এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > জমজমাট রাজনীতি! তৃণমূলের কাছে নিজেকে অনুগত সৈনিক প্রমাণ করতে মরিয়া বাম আমলের মন্ত্রী!

জমজমাট রাজনীতি! তৃণমূলের কাছে নিজেকে অনুগত সৈনিক প্রমাণ করতে মরিয়া বাম আমলের মন্ত্রী!



বিগত বাম আমলে তিনি দাপুটে মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে দলবদল করে এখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এসেছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফে টিকিট পেয়েও জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। তবে এবার মেখলিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে এই পুরবোর্ড তৃণমূলের হাতে তুলে দেওয়াই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা পরেশচন্দ্র অধিকারীর কাছে।

বস্তুত, গত 2013 সালে সেই সময়কার ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সভাপতি ছিলেন এই পরেশচন্দ্র অধিকারী। নিজের ক্যারিশমায় একক ভাবে এই পৌরসভা দখল করে দলকে উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা। তাই সেদিক থেকে তৃণমূল তার ওপর আশা রাখছে যে, এবার এই পৌরসভা তৃণমূলের দখলে এনে দিতে তিনি বড় ভূমিকা পালন করবেন। ফলে পরেশ অধিকারীর কাছে এবারের পৌরসভা নির্বাচন যে বড়সড় অগ্নিপরীক্ষা স্বরূপ, তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2013 সালে পৌরসভা নির্বাচনে 9 আসন বিশিষ্ট মেখলিগঞ্জ পৌরসভায় ফরওয়ার্ড ব্লক 6, সিপিএম 2 এবং কংগ্রেস একটি ওয়ার্ড দখল করে। আর এগ পৌরসভা ফরওয়ার্ড ব্লক দখলের জন্য সবথেকে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হয় পরেশ অধিকারীকে। কিন্তু এবার সেই পরেশবাবু তৃণমূলে আশায় তার কাছে তৃণমূলের আশা-প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তাই সেদিক থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে পরেশ চন্দ্র অধিকারী নিজের জয় নিশ্চিত না করতে পারলেও, এবার যদি তিনি পৌরসভায় তৃণমূলকে সাফল্য না এনে দিতে পারেন, তাহলে তৃণমূলের তরফে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে বলেই মনে করছে একাংশ।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে অনেকে বলছেন, পরেশ চন্দ্র অধিকারী এই পৌরসভা তৃণমূলের দখলে আনবেন বলে মনস্থির করলেও, তার কাছে সবথেকে বড় সমস্যা শাসকদলের আভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েও যেখানে দলকে শৃংখলায় বাধতে পারেননি, সেখানে বাম আমলের প্রাক্তন মন্ত্রী কিভাবে তৃণমূল কর্মীদের এক করে এই পৌরসভায় জয় আনবেন! তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

ইতিমধ্যেই বিজেপি পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, ফরওয়ার্ড ব্লকে থাকার সময় পরেশবাবুর প্রতি মানুষের দুর্বলতা ছিল। কিন্তু তিনি দলবদল করেছেন সম্পূর্ণ নিজের স্বার্থে। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মানুষ এসবের জবাব দেবে। তবে বিজেপির এহেন মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ পরেশ অধিকারী।

এদিন তিনি বলেন, “মেখলিগঞ্জের মানুষের হয়ে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ময়দানে থেকে আন্দোলন করেছি। মানুষ সঙ্গে আছে বলেই গত পৌরসভা নির্বাচনে এককভাবে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে পৌরসভা দখল করেছিল। পরবর্তীতে দলীয় কর্মীদের সাথে আলোচনা করে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি দলবদল করেছি। পৌরসভা নির্বাচন হয় স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে। প্রতিদিন ওয়ার্ডের কর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে জায়গায় খামতি থাকছে, তা পূরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃণমূলে পুরনো, নতুন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” তবে মুখে পরেশ অধিকারী যে কথাই বলুক না কেন, কাজে তিনি কতটা সফলতা পান এবং এই পৌরসভা দখল করতে তার পরিকল্পনা কতটা কাজে দেয়! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!