এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > এ কেমন ভোট, প্রশ্ন খোদ তৃণমূল প্রার্থীর

এ কেমন ভোট, প্রশ্ন খোদ তৃণমূল প্রার্থীর



ভোটেরদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের এক ভোটবুথে দেখা মিলল এক অদ্ভূত ছবির। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে জনা কুড়ি ভোটার আর অনতি দূরে ৩০ জন জটলা পাকিয়ে আছে। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থী নাজিফা খাতুন। ভোটপর্ব কেমন চলছে জানতে চাওয়া হলে কটাক্ষের ভঙ্গিতে তিনি বলেন,” এটা কী আদেও ভোট হচ্ছে! নির্দল প্রার্থীর লোকেরাই তো ভোট লুট করছে!” এঁনার সঙ্গেই অভিযোগ নিয়ে সামিল হলেন পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল প্রার্থী তপন মাজি। তিনি জানান,”পুলিশের সামনেই দলের এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দিয়ে অবাধে ছাপ্পা মারল নির্দলের লোকজন। যা চলল তাতে শুধু আমি হারব না, দলের ভবিষ্যত্‍টাও হেরে যাবে।” অভি্যোগের তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি তৃণমূল বনাম নির্দলের লাঠি-দা-টাঙ্গিও সমানে কথা বললো। হিংসার রক্তপাত থামাতে এসে পুলিশেরও রক্ত ঝরলো। এ ঘটনার মালিক একা পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, একই নজির দেখা গেছে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে কোচবিহার, নদিয়া,হুগলি,উওর ২৪ পরগনা থেকে দুই বর্ধমান অব্দি। এই নির্দলরা আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিক্ষুব্ধ তৃণমূলেরই অংশ। এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার শাসকদলের নেতারা। রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে আরো জানা যায়, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে দফরপুরের পাঁচটি বুথ থেকে সকালেই নির্দল প্রার্থীরা নাকি তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের বার করে দেয়। নদিয়া থেকে খবর পাওয়া যায় তাহেরপুর এলাকার নির্দল-তৃণমূলের সংঘর্ষে গুলি লেগে প্রাণ যায় বিশ্বজিত্‍ হালদার নামে এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। পূর্ব বর্ধমানের সবথেকে বেশি গোঁজ প্রার্থী ছিল ভাতারে। স্থানীয় সন্তোষপুর এলাকাতেও তান্ডব চলে নির্দল সমর্থকদের। শাসকদলের প্রার্থী জাহানারা খাতুনকে এই নির্দলেরা নাকি ব্যাপকভাবে মারধোর করে, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

মেমারি ২ ব্লকের কুচুট পঞ্চায়েতের ছোটমশাগড়িয়া গ্রামে নির্দল প্রার্থী বেবিনা বেগম নাকি সকাল থেকেই বুথে দাঁড়িয়ে থেকে ভয় দেখিয় ভোট সংগ্রহ করেছেন । তৃণমূলের লোকজন সেখানে কিছুই করতে পারেনি। পশ্চিম বর্ধমানের কেন্দা এলাকাও সগৌরবে ঘোষণা করছে নির্দলদের দাপট। এখানেও আক্রান্ত তৃণমূল নেতাদের। অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ২ পঞ্চায়েতের ঘোষালের আবাদ গ্রামে সক্রিয় ছিল তৃণমূলকর্মীরা। তাঁরা নাকি ভোটের সকালেই কানাই পারুই নামে নির্দল প্রার্থীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বুথ থেকে তাড়িয়ে দেয়। কানাইবাবু দলীয় কর্মীরা ঠেকাতে গেলে শুরু হয় দু’পক্ষের বোমা-গুলির লড়াই। গুলিতে ব্যাপকভাবে জখম হন দুখে পাড়ুই, কংস পারুই। দুষ্কৃতিরা কোপায় মনু পারুইকে। এমনটাই অভিযোগে জানায় নির্দল প্রার্থীরা। অবশ্য এই হামলার অভিযোগ তৃণমূল পুরোপুরিই অস্বীকার করেছে। খবর পাওয়া গেছে কোচবিহার পঞ্চায়েত এলাকা থেকেও। এখানের নির্দল প্রার্থী ও দলীয় লোকেদের নাকি তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি তথা জেলা পরিষদ প্রার্থী আব্দুল জলিল আহমেদ হাড়িভাঙায় বুথের ভিতর ঢুকে হুমকি দেন বলে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুলের দাবিতে জানিয়েছেন যে তিনি নাকি বুথ জ্যামের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছিলেন। তৃণমূল বনাল নির্দলের সংঘর্ষে উত্তাল উত্তর দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকাও। দুই তরফের লড়াই এ ১২জন জখম হয়েছেন গোয়ালপোখরের ঝাড়বাড়ি বুথে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। একই খবর এসেছে হুগলির এইরকম লড়াই এ জখম হয়েছেন অন্তত ছ’জন। হাওড়ার বালি-জগাছা ব্লকও সাক্ষী থেকেছে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির। এখানেট তৃণমূলের জেলা পরিষদ প্রার্থী কল্যাণ ঘোষ দিনভরই বুথ দখলের অভিযোগ তুলেছেন নির্দলদের দিকে। তার অভিযোগের প্রতিটা শব্দে তিনি বুঝিয়েছেন যে গোলমাল দলের বিক্ষুব্ধরাই পাকাচ্ছে। এই কথাতেই স্ট্যাম্প মেরেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মন্ত্রী অরূপ রায়। তাঁর বক্তব্য ”এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।”

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!