এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বার্ষিক আয় 2-3 কোটি টাকা! নতুন পত্রবোমা ঘিরে টালমাটাল রাজ্য-রাজনীতি

তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বার্ষিক আয় 2-3 কোটি টাকা! নতুন পত্রবোমা ঘিরে টালমাটাল রাজ্য-রাজনীতি



 

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় ছোট, বড়, মেজো বিভিন্ন তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা। আর এই দুর্নীতিতে বিদ্ধ হয়ে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল রাজ্যে খারাপ ফল করেছে বলে দাবি একাংশের।

যার পরে সেই দুর্নীতি কমাতে দলের অনেককেই কড়া বার্তা দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু এবার জেলা নেতৃত্ব থেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তৃণমূলের এক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের চিঠি যাওয়ায় প্রবল বিপাকে ঘাসফুল শিবির।

সূত্রের খবর, রবিবার সকালে তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে পাঠানো একটি বিস্ফোরক চিঠির প্রতিলিপি উদ্ধার হয় মুরারই বিধানসভা এলাকায়। যেখানে রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তি সেই চিঠিতে লিখেছেন, গত বিধানসভা ভোটে দলীয় প্রার্থীকে হারানোর জন্য ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ চেষ্টা করেছেন।

আর এরপরই অনুব্রত মণ্ডলের উদ্দেশ্যে সেই রেজাউল করিমের লেখা চিঠিতে রয়েছে, “বর্তমানে আপনার স্নেহের ব্লক সভাপতির বার্ষিক আয় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ছাড়াও টয়লেট নির্মান থেকে টাকা তোলা হয়েছে। যার অর্ধেক টাকা ব্লক সভাপতি নেন। আপনাকে জানানো সত্ত্বেও কোনো তদন্ত করেন না। যার ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। আপনি তো কিছু দেখেন না। এরা আপনার দলের সম্পদ। জেলাশাসককে দিয়ে তদন্ত করে প্রমাণ করুন, ওরা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির। না হলে আপনি ও আপনার দল বিপাকে পড়বে।” তবে রেজাউল করিম নামে যে ব্যক্তি এই চিঠি লিখেছেন সেই ব্যক্তির বাস্তবে কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে খবর।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

জানা গেছে, ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিনয় ঘোষের বিরুদ্ধে লেখা এই চিঠি অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি এবং প্রশান্ত কিশোরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করে এখন রহস্য ক্রমশই ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। চিঠিতে রেজাউল করিমের নাম লেখা থাকলেও বাস্তবে এই চিঠি কে বা কারা পাঠাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

কিন্তু এই প্রথম নয়, এর আগেও বিনয়বাবুর বিরুদ্ধে এইরকম লিফলেট বানিয়ে প্রচার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এদিন এই প্রসঙ্গে বিনয় ঘোষ বলেন, “এর আগেও আমার নামে লিফলেট ছড়ানো হয়েছিল। সেই সময় একজন গ্রেফতার হয়েছিল। এবারও মিথ্যা অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করব। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কে বা কারা এই চিঠি ছড়িয়েছে, তা পুলিশ খুঁজে বের করুক।”

 

এদিকে এই ব্যাপারে বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “এটা বিজেপি থেকে করা হয়েছে। যে করেছে, সে ধরা পড়েছে। এমনকি সে অন্যায় স্বীকারও করেছে।” তবে বিজেপির তরফে পাল্টা সুধীর গোস্বামী বলেন, “বিজেপি এই ধরনের চক্রান্ত করে না। এটা তৃণমূলের নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।”

কিন্তু যে যাই বলুন না কেন, যেভাবে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং চিঠি পড়ে থাকতে দেখা গেল, তা যে তৃণমূলকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!