এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > চালচোর তৃনমূল থেকে মীরজাফর! নজিরবিহীন আক্রমণে লোকসভায় জমজমাট বাংলার করোনা ‘যুদ্ধ’!

চালচোর তৃনমূল থেকে মীরজাফর! নজিরবিহীন আক্রমণে লোকসভায় জমজমাট বাংলার করোনা ‘যুদ্ধ’!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –এবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেকার তরজা দেখল লোকসভা। বাংলার শাসকদলের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরা একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করলেন সংসদে। বস্তুত, এদিন লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় কতজন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন, তার কোনো তথ্য রাজ্য সরকার দেয়নি।

তাই সঠিকভাবে কেন্দ্রীয় অর্থ সাহায্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।” এদিকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এই মন্তব্য করার সাথে সাথেই তার বিরোধিতা করতে শুরু করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “রাজ্যের 23 টির মধ্যে 20 টি জেলায় 25 হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক লকডাউনের সময় ফিরে এসেছিলেন। সেই তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থমন্ত্রককে পাঠিয়ে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।”

এদিকে বিজেপির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও, কট্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিরোধী হওয়ায় এদিন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করোনা মোকাবিলা নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “করোনা কালে বাংলার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারছে না। চিকিৎসা নেই, হাসপাতালে বেড নেই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনি দ্রুত পদক্ষেপ করুন, না হলে রাজ্যের অবস্থা আরও ঘোরালো হবে। লকডাউনের সময় বাংলায় 12 লক্ষের বেশি শ্রমিক ফিরেছেন। তারা খেতে পারছেন না। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের অবস্থা সবথেকে খারাপ।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী যখন এই সমস্ত বিষয় তুলে ধরে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করছে, ঠিক তখনই নিজের আসন থেকে অধীরবাবুকে লক্ষ্য করে “মুর্শিদাবাদের নয়া মীরজাফর” বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণবাবু বলেন, “অধীর চৌধুরী তো পাঁচ মাস দিল্লিতে বসেছিলেন। তিনি কীভাবে জানবেন কতজন পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় ফিরেছেন! উনি তো নিজের কেন্দ্রের জন্য পাঁচ পয়সা ব্যয় করেননি।”

 

এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অধীর চৌধুরীর মধ্যে যখন তরজা চরমে উঠেছে, ঠিক তখনই বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে “চালচোর” বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যখন পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন এটি করোনা এক্সপ্রেস। তিনি শুধু চকের গণ্ডি কেটে গিয়েছে নিজের রাজনৈতিক লাভের জন্য। প্রথমে করোনাকে গুরুত্ব দেয়নি বাংলার সরকার। বলা হয়েছিল, দিল্লির হিংসা থেকে নজর ঘোরানোর জন্য করোনার আমদানি করা হয়েছে।”

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই করোনা ইস্যু যে একটা বড় হাতিয়ার হতে চলেছে শাসক থেকে বিরোধী সকলের কাছেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এদিন সংসদের অধিবেশনেও যেভাবে বিজেপি এবং কংগ্রেস দুই দল পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের করোনা মোকাবিলা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নবাণে ঘাসফুল শিবিরকে বিদ্ধ করতে শুরু করল, তাতে তৃণমূল কিছুটা হলেও চাপে পড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও বাংলার রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এই তরজা আগামী 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে কি প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!