এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শুধু সংখ্যালঘু ভোট নয়! এবারে নির্বাচন রাম ‘ভরসা’ বুঝেই কি ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল? বাড়ছে জল্পনা

শুধু সংখ্যালঘু ভোট নয়! এবারে নির্বাচন রাম ‘ভরসা’ বুঝেই কি ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল? বাড়ছে জল্পনা



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বারবার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের চরিতার্থতার কারণে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ এনেছে বিজেপি সহ রাজ্যের একাধিক বিরোধী নেতৃত্ব। শাসকদলকেও বারেবারে দেখা গেছে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগটির পাল্টা জবাব দিতে। তবে, কিছু হিন্দু সংগঠন ও রাজ্য বিজেপি গত বুধবার রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের দিনে রাজ্যের লকডাউন প্রত্যাহারের বারবার আর্জি জানায় রাজ্যের শাসকদলের কাছে।

কিন্তু, রাজ্য সরকার তাদের এই আর্জি প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ বাড়ায় বিরোধী নেতানেত্রীস সহ রামভক্তদের। কিন্তু এবার সকলকে অবাক করে দিয়ে গত বুধবার রাম পূজনের দিনে রাম ভজনে মুখর হলেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী। যা দেখে বিস্ময়-বিহ্বল অনেকেই। এদিন কার্যত রাম ভক্তিতে উচ্ছল কোচবিহার তৃণমূল কংগ্রেস।

রামচন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন কোচবিহারের কোন তৃণমূল নেতা লিখছেন “জয় জয় শ্রীরাম”, কেউ বা সেদিন বললেন, ” জয় শ্রীরাম”, আবার কারোর মুখে বলতে শোনা গেল, “রাম সবার”। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাম মন্দিরের ভূমি পূজনের দিনে কোচবিহারের বিজেপি নেতা-কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় “জয় শ্রীরাম” জয়ধ্বনির ঝড় তোলেন। আর এরপই রামভক্তির বান আসে জেলা তৃণমূলের অন্দরে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

কোচবিহার শহরের জনৈক যুব তৃণমূল নেতা রাকেশ চৌধুরী এ দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শ্রীরাম আমাদের সকলের মধ্যে আছে, তাই শ্রীরাম আমাদের সকলের। জয় জয় শ্রীরাম।” আর এখানেই শেষ নয়, বহু তৃণমূল কর্মীকে দিন লাইক ও কমেন্ট করতেও দেখা গেছে রাকেশ চৌধুরীর পোস্টে। ফেসবুকে নিজের এই পোস্ট সম্পকে পরদিন বৃহস্পতিবার রাকেশ চৌধুরী জানিয়েছেন, ” ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আমরা চাই না। রাম সবার, কারও একার নয়। সে কথাই লিখেছি। ধর্মীয় সহাবস্থান চাই।”

অন্যদিকে, কোচবিহার শহরের নিকটবর্তী চকচকা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের জনৈক নেতা বিকাশ সূত্রধর গত বুধবার ফেসবুকে লিখেছেন, “জয় হোক শ্রীরাম, তুমি কারও একক কুক্ষিগত নও, তুমি সকলের, রামকে রাজনৈতিক স্লোগানে আটকে না রেখে সকলের করা হোক। জয় শ্রীরাম।” আর রাকেশ বাবুর মতো বিকাশ বাবুর ফেসবুক পোস্টও ছেয়ে গেছে দলীয় কর্মীদের লাইকে ও কমেন্টে। প্রসঙ্গত, রাকেশ বাবু ও বিকাশ বাবু কোচবিহারের বহু তৃণমূল শীর্ষনেতার কাছের লোক বলে পরিচিত।

নিজের পোস্ট নিয়ে গত বুধবার বিকাশবাবু আরও লিখেছেন, “স্পষ্ট ভাবেই প্রতিবাদ করেছি ভগবান রামচন্দ্রকে কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টার বিরুদ্ধে।” প্রসঙ্গত, রামমন্দিরের ভূমিপূজনের দিনে রাজ্যবাসীকে ‘বিবিধের মাঝে মহামিলনের’ বার্তা শুনিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের পোস্টেও গত বুধবার দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার সুর।

পার্থপ্রতিম বাবু ফেসবুকে এদিন লিখেছেন, “বিবিধের মাঝে ঐক্য— এটাই মোদের ভারতবর্ষ। নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান/বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান।” সেই সঙ্গেই তিনি আরও লিখেছেন, ” প্রত্যেকেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতির প্রতিবাদ করেছেন।” তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের করা পোস্টের জবাবে কোচবিহার বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা লিখেছেন, “ধর্ম নিয়ে রাজনীতি তৃণমূলই করে। মানুষ তাই এখন কেউ আর তৃণমূলের সঙ্গে নেই।”

প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে কোচবিহার আসনটি তৃণমূল থেকে বিজেপির হাতে হস্তান্তরিত হয়। তার পর থেকে ভাঙ্গন ধরে যায় এই জেলার তৃণমূল সংগঠনে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ আনে বিজেপি। যার ফলে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে।

এমনটাই জেলা তৃণমূল সূত্র থেকে জানা গেছে।সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, হৃত সংখ্যাগুরু ভোটব্যাঙ্ক স্বপক্ষে টানতে এবার বিশেষ জোর দিয়েছে তৃণমূল। আর কারণেই তৃণমূলের এই রাম ভক্তি বলে ধারণা জেলার রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূল অবশ্য তা মানতে অস্বীকার করলেও, এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহলকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘আসলে তৃণমূলের অনেকেই বুঝেছেন, আগামী বিধানসভা ভোটে রাম ছাড়া গতি নেই।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!