এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > রদবদলেও লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! বিধানসভার আগে ক্রমশ ঘুম উড়ছে তৃণমূলের

রদবদলেও লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! বিধানসভার আগে ক্রমশ ঘুম উড়ছে তৃণমূলের



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ব্যাপক পরাজয়ের পর সেখানে সাংগঠনিক রদবদল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে তার পরবর্তী সময়কালে সম্প্রতি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে সমস্যা মেটাতে নানা জেলায় সাংগঠনিক রদবদল করা হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে। তার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা। এতদিন এইখানে অর্পিতা ঘোষকে সভাপতি করা হলেও, এবার সেই জায়গায় বদল এনেছে শাসকদল। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গঙ্গারামপুরছর বিধায়ক গৌতম দাসকে।

আশা করা হয়েছিল, কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত না থাকা গৌতম দাস দায়িত্ব নেওয়ার পর হয়ত বা এই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে যেতে শুরু করবে। কিন্তু গৌতম দাস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা কমিটি গঠনে উদ্যোগী হলেও, এবার সেই জেলা কমিটি নিয়ে জেলা তৃণমূলের অন্দরে ব্যাপক কোন্দল বাসা বাঁধতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেল। জানা গেছে, সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় জেলা কমিটি গঠন এবং বেশ কিছু নেতাকে বহিষ্কার করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। মূলত অর্পিতা ঘোষ জেলা সভাপতি পদ থেকে সরে গেলেও, তাকে নিয়েই যাতে আলোচনা করে কমিটি গঠন করা হয়, তার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু অর্পিতা ঘোষকে জেলা কমিটি গঠনের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি‌। যার ফলে প্রকাশ্যে চলে এসেছে জেলা তৃণমূলের কোন্দল। কেন তিনি উপস্থিত থাকলেন না? এদিন এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন, “জেলা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাতে আমার মনে হয়নি সেখানে উপস্থিত থাকা আমার পক্ষে ঠিক হবে। নানা মুনির নানা মত।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

বৈঠকে আমার মতকে তারা কিভাবে নেবেন, তাও জানি না। তাই নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছি যে, এই ধরনের কোনো বৈঠকে উপস্থিত থাকব না।” কিন্তু অর্পিতা ঘোষকে রাজ্যের তরফের জেলা কমিটি গঠনের আলোচনায় থাকতে বলা হলেও, কেন তারা অর্পিতা দেবীকে আমন্ত্রণ জানায়নি? এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দাস বলেন, “জেলা কমিটি তৈরি নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো মিটতে সময় লাগবে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি তৈরি করে রাজ্যের কাছে পাঠাতে পারব। অর্পিতা ঘোষকে নিয়ে জেলা কমিটি তৈরির বিষয়ে কোনো নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি। এই ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।”

কিন্তু এইভাবে যদি প্রাক্তন বনাম বর্তমান সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, তাহলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় কি করে ভালো ফল করবে? এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতা তথা চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী বলেন, “পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি নিয়ে ফের কবে বৈঠক কবে, তার সিদ্ধান্ত গৌতম নেবে। ডাক পেলে অবশ্যই যাব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্পিতা ঘোষ জেলা সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কলকাতায় চলে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জেলায় তাঁর অনুগামী রয়েছেন যারা আদৌ দায়িত্ব পাবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছেন। তাই এই পরিস্থিতিতে কোনো দ্বন্দ্ব যাতে না থাকে, তার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে অর্পিতা ঘোষকে নিয়ে আলোচনা করে জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সেখানে ডাক না পেয়ে যেভাবে ক্ষোভ উগরে দিলেন অর্পিতা ঘোষ, তাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন জেলা সভাপতি পরিবর্তন করেও যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের সমস্যা রয়েই গেছে, তা কার্যত পরিষ্কার। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন এই সমস্যা মেটাতে কি পদ্ধতি অবলম্বন করে এবং তাতে কতটা সুফল পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!