এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > স্বচ্ছ নেতার খোঁজে ‘মরিয়া’ পিকের টিম বাদ দিচ্ছেন না ‘প্রয়াত’ বাম নেতাদেরও! হাসির রোল বাংলায়!

স্বচ্ছ নেতার খোঁজে ‘মরিয়া’ পিকের টিম বাদ দিচ্ছেন না ‘প্রয়াত’ বাম নেতাদেরও! হাসির রোল বাংলায়!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্য দল ভাঙিয়ে নিজের দলে লোকে নিয়ে আসা নিজের দলের শক্তিবৃদ্ধির দিক থেকে একটা বড় প্রমানপত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীত সময় শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই খেলায় মেতে থাকলেও বর্তমানে দল ভাঙানোর খেলায় বাকি নেই বিজেপি বা কংগ্রেস, তৃনমূল হোক বা অন্য কোনো আঞ্চলিক দল। সব দলেরই মোটের ওপরে উদ্দেশ্য, অন্য দলের বর্ষীয়ান জনসংযোগকারী নেতাকে নিজের দলে নিয়ে এসে দলের ভোটের শক্তিকে বাড়িয়ে তোলা।

রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, বিগত দিনে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এই কাজ করলেও বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নীতি নির্ধারক সংস্থা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আর উল্লেখযোগ্যভাবে সেই তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম।

বর্তমানে রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল প্রায় প্রত্যেকেরই জানা, 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না করতে পেরে আগামী 21 সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়ে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপরেই ভারতবর্ষের নামজাদা নির্বাচনী রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোর এবং তার সংস্থাকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর এই রাজ্যে তৃণমূলের হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার পরপরই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক যোগাযোগ রাখতে শুরু করে রাজ্যের বিরোধীদলের নেতাদের সঙ্গে বলে খবর। ইতিপূর্বে লক্ষ্য করা গেছে, একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে বিভিন্ন নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করিয়েছে পিকের সংস্থা। রাজ্যের অলিতে-গলিতে কান পাতলেই খবর শোনা যায়, নিজের দলের প্রতি সামান্য বীতশ্রদ্ধ যে কোনো বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেছে আইপ্যাক।

ঘটনা প্রসঙ্গে নজির হিসেবে উঠে এসেছে ডায়মন্ডহারবারের একটি ঘটনা। যে ঘটনার মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিরোধী দলের নেতাদেরকে নিজের দলে টানতে কতটা মরিয়া হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা। বস্তুত, 1952 সালে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের দলীয় টিকিটের নির্বাচিত হয়েছিলেন শ্রী কমল বসু। স্থানীয় এলাকায় নির্লোভ এবং সৎ রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই তার পরিচয় ছিল। গুটি গুটি পায়ে সেই কমলবাবুর খোঁজে উপস্থিত হয়ে পড়ে তৃনমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতার সংস্থা প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক।

স্থানীয় এলাকায় কমলবাবুর যাবতীয় খোঁজখবর সেরে সুবিধা করে উঠতে পারেনি টিম পিকের সদস্যরা বলে খবর। তাই এক মত বাধ্য হয়েই নিজেদের উদ্দেশ্য পূর্তির জন্য খাস সিপিএমের পার্টি অফিসে গিয়ে উপস্থিত হয়ে পড়ে সংস্থার সদস্যরা। এখানে রাজনৈতিক মহলের অনেক ব্যক্তিবর্গের কাছে এমনকি সাধারণ মানুষের কাছেও ব্যাপারটা অত্যন্ত আশ্চর্যকর বলে মনে হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকগুলো পরিচয়ের মধ্যে সর্ববৃহৎ পরিচয় হল, সিপিএম বিরোধিতা।

প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল আদর্শ বাক্য ছিল, লাল হঠাও,‌ দেশ বাঁচাও। কোনদিন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সেই সিপিএমের কাছেই যে শরণাপন্ন হতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসকে, এই কথা হয়তো ভাবেনি সেইসময়কার তাবড় তাবড় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে কথায় রয়েছে, রাজনীতি আর ক্রিকেট খেলায় শেষ ইনিংস অবধি কিছুই বলা যায় না।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। 1952 সালের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কমল বসু একসময় কলকাতা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এমনকি লোকজনের সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল ভালো। কিন্তু তার খোঁজে যখন সিপিএম পার্টি অফিসে পৌঁছে যায় আই প্যাকের ছেলেরা, তখন প্রায় সেখানে এক প্রকার হাসির রোল পড়ে যায়। কারন যে কমল বসুর খোঁজে মরিয়া হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক উপদেষ্টারা, সেই কমল বসু 2013 সালের একুশে জানুয়ারি ইহজগতের মায়া মমতা ত্যাগ করে পরলোকগমন করেছেন। তাই তার শত খোঁজ করেও কোন রকম সুবিধা করে উঠতে পারবেন না প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। আর এই কথা ভেবেই হয়ত হাসাহাসি জুড়ে দেন সিপিএমের কর্মী সমর্থকরা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখিয়ে ইতিপূর্বে অনেক সততার পোস্টার লাগিয়েছে। কিন্তু বিগত 2019 সালের লোকসভা নির্বাচন চোখে আঙ্গুল দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে দেখাতে সক্ষম হয়েছে, শুধুমাত্র তৃণমূল নেত্রীর সততা দিয়ে কিছু হবে না। তৃনমূল স্তর থেকে শুরু করে শীর্ষ স্তর পর্যন্ত একাধিক নেতার নামে যেভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে করে কালিমালিপ্ত হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক চরিত্র। তাই এই মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে বিরোধী দলের সৎ লোকগুলোকে দলে নিয়ে আসা ছাড়া অন্য কোনো আশার আলো দেখছে না তৃনমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা।

তাই কখনও দলীয় পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে, কখনও সরকারি সংস্থায় সরকারি নমিনি করা, এমনকি নির্বাচনের টিকিট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও বিরোধী দলের নেতাদেরকে শাসকদলের টানতে চায় আইপ্যাক সংস্থা। তবে খুঁজতে খুঁজতে এইরকম ভুতুড়ে কান্ডের মুখেও যে পড়তে হতে পারে সংস্থার সদস্যদেরকে, তা হয়তো স্বপ্নেও কল্পনা করেনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষরা। যদিও ঘটনাটা কাকতালীয়। তবুও ঘটনার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অক্সিজেন যোগাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বিরোধী সৎ নেতারা। এখন আগামীদিনে আইপ্যাকের এই খোঁজ কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!