এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের অফিস থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের কার্ড বিলি, জোর বিতর্ক!

তৃণমূলের অফিস থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের কার্ড বিলি, জোর বিতর্ক!



জীবনের সবথেকে বড় দ্বিতীয় পরীক্ষায় শাসকের প্রভাব যে এমন ভাবে পড়বে, তা উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা আঁচ করতে পারেননি। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কাউন্সিল নমিনি এবং উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের পরিচয় পত্র জেলা তৃণমূলের অফিস থেকে বিলি হওয়ায় এখন তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রসঙ্গত, প্রতিটি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেখভালের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাউন্সিল নমিনি হিসেবে উচ্চমাধ্যমিক কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নির্বাচন করা হয়। জলপাইগুড়ি জেলাতেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই নমিনি কার্ড তৃণমূলের অফিস থেকে বিলি হওয়ায় প্রবল সমালোচনা হতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, রবিবার জলপাইগুড়ির মার্চেন্ট রোডে জেলা তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে এই কার্ড বিলি করা হয়েছে। মূলত এই কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের দায়িত্ব থাকে উচ্চমাধ্যমিক সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থা তদারকি করা। সেদিক থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে যদি এই কার্ড বিলি করা হয়, তাহলে জনমানসে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অনেকে বলছেন, শাসকদলের ক্ষমতায় যখন তৃণমূল কংগ্রেস রয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের লোকেরাই এই কার্ড পাবে, তা একপ্রকার স্পষ্ট। কিন্তু যদি সেই কার্ড তৃণমূলের অফিস থেকে বিলি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে দলতন্ত্র কায়েম হচ্ছে বলেই প্রশ্ন উঠবে।

সেদিক থেকে কেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নিল না? যেখানে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে চালানো হবে বলে বারবার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে কার্ড বিলির ব্যাপারটি কেন তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে সম্পন্ন হল! এদিন এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুষ্পা লেপচা বলেন, “জেলাশাসকের দপ্তর থেকে আহ্বায়কের হাতে সব পরিচয় পত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল. পরে কি করে সেই পরিচয় পত্র বিলি হয়েছে, তা খোঁজ নিতে হবে।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে এই ব্যাপারে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জলপাইগুড়ির আহ্বায়ক সুবীর চৌধুরী বলেন, “আমি ময়নাগুড়ি হাইস্কুল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিদের হাতে পরিচয় পত্র দিয়েছি। তারা কোথায় বিলি করেছেন, তা আমার জানার কথা নয়।” কিন্তু একি কথা! দায়িত্ব থেকে তারা দেখবেন না যে কোথায় যাচ্ছে সেই কার্ড? এভাবে কি দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়! কেন তাদের পার্টি অফিস থেকেই কার্ড বিলি হল!

এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সেকেন্ডারি টিচার্স এসোসিয়েশনের জলপাইগুড়ি জেলার আহ্বায়ক অঞ্জন দাস বলেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতেই মূলত আলোচনার জন্য সকলকে ডাকা হয়েছিল।” অন্যদিকে এই কার্ড বিলি নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপি শিলিগুড়ি জেলা সভাপতি তনয় দাস বলেন, “উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও যে তৃণমূল নিয়ন্ত্রণ করে, তা সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বোঝাতেই পার্টি অফিসে ডাকা হয়েছিল।”

বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন চলবে! কতদিন আর শাসকদল সব জায়গাতে নিজেদের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে এরূপ পদ্ধতি অবলম্বন করে যাবেন! শেষ পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে তৃণমূলের এই পদ্ধতি এখন রীতিমত নিন্দার ঝড় তুলেছে সব মহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!