এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের শুদ্ধিকরণ! এবার ভুয়ো ক্লাবের অস্তিত্ব নিয়ে তদন্তের দাবি! বোকা বানানো দাবি বিরোধীদের

তৃণমূলের শুদ্ধিকরণ! এবার ভুয়ো ক্লাবের অস্তিত্ব নিয়ে তদন্তের দাবি! বোকা বানানো দাবি বিরোধীদের



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে আরামবাগ তোলপাড় হয়ে ওঠে। লকডাউনের মুহূর্তে একটি ভুয়ো ক্লাব কি করে সরকারি অনুদান পেয়ে গেল, তা নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। সরকারের তরফে ক্লাবগুলোকে সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, যেভাবে আরামবাগের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে তারপর দুর্নীতির অভিযোগ করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। যার ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই ব্যাপারে দুর্নীতির নাগপাশ যাতে তাদের স্পর্শ করতে না পারে, তার জন্য প্রথম থেকেই তদন্তের দাবি করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল নেতাদের।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেভাবে কোনো তদন্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে এবার জেলা প্রশাসনের কাছে এই তদন্ত শেষ করা এবং হুগলির সমস্ত বিধানসভা এলাকায় ক্লাবের অস্তিত্ব খুঁজতে আবেদন জানানো তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি তৃণমূলের এই কৌশল বলে পাল্টা দাবি করেছে বিরোধীরা। আর একে কেন্দ্র করেই এখন জমে উঠেছে আরামবাগের রাজনীতি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আরামবাগের 14 নম্বর ওয়ার্ডের নবপল্লী এলাকায় “নবপল্লী মাঠপাড়া সম্প্রীতি সংঘ” নামে একটি ক্লাবের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও, সেই ক্লাবের জন্য সরকারি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। গত 11 এপ্রিল আরামবাগ থানা থেকে সেই চেক তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা নীতিশ ভট্টাচার্য। আর এর পরেই ক্লাবের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও, কেন তৃণমূল নেতা চেক পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এদিকে গোটা ঘটনার পর যখন বিরোধীরা এই ব্যাপারে শাসক দলকে চেপে ধরতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই তদন্ত তদন্তের মত করে চলা উচিত বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতারা। তবে এখনোও পর্যন্ত তদন্ত ধীর গতিতে চলায় হুগলি জেলার সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্র সহ এই ঘটনায় ভুয়ো ক্লাবগুলোর হদিশ পেতে জেলা শাসকের কাছে তদন্তের আবেদন করল তৃণমূল কংগ্রেস।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অনেকে বলছেন, আসলে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হল। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, “স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস নয়‌। আমরা চাই, আরামবাগের একটি ক্ষেত্রে যখন অভিযোগ উঠেছে, তখন অন্যান্য বিধানসভার ক্ষেত্রেও সার্বিকভাবে বিষয়টা দেখা হোক। কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম রয়েছে কিনা।”

এদিকে ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আরামবাগের জন্য জেলা যুব কল্যাণ এবং ক্রীড়া আধিকারিকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে খবর। আর তৃণমূলের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো ক্লাবের অস্তিত্ব বের করতে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও, তাকে কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। এদিন এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামল বসু বলেন, “শাসকদলের জেলা সভাপতি তদন্ত চাইলেও আমাদের ভরসা নেই। প্রশাসন লোকদেখানো তদন্ত করে। এই তদন্ত চাওয়া মানুষকে বোকা বানানো।”

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, “আরামবাগের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হল না কেন? সত্যিই যদি জেলার সর্বত্র ভুয়ো ক্লাব নিয়ে যথাযথ তদন্ত হয়, তাহলে শাসকদলের জড়িত থাকার আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেননা ক্লাবগুলোকে তারাই মদত দেন।” অর্থাৎ তৃণমূলের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনায় তদন্ত দাবি করলেও এতে যে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে, তা মানতে নারাজ বিরোধীরা।

তাদের পাল্টা দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে মানুষের কাছে এটা তৃণমূলের একটা গিমিক মাত্র। তবে পরিস্থিতির ওপর এখন সকলকেই নজর রাখতে হবে। আরামবাগের ভুয়ো ক্লাব আর্থিক অনুদান পাওয়ার পর এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি পায় কিনা এবং এরকম আরও অনেক ভুয়ো ক্লাবের হদিশ পাওয়া যায় কিনা, তার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!