিনি জানান, এই ঘটনার সিআইডি তদন্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বসহকারে এই ঘটনার সিআইডি তদন্ত চালাবেন। পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী এই ঘটনার জন্য বারবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই দায়ী করেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, যারা এলাকা চেনেনা এমন পুলিশ অফিসারদের জেলার দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে এবং অবসর নেওয়া পুলিশ অফিসার বিবেক গুপ্তাকে কেন বার বার রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, আজকে নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক গুপ্তা রিপোর্ট দেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্দুক কেড়ে নিতে আসছিল বলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছে।

একই সাথে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির শিলিগুড়িতে থাকা সত্বেও কেন ঘটনার পর মাথাভাঙায় যাননি। এবং সেইসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর কাছে আহবান জানিয়েছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে এক একটি ভোট যেন পড়ে তৃণমূলের হয়ে। সব মিলিয়ে ভোটযুদ্ধে যেভাবে রক্ত ঝরছে, তা নিয়ে চূড়ান্ত উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভোট যাবে, ভোট আসবে, কিন্তু মানুষের জীবন যদি এভাবে চলে যায় তাহলে সেই ভোটের সফলতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকবে। শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে আগামীদিনে যে বিতর্ক আরও বাড়বে তা বলাইবাহুল্য। এখনও রাজ্যে বাকি আরো চারটি ভোট। এখন দেখার, আজকের ঘটনা কার কাছে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে!

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!