এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা নন, মমতার হয়ে রাজ্য চালাচ্ছেন এই ৪ মহারথীই? নতুন তথ্যে তীব্র জল্পনা

তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা নন, মমতার হয়ে রাজ্য চালাচ্ছেন এই ৪ মহারথীই? নতুন তথ্যে তীব্র জল্পনা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সামনেই আসছে একুশের বিধানসভা নির্বাচন, আর তাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা চরমে। অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসন চালাতে হবে নিয়মমাফিক। অতএব রাজ্য চালাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি নির্ভর করছেন বিশেষ কোনো আমলাদের ওপর? প্রকাশ্যে আসছে এরকমই খবর। আর এই নিয়েই প্রশাসনের অন্দরে এবং বিরোধী মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। একুশের বিধানসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারোর। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মসনদ দখল রাখতে তৎপর হয়েছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক কাজকর্ম নাকি দল- কোন দিকে তিনি যাবেন তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ভোট কৌঁশলী প্রশান্ত কিশোরের ওপরই নির্ভর করছেন, ঠিক একইভাবে রাজ্য প্রশাসনের ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রীর ভরসা একদল অবসরপ্রাপ্ত আমলা। সম্প্রতি মুখ্য সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন রাজীব সিনহা। কিন্তু অবসর গ্রহণের পরেই তিনি রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সেপ্টেম্বরের শেষে ওয়েস্টবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন। যার ফলে অবসর গ্রহণ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে গেছেন আবারও।

অন্যদিকে তিনি এমন একটি সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন যেখানে আরো বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা রয়েছেন, যারা আড়ালে থেকে রাজ্য চালানোর ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন সুকৌশলে। এর আগেও অবসরের পর তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিভিন্ন পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। সেই তিনজন হলেন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিসে থাকা গৌতম সান্যাল, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ এবং রিনা মিত্র। সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন রাজীব সিনহা। এই চার প্রাক্তন আমলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক হাল ধরে রেখেছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

প্রসঙ্গত এই চারজনের মধ্যে গৌতম সান্যাল মুখ্যমন্ত্রীর সবথেকে কাছের জন বলে মনে করা হয়। 2011 সালে তিনি অবসর নিলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিজের সহায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন। পরে গৌতম সান্যাল মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিয়েট পদে নিযুক্ত হন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ওই পদেই আসীন রয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজে সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ প্রশাসনে রয়েছেন নবনির্মিত স্টেট সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার বা রাজ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে। গতবছর রিনা মিত্র রাজ্য পুলিশের থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তারপরেই তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ক্ষেত্রে মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন সরাসরি।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে জানা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যবস্থাপনায় কিন্তু কর্মরত অন্যান্য আমলারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ নিয়ে শাসকদলের এক মন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, সরকার কোন ভুল কাজ করছেনা। অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ। যদিও অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের জন্য বিশেষ পদ তৈরি করার ক্ষেত্রে কোন আইন নেই। তাই এই বিষয়টিকে কোনমতেই আইন বহির্ভূত বলা যাবে না। তার থেকেও বড় কথা হল, সাধারণত প্রশাসনিক বিষয়ে এই আমলাদের ওপরেই নির্ভর করে রয়েছেন রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এবং এই ব্যবস্থার ফলে অন্যান্য নিষ্ঠাবান এবং সৎ আমলাদের সম্মানে আঘাত করা হচ্ছে বলে দাবী অনেকেরই।

সম্প্রতি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর সম্প্রতি কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় এতগুলি দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মুখ্য উপদেষ্টা বা রাজ্য নিরাপত্তা উপদেষ্টা রয়েছেন, তা সত্ত্বেও রাজ্যে আল-কায়েদা জঙ্গীগোষ্ঠীর প্রসার লাভ কিভাবে করল? কৈলাস বিজয়বর্গীয়ও সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

একই ভাবে তাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মিলিয়ে ঘরে বাইরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু যথেষ্ট চাপের মুখে। প্রসঙ্গত, রাজ্য চালানোর ব্যাপারে কিছু নির্দিষ্ট আমলাদের কার্যক্ষমতা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনাও হচ্ছে প্রশাসনের অন্দরে বলে খবর। তবে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ নিক্ষেপ করেছেন। তাই আপাতত রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বভার যে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এই চার আমলার হাতেই থাকবে তা বলাইবাহুল্য।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!