এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > মানুষের সাথে মিশে গেলেন হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক, লোকাল ট্রেনেই সারলেন যাত্রা

মানুষের সাথে মিশে গেলেন হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক, লোকাল ট্রেনেই সারলেন যাত্রা



 

নেতা-মন্ত্রী হলেই গরীব চাষাও মুহূর্তে রাজা হয়ে যায়। বঙ্গ রাজনীতিতে দীন-দরিদ্র কোনো ব্যক্তি যদি রাজনীতিতে আসেন এবং তিনি যদি একবার টিকিট বাগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে তার টিকি আর পাওয়া যায় না। এমন বহু নিদর্শন বাংলার ক্ষেত্রে রয়েছে। তবে বৈভবের এই যুগে যখন কোনো কাউন্সিলরকে লাক্সারি গাড়ি করে ঘুরতে দেখা যায়, তখন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ককে লোকাল ট্রেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে দেখে রীতিমত হতবাক সকলেই।

সূত্রের খবর, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র মন্ডল। বিধায়ক হয়েও নিজের সাদামাটা জীবন ধরে রেখেছেন তিনি। আর তারই একটি নিদর্শন দেখা গেল, এদিন লোকাল ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে তার মেলামেশা দেখে। জানা যায়, এদিন জয়নগর থানার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এই তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে লোকাল ট্রেনে চড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গেখোশ মেজাজে গল্প করতে দেখা গেলো 70 বছর বয়সী তৃণমূলের এই প্রবীণ বিধায়ককে।

আর শাসকদলের বিধায়ককে কাছে পেয়ে রীতিমতো চোখ ছানাবড়া হয় সকলেরই। যেখানে এখন তৃণমূলের ছোট, বড়, মেজো সব নেতাদের অহংকারের কাছে মাথানত করতে হয় সাধারণ মানুষকে, সেখানে তৃণমূলের এই প্রবীণ বিধায়ক যেভাবে লোকাল ট্রেনে চড়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে সফর সারলেন, তা নিঃসন্দেহে বড় জনসংযোগ রক্ষা করল বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। এদিন বিধায়ককে এভাবে দেখে ট্রেনে সফররত সোনারপুরের বাসিন্দা গৌতম মল্লিক বলেন, “বৈভব প্রদর্শনের যুগে যেখানে সাধারন এক কাউন্সিলারের প্রতিপত্তি দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়, সেখানে তিনবারের বিধায়ক কিনা ট্রেনে চড়েছেন! তাও আবার শাসকদলের!”

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে বিধায়ক নির্মলচন্দ্র মন্ডলকে এভাবে দেখে ট্রেনে সফররত আরেক যাত্রী বলেন, “উনি তো মাটির মানুষ। এসি গাড়ি চড়েন না। মাঠে নেমে চাষ করেন। বাসে চড়তেও দেখেছি। সেবার আমিও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সিন্ডিকেটের জমানায় উনি এক ব্যতিক্রমী চরিত্র।” সত্যিই তো তাই, যেখানে তৃণমূলের ছোট স্তরের কোনো নেতা বড় গাড়ি করে ঘুরেন, সেখানে তৃণমূল এই বিধায়কের সাদামাটা জীবন কেন?

এদিন এই প্রসঙ্গে বিধায়ক নির্মল চন্দ্র মন্ডল বলেন, “সকালে আমি ঘরেই থাকি। যত দ্রুত সম্ভব, মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। তারপর দলীয় কাজে অথবা সরকারি কাজে বাইরে যেতে হলে বাস অটো তো রয়েছে। দূরে যেতে হলে, ট্রেনে যাই। কত টাকা পাই যে গাড়ি কিনব! দামি মোবাইল নেব! আমি সাধারন একজন মানুষ। যেটুকু পাই, তাতে ট্রেনে, বাসে, অটোতে করে যাওয়া যায়। আমি এভাবেই যাতায়াত করি। বিধানসভায় যাওয়ার সময় শিয়ালদায় ট্রেন থেকে নেমে বাসে করে যাই।”

আর নির্মল চন্দ্র মণ্ডলের এরকম সাদামাটা জীবন দেখে এখন সকলে বলছেন, যদি প্রায় প্রত্যেক নেতাই এভাবে জীবন যাপন করত, তাহলে রাজনীতিতে “বৈভব” নামক শব্দটি থাকত না। দেখা যেত না সোনার চেন, লাক্সারি গাড়ি, হাতে দামি মোবাইল ফোন। তবে ক্ষমতার স্বার্থে বিভিন্ন দলের নেতারা যখন নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যস্ত, তখন সাধারণের সঙ্গে জনসংযোগ করে বাসে, ট্রেনে যাতায়াতৈর মধ্যে দিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল চন্দ্র মন্ডল বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!