এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিধানসভায় বিজেপিকে মাত দিতে আসরে প্রশান্ত কিশোর! শাসকদলকে জেতাতে তৈরী বিশেষ গেমপ্ল্যান

বিধানসভায় বিজেপিকে মাত দিতে আসরে প্রশান্ত কিশোর! শাসকদলকে জেতাতে তৈরী বিশেষ গেমপ্ল্যান



লোকসভা নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্র ছিল – ৪২ এ ৪২, ২০১৯ – বিজেপি ফিনিশ! কিন্তু, মুখে সেই কথা বললেও, বাস্তবে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল অনেকটাই! তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বাংলার মাটিতে তীব্র গতিতে উত্থান হয়েছিল বিজেপির। আর বিজেপির সেই বিজয় রথকে আটকে, তৃণমূলের তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মসনদ দখল করার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করা হয় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরকে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই দাবি করেন, প্রশান্ত কিশোরকে নাকি কোনো টাকাই দেওয়া হয় নি, তিনি এমনিই সাহায্য করছেন তাঁর দলকে। কিন্তু, বিরোধীরা আওয়াজ তুলতে থাকেন, এই কাজের জন্য প্রশান্ত কিশোরকে নাকি তৃণমূল ৪০০-৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এদিকে দায়িত্ব নিয়েই, পুরোদস্তুর নিজের টিমকে নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েন ভোট বিশেষজ্ঞ পিকে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের হারিয়ে যাওয়া জনসংযোগ ফিরিয়ে আনতে শুরু করেন দিদিকে বলো কর্মসূচি।

আর তার সুফলও পায় তৃণমূল – লোকসভা নির্বাচনে ৬ মাসের মধ্যে হওয়া তিনটি উপনির্বাচনে বিপুল জয় পায় ঘাসফুল শিবির। স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গ রাজনীতিতে মান্যতা পান প্রশান্ত কিশোর। আর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও চাঙ্গা করতে তিনি নিয়ে আসেন – ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি। সবকিছু ঠিক থাকলে যা এখন পুরোদস্তুর ভাবে চলত বাংলার বুকে। কিন্তু করোনা আবহে আপাতত তা থমকে। এদিকে, করোনা নিয়ে বিরোধীদের সুর ক্রমশ চড়ছে। আর তাই পুনরায় ডাক পড়েছে প্রশান্ত কিশোরের।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক টীমও ময়দানে নেমে পড়েছে। বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচি সামনে আসছে নতুন রূপে। প্রশান্ত কিশোরের টীম একদিকে যেমন বিরোধীদের করা করোনা নিয়ে তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগকে তথ্য দিয়ে খন্ডন করছেন, অন্যদিকে তেমনই তুলে ধরছেন বাংলাকে করোনা মুক্ত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে লড়াই করছেন বা কেন্দ্র সরকারের অসহযোগিতার জন্যই কিভাবে বাংলা করোনা যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ২০২১-এর বিধানসভা যুদ্ধের অনেকটাই নির্ভর করে সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে। আর তাই ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই সোশ্যাল মিডিয়ার বড় অংশ দখলের পরিকল্পনায় ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। এখন করোনার সময়ে তৃণমূল নেত্রী কিভাবে দিনরাত কাজ করছেন, বাংলাকে রক্ষা করছেন তা নিয়েই জোরদার প্রচার চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বস্তুত বাংলার গর্ব মমতা কর্মসূচিকেই নতুন মোড়কে হাজির করছে টীম আইপ্যাক।

রীতিমত প্রফেশনালদের দিয়ে ছবি আঁকিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চলছে – কিভাবে করোনার ‘বিষ’ একা বুকে নিয়ে বাংলাকে রক্ষা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাকে দুর্ভেদ্য প্রাচীর দিয়ে ঘিরে করোনার বিরুদ্ধে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী – এই বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে টীম আইপ্যাকের তরফে। এছাড়াও, করোনার কঠিন সময়ে মাঠে-ময়দানে নেমে মানুষের পাশে থেকে জনসেবা করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরাই। বিজেপি নেতারা তো দূর অস্ত, বিজেপির ১৮ জন সাংসদের একজনকেও পাওয়া যাচ্ছে না – এই প্রচারও ক্রমশ জোরদার করা হচ্ছে।

এছাড়াও রয়েছে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সোচ্চার প্রচার। কেন্দ্রের অসহযোগিতা বা এই কঠিন সময়ে রাজনীতি করতে চাওয়া – এই দুই বিষয়ও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে আইপ্যাকের প্রচারে। সবমিলিয়ে, করোনা আবহে সবাই আতঙ্কে থাকলেও, সেই কঠিন সময়ে তৃণমূল নেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের কাজ সবার সামনে এনে, তা নিয়ে জোরদার প্রচার করেই বাজিমাত করতে চাইছেন প্রশান্ত কিশোর বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। আর তাই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দেখা যাচ্ছে – ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচি নতুনরূপে। সত্যিই কি এতে বাজিমাত হবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!