এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > নাম না করে এবার কি তৃণমূলকে বিঁধলেন কেজরিওয়াল, জল্পনা তুঙ্গে

নাম না করে এবার কি তৃণমূলকে বিঁধলেন কেজরিওয়াল, জল্পনা তুঙ্গে



ছোটবেলায় নীতিশিক্ষায় বন্ধুর প্রতি বন্ধুর দরদী ভাবমূর্তির কথা আমরা সকলেই পড়েছি। যেখানে দেখা গিয়েছিল যে, দুই বন্ধুর মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব থাকলেও, ভাল্লুকের ভয়ে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ছেড়ে গাছে উঠে যায়। তবে এক বন্ধু গাছে উঠে গেলেও, আরেক বন্ধু সেই ভাল্লুক যাতে তাকে আক্রমন করতে না পারে, তার জন্য নিজে থেকেই মৃত মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করে। যার ফলে ভাল্লুকটি সেখান থেকে চলে যায়। আর এই গল্প থেকেই একটা জিনিস উঠে এসেছিল যে, বন্ধুত্বে একে অপরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও, বিপদ আসলে সেই সহযোগিতা না করে নিকৃষ্ট বন্ধুরা পালিয়ে যায়।

রাজনীতিটাও ঠিক এরকমই। বিজেপিকে সরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এতদিন একসুতোয় মালা গাথলেও এবার কি তাদের পথ আলাদা হয়ে গেল! সম্প্রতি দিল্লিতে তৃতীয়বারের জন্য জয়যুক্ত হয়েছে আম আদমি পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আর দিল্লিতে বিজেপি পর্যদুস্ত হওয়ার পর রীতিমত উজ্জীবিত হয়ে বাংলা থেকে সেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বন্ধু হয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা বিরোধী জোটকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে বলে মনে করেছিল একাংশ।

এদিকে সামনেই 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ফর্মুলা মোতাবেক বাংলায় 75 ইউনিট বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করে মা-মাটি-মানুষের সরকার। এক্ষেত্রে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ফর্মুলা বাংলার মাটিতে নিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন বলেও মনে করেছিল একাংশ। কিন্তু এবার যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করেন যে, বাংলা গোটা ভারতকে পথ দেখাচ্ছে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বুঝিয়ে দিলেন, দিল্লি আজ অন্যান্য রাজ্যকে পথ দেখাচ্ছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, রবিবার শপথ গ্রহণের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “অনেক রাজ্য বিদ্যুতের দাম 75 থেকে 100 ইউনিট করে কমিয়ে দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এটাই দিল্লি মডেলের বিশেষত্ব। গোটা দেশ দিল্লির স্বাস্থ্য, শিক্ষা মডেলের দিকে তাকিয়ে আছে।” আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য এখন বাংলা বনাম দিল্লির ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু করে দেবে বলেই মত একাংশের।

কেননা সম্প্রতি দিল্লিতে জয়যুক্ত হওয়ার পর গোটা দেশে নিজেদের দলকে ছড়িয়ে দিতে আম আদমি পার্টির অন্দরে চর্চা চলেছে। ফলে সেদিক থেকে যদি পশ্চিমবাংলায় এই আম আদমি পার্টি বিধানসভ নির্বাচনে লড়ার মতো জায়গায় চলে আসে, তাহলে ব্যাপক চাপ পড়বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। আর এবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকেই কদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে পরোক্ষে দিল্লির দেখানো পথেই অন্যান্য রাজ্য এগোচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যদিও বা এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই জনমুখী পদক্ষেপ করে আসছেন। এটা নতুন কিছু নয়।”

তবে সুদীপবাবু একথা বললেও, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে ছাড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এনেছে, সেটা যে গোটা দেশের মধ্যে প্রথম অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারই দিল্লিতে লাগু করেছিল, তা একপ্রকার নিশ্চিত সকলের কাছেই। এখন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে বিদ্যুতের ছাড় দেওয়া নিয়ে, তার দেখানো পথেই অন্যান্য রাজ্য এগোচ্ছে বলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরোক্ষে বাংলাকে খোঁচা দিলেও, দুই রাজ্যের প্রধানের সম্পর্কে এর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!