এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > তৃণমূলের সংকট আরও বাড়ছে? নতুন জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকে এলেন না অধিকাংশ জেলা পরিষদের সদস্য!

তৃণমূলের সংকট আরও বাড়ছে? নতুন জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকে এলেন না অধিকাংশ জেলা পরিষদের সদস্য!



এবারের নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের পরাজয়ের পরই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি পদ থেকে বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয় এখানকার পরাজিত প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে। আর এরপরই জেলা তৃণমূলের অন্দরে ভাঙ্গনের আশঙ্কা করতে শুরু করেন অনেকেই।

দক্ষিণ দিনাজপুরকে নিজের তালুর মত চেনা বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে অর্পিতা ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়ায় বিপ্লববাবুর অনুগামীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। এতদিন এই ব্যাপারে কানাঘুষো সমস্ত কথা শোনা গেলেও জেলা তৃণমূলের নব্য সভাপতি অর্পিতা ঘোষের ডাকা বৈঠকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের শাসকদলের সদস্যদের অনুপস্থিতিই সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সমস্ত দলীয় সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করা হবে বলে জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়কে জানিয়ে দিয়েছিলেন অর্পিতা ঘোষ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সভাধিপতি লিপিকা রায় সেইভাবে বাকি দলীয় সদস্যদের জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকের কথা না জানানোয় সেই মিটিং এবার ভেস্তে গেল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বারোটা নাগাদ এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদে মোটে 4-5 জনকে দেখা যায়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সভাধিপতি ললিতা টিগ্গা, মেন্টর কল্পনা মুর্মু, কো মেন্টর মৌমিতা মন্ডল, শিক্ষা কর্মাধক্ষ প্রবীর রায়। পরে অবশ্য অনেকে আসলেও তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের দপ্তরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে আবার জেলা সভাপতি বৈঠক ডেকেছেন এই কথাই তারা জানেন না বলে জানিয়ে দেন।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিকে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জেলা পরিষদে উপস্থিত না হওয়ায় তৈরি হয় ধন্দ। তাহলে কি তারা বৈঠকের ব্যাপারে কিছুই জানেন না! এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা বিপ্লব মিত্র ঘনিষ্ঠ মফিজউদ্দিন মিঁয়া বলেন, “বৈঠক নিয়ে কিছু জানি না। কেউ আমাকে কিছু বলেনি।”

অন্যদিকে ব্যক্তিগত কাজে তিনি জেলা পরিষদে যেতে পারেননি এবং মিটিংয়ের কথাও তিনি জানেন না বলে জানান জেলা পরিষদের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের কর্মাধক্ষ মিঠু জোয়ারদার। তবে বৈঠকের কথা জেনেই তারা নির্ধারিত সময়ে জেলাপরিষদে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের মেন্টর কল্পনা মুর্মু এবং জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি ললিতা টিগ্গা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রর হাতেই এই জেলা পরিষদ রয়েছে। সভাধিপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মাধ্যক্ষ সহ বেশিরভাগ সদস্যরা তার অনুগামী বলেই পরিচিত। ফলে অর্পিতা ঘোষ জেলা সভাপতি হওয়ায় তাদের অনেকেই তা মেনে নিতে পারেননি।

যার জেরে অর্পিতাদেবী জেলা পরিষদের সমস্ত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক ডাকলেও জেলা পরিষদের সভাধিপতি তা ঠিক মত কাউকে না জানানোয় সকলে উপস্থিত না হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!