এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সমঝে চলার কড়া বার্তার জন্যেই কি উধাও হলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা

সমঝে চলার কড়া বার্তার জন্যেই কি উধাও হলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা



সম্প্রতি মানিকতলায় ‘ওয়াল অফ ফেম’-একটি দেওয়াল তৈরি করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে এসেছিলো। তীব্র বচসার জেরে গন্ডোগোলের পারদ এতো চড়া হয়েছিলো যে কাঁকুড়গাছির তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী তথা মানিকতলার বিধায়ক সাধন পান্ডেকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেও পিছপা হলেন না। ‘লম্পট’,’বদমায়েশ’,’অসভ্য’,’জানোয়ার’ এসব বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি তিনি শীর্ষ মন্ত্রীকে।

এর জেরে সাধনবাবুর অনুগামীরা প্রতিবাদ জানাতে মৌন মিছিল করলেও মুখে রা টা কাটেন নি সাধনবাবু । গোটা দায়িত্বটাই ছেড়েছিলেন বঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর। তাই সাধনবাবুর পরিবার আশা করেছিলেন যে নবান্ন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই ইস্যুতে নিশ্চয়ই কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিদেনপক্ষে তা না হলেও প্রকাশ্যে নেত্রীর তরফ থেকে কড়া ভাষায় হুঁসিয়ারী দেওয়া হবে তাকে। কিন্তু এটুকুও না হওয়ায় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সাধনবাবুর পরিবারের। তারপর তাঁরাই উদ্যোগ নিয়ে পরেশ পালের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে তাকে নোটিশ পাঠান।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কিন্তু নোটিশ পাঠিয়েও লাভ হয়নি কিছু। তালা ঝুলছে বিধায়কের বাড়িতে,এমনকি তাঁর পার্টি অফিসেও তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।  এই প্রেক্ষিতে পান্ডের কন্যা শ্রেয়া পান্ডে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেছেন যে,একজন বিধায়ককে এমন কথা বলতেই বা হয় কেন, যার জেরে তাকে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়? এমতাবস্থায় কাঁকুড়গাছির বিধায়ক পরেশ পাল কি ভয় পেয়ে লুকিয়ে আছেন? কোথায় গেলেন তিনি ?  এ প্রশ্ন নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে দলীয় অন্দরে।

প্রসঙ্গত,রাজনীতির আঙ্গিনায় সাধন পান্ডে বেশ সিনিয়র পরেশ পালের থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুদিনের ঘনিষ্ট মানুষ তিনি। সাধন-পরেশ মতবিরোধের সূত্রপাত এদিনই হয়নি। এ নিয়ে রাজনীতিতে জল ঘোলা হয়েছে বহুবার। তবে এরকম প্রকাশ্যে শালীলতা সীমা অতিক্রম এই প্রথম বারই হল। তাঁদের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রীতিমতো ক্ষুব্ধ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও নেত্রী তাঁর কালিঘাটের বাসভবনে তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েট নেতাকে এই ইস্যুতে সাবধান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু লাভের লাভ হল না কিছুই।

ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠল তাঁদের গন্ডোগোল। লোকসভা ভোটের আগে এই ধরণের নজিরবিহীন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে আসার জেরে রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বরা। বিরোধীরা যাতে এই ইস্যুকে লোকসভা ভোটের হাতিয়ার করতে না পারে তাই মিডিয়ার নজর এড়িয়ে পরেশ পালকে হয়তো সমঝে চলারই বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। তারপর থেকেই হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না তাঁর।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!