এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তাপস পালের চলে যাওয়ার খবরে শোকের ছায়া বাংলা সিনেমার ইন্ডাষ্ট্রিতে!

তাপস পালের চলে যাওয়ার খবরে শোকের ছায়া বাংলা সিনেমার ইন্ডাষ্ট্রিতে!



টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল এর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতীয় বাংলা সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে সহকর্মীর মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছেন সেলিব্রিটিরা, কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। না ফেরার দেশে চলে গেলেন কলকাতার বর্ষীয়ান অভিনেতা তাপস পাল। মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে কলকাতার সিনেমা জগতের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ বিধায়ক টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীও তাপস পালের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে প্রথম ধাক্কা তাপস পালের মৃত্যু। যে খবরে টলিউড শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পালের এভাবে চলে যাওয়া অনেকেই মেনে নিতে পারেন না। তাপস পালের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেন না। উল্লেখ্য, শতাব্দী রায় এবং তাপস পাল অভিনীত গুরুদক্ষিণা আশির দশকের জনপ্রিয়তম বাংলা সিনেমা। অন্যদিকে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাপস পালের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘একে একে সবাই চলে যাচ্ছে।’

ইন্ডাস্ট্রির বহুল প্রচলিত নাম ছিল তাপস পাল। একই সময় ইন্ডাস্ট্রিতে শাসন করতে আসেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তাপস পালের মধ্যে রেষারেষির খবর। কিন্তু প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এপ্রসঙ্গে অনেক আগেই পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কোনো প্রশ্নই উঠছে না। তবে তাপস পালের এভাবে চলে যাওয়া তিনিও মেনে নিতে পারেননি। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অনেক বড় মাপের শিল্পী ছিল। কাছের বন্ধুকে হারালাম।’

অন্যদিকে, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাঁর কান্না আটকাতে পারেননি। তিনি বলেছেন, ‘কোন ছোটবেলা থেকে ওঁকে দেখছি।কাজের প্রতি কী অসম্ভব ডেডিকেশন। দুটো ছবিতে অভিনয় করেছি ওঁর সঙ্গে। একটি ছবিতে আমার বাবা হয়েছিলেন এবং আর একটিতে দাদা। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না।’ অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশ তাপস পালের সঙ্গে 2013 সালে খিলাড়ি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মনে আছে ‘খিলাড়ি’ ছবিতে তাপসদার ক্লাইম্যাক্সে একটা ফাইট সিকোয়েন্স ছিল। উফ সে কী এনার্জি, বডি ফিটনেস। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওই বয়সেও এত ভালবাসা, সে দিনই বুঝেছিলাম প্রথম।’

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে শোকগ্রস্ত অবস্থায় থাকলেও শ্রীলেখা মিত্র তাপস পালের এহেন অবস্থার জন্য কিছুটা হলেও রাজনীতিকে দোষারোপ করেছেন। এদিন তাপস পালের জন্য শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শিল্পীদের বোধহয় রাজনীতি করা উচিত নয়। সকাল থেকেই এই কথাটা মাথায় ঘুরছে। তাপস পালের মতো একজন প্রতিভাবান শিল্পীর শেষটা কি এ রকম হওয়া উচিত ছিল?’ অন্যদিকে, পরিচালক দেবাদিত্ত এদিন বলেন, ‘যাঁরা ওঁকে ভালবাসতেন, তাঁদের কাছে ওঁর চলে যাওয়াটা ক্ষোভ হয়ে জমে থাকবে। ওঁর নিজেরও কিছু ক্যাজুয়ালিটি ছিল। বুম্বাদার মধ্যে নিজেকে মেনটেন করার যে ব্যাপারটা ছিল তা তাপসদার মধ্যে ছিল না। এর মধ্যে যুক্ত হয় রাজনীতি। যে ভাবে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, সে ভাবে ধরে রাখতে পারলেন কি?’

বেশ কিছু বছর আগে তাপস পাল অভিনীত ছবি আটটা আটের বনগাঁ লোকাল এর পরিচালক দেবাদিত্য তাপস পাল সম্পর্কে বলেন, ‘অনেক বছর আগের কথা। ‘আটটা আট …’ সবে মুক্তি পেয়েছে। মুম্বই গিয়েছিলাম কর্মসূত্রে। মাধুরীর সঙ্গে দেখা হয়। ওঁকে আমার ছবির একটা ডিভিডি উপহার দিই। তিনি কভার ছবি দেখেই বলেন, ‘আরে, ইয়ে তো তাপস হ্যায়। মেরি পহেলি ফিল্ম কি হিরো। ক্যয়সা হ্যয় ও? কল লাগাও উসকো।’ ফোন করি তাপসদাকে। কথা হয় ওদের। এর পর ওই দিন আমায় প্রায় ৫/৬ বার ফোন করে তাপসদা জিজ্ঞাসা করতে থাকেন,’এই মাধুরী আমার নামে কী বলল রে?’

সূত্রের খবর, প্রায় 17 দিন মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে ছিলেন তাপস পাল। জানা গেছে, রাজনীতিতে বিতর্কিত অবস্থার কারণেই তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়ে যায়। প্রিয় অভিনেতা ও সহকর্মীকে হারিয়ে টলিপাড়ার খ্যাতিমান তারকা ও নির্মাতারা পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। হুগলির চন্দননগরে জন্ম হয়েছে তাপস পালের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি চরম আকর্ষণ ছিল তাঁর। তরুণ মজুমদার পরিচালিত দাদার কীর্তি সিনেমার মধ্যে দিয়েই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই অভিনেতার। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র 22 বছর। এবারের বসন্ত আর দেখা হলো না দাদার কীর্তির কেদারের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!