এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নতুন করে সামনে এল ‘ত্রিফলা-বিতর্ক’, মামলার জটে নাজেহাল পুরসভা কর্তৃপক্ষ

নতুন করে সামনে এল ‘ত্রিফলা-বিতর্ক’, মামলার জটে নাজেহাল পুরসভা কর্তৃপক্ষ



ত্রিফলার আলোকে শহর সেজে উঠলেও এই আলোর আর্বতের বাইরে অনেক অন্ধকার দিক রয়ে গেছে । উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শহরে প্রায় ২০ হাজার এমন আলোকস্তম্ভ বসানো হয়েছিলও। যার মধ্যে বেশিরভাগই উপসযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিকল হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় এই কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারেরা তাদের চুক্তি মতন কাজ করলেও এখনও অবধি পুরো অর্থ না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের স্মরনাপন্ন হয়েছেন। সেই মামলার রায়রে অপেক্ষা রয়েছেন এই গোটা কর্মসূচীতে নিয়োজিত আরও অন্তত ২০০ ঠিকাদার। অভিযোগ, পুরসভার নির্দেশ মেনে কাজ সম্পন্ন করা সত্ত্বেও পাওনা টাকার অন্তত ৩৫ শতাংশ আজও দেওয়া হয়নি। পুরসভা এক দফা হলফনামা দেওয়ার পরেও হাইকোর্ট বিষয়টিতে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আগামী ৩০ শে জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ রাজ্যের সরকার পরিবর্তনের পরেই কলকাতার ফুটপাতে ২০১১ সাল থেকে ত্রিফলা আলো লাগানো শুরু হয়। বিতর্কের সূত্রপাত হয় ঠিক এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে। অভিযোগ তৎকালীন পুর কমিশনার ঠিকাদারদের কাজের বিল পাস করতে অসম্মত হন। তিনি প্রধানত চারটি কারণে বিষয়টির তদন্ত করাতে চান। প্রথমত, কেন এজন্য টেন্ডার ডাকা হয়নি? দ্বিতীয়তঃ, কেন পুরআইন এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি? তৃতীয়তঃ, কেন এজন্য প্রায় ৫৪০টি ফাইল খোলা হল? যেখানে প্রতিটি ফাইলে কাজ বরাদ্দের পরিমাণ পাঁচ লক্ষ টাকার কম। চতুর্থতঃ, কেন প্রতিটি আলোর জন্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা দাম ঠিক করা হল? দাম সংক্রান্ত বিতর্কের কারণ হল, পুরসভার নিজস্ব কারখানায় (ওয়ার্কশপ) তখন একটি আলোকস্তম্ভ বানাতে খরচ পড়েছিল ৩১৫০ টাকা।

এমনকী পুর-কারখানা থেকে প্রথম দফার আলো লাগানোর সময় প্রায় ৫০০ টি স্তম্ভ সরবরাহও করা হয়েছিল পুরসভার ইলেকট্রিক বিভাগকে। যদিও প্রথম দফাতেই রাস্তায় প্রায় ১৫ হাজার স্তম্ভ লাগানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এই বিতর্কের ফলে পুরসভার ঘরোয়া তদন্তে কয়েকজন আমলাকে চিহ্নিত করা হয়। এমনকী একজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পুর কমিশনার এসময় স্পেশাল অডিট ও চালু করেছিলেন। জানা যাচ্ছে এই সময়ে এমআইসি মেয়রের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। যেখানে বলা হয়, কাজ সম্পন্ন করে যে ঠিকাদাররা বিল পেশ করেছেন, তাঁদের মোট প্রাপ্য অর্থের ২৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, সব বিল অনুযায়ী মোট দেয় অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এরপরে ২০১৪ সালে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ রূপে শেষ হয়।

কিন্তু, ওই ২৫ শতাংশ টাকা না পেয়ে ঠিকাদাররা অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে। এবং একজোট হয়ে তাঁরা অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। সেই অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে একাধিকবার রাজ্য ও পুর প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। শেষে ওই অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্যই আদালতের স্মরণাপন্ন হয়। দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে শুধু ২৫ শতাংশ নয়, বিলে উল্লেখিত অর্থের আরও ১০ শতাংশ অর্থ তাঁরা পাননি। টিডিএস খাতে ২ শতাংশ এবং রিটেনশন মানি হিসেবে আরও ৮ শতাংশ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে সব কিছু হিসেব করে যদি এই মামলা সূত্রে ওই ঠিকাদারদের বকেয়া মেটাতে হয়, তাহলে পুরসভাকে অন্তত সাড়ে সাত কোটি টাকা দিতে হবে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!