এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > খুন হওয়া তৃণমূল নেতার পদ নিয়েই চলছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব – জোর জল্পনা

খুন হওয়া তৃণমূল নেতার পদ নিয়েই চলছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব – জোর জল্পনা



কিছুদিন আগেই খুন হয়েছেন পাঁশকুড়ার মাইশোরা এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা কুরবান শা। আর তার মত এহেন তরতাজা এবং প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুর পরেই তার দাদা আফজল শাকে মাইশোরা এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুরোধেই নিহত নেতার দাদা এই দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দাবি একাংশের। কিন্তু নিহত তৃনমূল নেতা কুরবান শার এই পদ নিয়েও কি এবার শুরু হল গোষ্ঠী কোন্দল!

জানা গেছে, পাঁশকুড়া ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি রায়ের সঙ্গে খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শার। দুইজনের মধ্যে বিরোধ মাঝে মধ্যেই সামনে উঠে আসত। জানা যায়, গত 2012 সালে নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শার অনুগামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ওঠে সেই সুজিত রায়কে।

তবে যতই বিরোধিতা থাকুক না কেন, সতীর্থ কুরবান শার মৃত্যুর পর সেই ভাবে এলাকায় বা তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি সেই সুজিত রায়কে। যা নিয়েও তৈরি হয়েছিল গুঞ্জন।অনেকে বলছেন, কুরবান শাহ মৃত্যুর পর তার দাদা আফজাল শাকে এই মাইশোরা এলাকার দায়িত্ব দেওয়ায় কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হয়েছেন সুজিত রায়

। কেননা সুজিতবাবুর অনুগামীরা আশা করেছিল যে, কুরবানবাবুর পরে সুজিত বাবুই হয়ত বা এই এলাকার দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু যেভাবে দলের নেতৃত্বের তরফে সেই কুরবান শার দাদা অপেক্ষাকৃত নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হল তা নিয়ে এলাকায় অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিতে শুরু করেছে।

আর নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শার পদটি তিনি না পাওয়াতেই কি গোসা করে এখন দলের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকছেন সুজিত রায়! জানা গেছে, কুরবান শার মৃত্যুর পর এলাকায় তাকে ঘিরে অনেক কর্মসূচি হলেও সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি সুজিতবাবুকে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এমনকি বৃহস্পতিবার নিহত তৃণমূল নেতার শোকসভায় সাংসদ শিশির অধিকারী উপস্থিত থাকলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন সুজিত রায়। তাহলে কি ফের নতুন করে এলাকায় গোষ্ঠী কোন্দল চাগাড় দিল! এদিন এই প্রসঙ্গে সুজিত রায় বলেন, “খুন হওয়ার পরের দিন কুরবানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম। পাঁশকুড়াতে শুভেন্দু অধিকারীর ধিক্কার মিছিল হেঁটেছি। তবে কুরবান মারা যাওয়ার পর দল বা ওর পরিবার আমাকে কোনো কর্মসূচিতে ডাকেনি, তাই যাইনি। আমি চাই মাইশোরায় দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক। যেকোনো সাংগঠনিক ব্যাপারে সাহায্য চাইলে, আমি সাহায্য করতে প্রস্তুত।” কিন্তু কেন তারা সুজিত বাবুকে ডাকেননি!

এদিন এই প্রসঙ্গে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মাইসোরার নেতা তথা নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শার দাদা আফজল শা বলেন, “শোকের আবহে আমি নিজে কাউকেই খবর দিইনি। যা করার দলের ছেলেরাই করেছে। সুজিত রায়ের মত নেতাকে আমাদের দরকার। উনি আমাদের পাশে থাকলে, আমাদের শক্তি আরও বাড়বে।”

কিন্তু সুজিত বাবু বা আফজল বাবু যে কথাই বলুন না কেন, যেভাবে নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শার মৃত্যুর পর সেই ভাবে এলাকায় কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না সুজিত রায়কে। তাতে ফের যে এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হতে চলেছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত সমালোচক মহল।

এদিন শিশির অধিকারীর অনুষ্ঠানে সুজিত রায়ের অনুপস্থিত থাকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পাঁশকুড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি দীপ্তি জানা বলেন, “শিশির অধিকারী অনুষ্ঠানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সুজিত কেন খবর পেলেন না, তা খোজ নিয়ে দেখব।” সব মিলিয়ে খুন হওয়া তৃণমূল নেতা কুরবান শার পদ নিয়েই কি এখন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখবে মাইসোর! এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে সর্বত্র।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!