এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > উত্থানই পতনের কারন হল তৃণমূলের, সিঙ্গুরে উঠল ফের শিল্পের দাবি

উত্থানই পতনের কারন হল তৃণমূলের, সিঙ্গুরে উঠল ফের শিল্পের দাবি



2011 সালের আগে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনই ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এবার 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই সিঙ্গুরই মুখ ফেরাল তৃণমূলের থেকে। কেননা এবারের লোকসভা নির্বাচনে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রত্না দে নাগ বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন।

আর এই হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে যে, সিঙ্গুর বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় যেখানে ভোট পেয়েছেন 93 হাজার 177 টি, সেখানে তৃণমূল প্রার্থী ভোট পেয়েছেন 82 হাজার 748 টি। আর যা দেখে এবার অনেকেই বলছেন যে সিঙ্গুর এককালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনেছিল, সেই সিঙ্গুরই হয়ত এবার ডুবিয়ে দিল তৃণমূলকে।

জানা গেছে, বেড়াবেড়ি, কেজেডি এবং গোপালনগর – এই তিনটে মৌজা নিয়ে যে প্রকল্প এলাকা ছিল তার মধ্যে গোপালনগর পঞ্চায়েতের মোট 18 টি আসনের মধ্যে এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি 11 টিতেই জয়লাভ করেছে। আর সাতটিতে জিতেছে তৃণমূল। অন্যদিকে কেজেডি এবং বেড়াবেড়ি মৌজাতেও তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ফল গিয়েছে। কিন্তু কেন এরকম ফল হল সিঙ্গুরে?


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে সিঙ্গুরের তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। নিশ্চয়ই কোথাও ভুল ছিল। এখনও হারের কারণ পরিষ্কার নয়।” অন্যদিকে হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না বলেন, “এখনই যদি আমরা ব্যবস্থা না নিই, তাহলে আমাদের সংগঠনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আত্ম- সমালোচনার করা দরকার হয়ে পড়েছে।” এদিকে সিঙ্গুরের কোথায় কি সমস্যা আছে, তা সবাইকে নিয়ে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে বলে জানান হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি তপন দাশগুপ্ত। এদিকে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে নিজে জয়লাভ করে ফের হুগলিতে শিল্প গড়ার জল্পনা উসকে দেয় বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, এদিন বেলা দশটা নাগাদ বিজেপি সমর্থকরা সিঙ্গুরের জমি সংলগ্ন কালীমন্দির থেকে গোপালনগর পর্যন্ত শিল্পের দাবিতে মিছিল করেন। এদিন এই প্রসঙ্গে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া সঞ্জয় পান্ডে বলেন, “রাজ্যবাসীর আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল টাটা প্রকল্প কারখানা হলে অনেক মানুষ কাজ পেতেন। তৃণমূলের আমলে কোনো শিল্প হয়নি। উল্টো জুট মিল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই আমরা চাই সিঙ্গুরে টাটারা ফিরে আসুক।”

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী জেদ করলেই সব কিছু হবে না। সিঙ্গুরে কারখানা হবে, এবং বেকার ছেলেরা চাকরি পাবে বলে জানান বিজেপি সমর্থক অসিত জ্যোতি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এককালে বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সিঙ্গুরের কারখানার বিরুদ্ধে চাষীদের পক্ষে সওয়াল করে ক্ষমতায় এসেছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু এবার সেই সিঙ্গুরে শিল্পের প্রয়োজন এবং বেকার সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন – এই দাবি জানিয়ে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এখন সেই সিঙ্গুরে কারখানা করার কথা বলে পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সেই সিঙ্গুর থেকে সরানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়লেন! জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!