এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ফের বড়সড় ভাঙ্গন বিজেপিতে, স্বস্তি তৃণমূলের অন্দরে

ফের বড়সড় ভাঙ্গন বিজেপিতে, স্বস্তি তৃণমূলের অন্দরে



 

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় 18 টা আসন পাওয়ার পর, বিভিন্ন জায়গায় গেরুয়া শিবিরের প্রভাব বাড়তে শুরু করে‌। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহলে এলাকা, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে যায়। যার জেরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে স্বস্তি বজায় থাকতে দেখা যায় ভারতীয় জনতা পার্টিতে। কিন্তু বিজেপির সেই স্বস্তি বেশিদিন টিকল না।

সূত্রের খবর, এবার প্রচুর বিজেপি নেতাকর্মী যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। জানা গেছে, সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর কেশিয়াড়ি ব্লকের বিজেপির দক্ষিণ মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক গয়াপ্রসাদ বালুই। বাগাস্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শুকরাম সিং, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সীতা প্রামাণিক, চন্দনা রাউত এবং পাখি রাউত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে শুধু এই সমস্ত সদস্যরাই নয়, এদিন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে দেখা গেছে খড়িপারা বুথের বিজেপির সভাপতি দয়াল রাউত, নিত্যানন্দ রাউত, প্রবীর রাউত, সুদীপ ঘোষ, রাজেশ ঘোষ, বল্লভ দন্ডপাত সহ অন্যান্যদের।

এদিন তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তৃণমূলে স্বাগত জানান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি‌। কিন্তু কেন তারা হঠাৎ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন? এই ব্যাপারে দলের ত্যাগী সেই গয়াপ্রসাদ পালুই বলেন, “আমরা বিজেপির হয়ে মানুষের উন্নয়নে প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দলে সেই সুযোগ ও পরিবেশ নেই। বরং মানুষের কাজ করতে চেয়ে পদে পদে দলের সম্মানিত হয়েছি। তাই দল ছাড়তে বাধ্য হলাম। আমরা তৃণমূলের হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” অন্যদিকে প্রচুর বিজেপি কর্মীর তৃণমূলে যোগদানের ফলে এদিন প্রবল উজ্জীবিত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, “এরপর দেখবেন প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিজেপি নেতা কর্মী আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন। এরা দিলীপ ঘোষের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে অংশীদার হতে চাইছে। তাই এখন এরকম ঘটনা প্রায় ঘটবে।” অন্যদিকে তৃণমূলের এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রচুর কর্মী তৃনমূলে যোগ দিলেও, ব্যাপারটিকে হালকা হিসেবেই দেখছেন জেলা বিজেপির সভাপতি সমিত দাস। এদিন তিনি বলেন, “ভালোই হল। এরা অটোক্লিন পদ্ধতিতে দলের বাইরে চলে গেল। বিজেপির আবর্জনা কোনো দলে গেলে আমাদের কিছু বলার নেই। এদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ওই এলাকার মহিলা প্রধানকে ব্ল্যাকমেইল করে উন্নয়নের কাটমানি চাইতেই এরা। বিজেপি করবেন আর কাটমানি নেবেন, তা হয় না। কিছু দুষ্কৃতী নিয়ে এলাকায় একসময় গন্ডগোল করেছিল। আমরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।”

তবে জেলা বিজেপির সভাপতি এখন ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই এই সমস্ত কথা বলছেন বলে দাবি করছে একাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে জঙ্গলমহলের এলাকাগুলোতে বিজেপির উত্থান ঘটলেও যেভাবে এদিন প্রচুর বিজেপি নেতা কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন, তাতে বিজেপি যে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গেল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রায় সকলেই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!