এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > আবার শুভেন্দু-ম্যাজিক! আড়াই দশকের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতেও ঘাসফুলের বিজয়-পতাকা

আবার শুভেন্দু-ম্যাজিক! আড়াই দশকের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতেও ঘাসফুলের বিজয়-পতাকা



আড়াই দশক ধরে কংগ্রেসের ঝান্ডা উড়েছে যে মাটিতে,সেখানেই এখন হুকুম চলবে জোড়াফুলের। কথা হচ্ছে কোলাঘাট সাগরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের। গতকাল বিকালেই তৃণমূলের উন্নয়নী সভায় পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে কংগ্রেসের ২৫ বছরের প্রধান সুরজিত মাইতি তৃণমূলে যোগ দেন। এছাড়া তাঁর পিছু পিছু আরো পাঁচজন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট কাটেন। এছাড়া পঞ্চায়েত সমিতিরও দুজন সদস্য তৃনমূলে যোগ দেন। এরফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোর ২২৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলের দখলে এল ২২০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। লোকসভা ভোট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী তাঁরা। দাবীতে জানালেন,বাকি তিনটি গ্রামপঞ্চায়েতও খুব জলদিও তৃণমূলের দখলে আসবে।

এদিনের জনসভায় শুভেন্দু বাবু জানালেন,উন্নয়ণে অংশগ্রহন করতেই কংগ্রেসের সদস্যরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত খুশি। আগামী দিন এইসব এলাকাকেই উন্নয়নে ভরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করলেন তিনি  উন্নয়নের জন্য স্পেশাল গ্রান্ট দেওয়ার কথাও জানালেন। ওদিকে, লোকসভা ভোটের আগে যেভাবে কংগ্রেসের সংগঠন দূর্বল হচ্ছে তাতে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ বেগ পেতে হবে প্রদেশ কংগ্রেসের। এটা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বেগে হেভিওয়েট নেতারা। উল্লেখ্য,এদিনের সভায় শুভেন্দু অধিকারীর পাশে হাজির ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি মানব সামন্ত, তৃণমূল নেতা অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, বদ্রু আলম মল্লিক, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিদায়ী জেলা পরিষদ সদস্য তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দিবাকর জানা, পাঁশকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র ছাড়াও ব্লকের তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিরা।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।

প্রসঙ্গত,সাগরবাড় গ্রাম পঞ্চায়েত কংগ্রেসের শক্তিঘাঁটি হিসাবে যেমন পরিচিত তেমনই সুরজিৎ বাবুর খাসতালুকও। ১৯৯৩-২০১৮ অব্দি একটানা ২৫ বছর কংগ্রেসের শাসন চলেছে এ এলাকায়। সুরজিৎ বাবু নিজেই পঞ্চায়েত প্রার্থী হিসাবে জিতে একটানা ৩৫ বছর রাজত্ব করেছে। তাছাড়া তিনি এই এলাকার ২০ বছরের প্রধান এবং একবারের উপপ্রধানও। শাসকদের তান্ডবের মধ্যে দাঁড়িয়েও এবারের গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৪ টি আসনের মধ্যে ৬ টি আসনে জয় লাভ করেছিল। যেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে ছটি এবং বামেদের তরফে দুটি আসন এসেছিল। সেই কংগ্রেসের সক্রিয় যোদ্ধাই স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করায় জোর ধাক্কা লাগলো অধীর-গড়ে।

এদিন মিটিং শেষে সুরজিৎ বাবু তাঁর দলপরিবর্তন প্রসঙ্গে জানান,এলাকার উন্নয়ন এবং বিজেপিবিরোধী লড়াই-এ যোগদান করতেই তিনি স্বেচ্ছায় তৃণমূলে নাম লেখালেন। নিজেদের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরতে শুভেন্দুবাবু বলেন,২০০৮সালের গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল নিরঙ্কুশভাবে ১১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল। জোটবদ্ধ ভাবে  তৃণমূলের দখলে এসেছিল ১৪৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ২০১৩ সালে ভোটেও এককভাবে ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২১৫টিতে তৃণমূলের ঝান্ডা উড়েছিল। এবারের পঞ্চায়েত ভোটেও তৃণমূল কংগ্রেস সাগরবাড়ে ২২০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের জায়গায় রয়েছে। ২০১৩সালে সুতাহাটা ছাড়া ২৪টি পঞ্চায়েত সমিতিই তৃনমূলের দখলে এসেছিল। এবার ২৫টি পঞ্চায়েত সমিতির সবকটিই তৃণমূলের দখলে এসেছে। ২০১৩সালে ৬০টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে  ৫৪টি আসন তৃণমূলের দখলে এসেছিল। এবারে আমরা ৬০টিতেই জয় হাসিল হয়েছে। এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে ফলে ক্রমশ উন্নয়নের সুফলটা আসছে শিবিরে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস এই জেলায় আরও শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া সুরজিৎবাবুর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”সুরজিৎবাবু যে কোনও দলের সম্পদ। আমি ওঁকে অনেকদিন ধরে দলে আনার চেষ্টা করেছিলাম। সম্প্রীতির মেলবন্ধনের কাজে অত্যন্ত দক্ষ সুরজিৎবাবুকে পেয়ে আজকে আমাদের আশা পূরণ হয়েছে। আমি আজ অত্যন্ত খুশি।” তবে এ ব্যাপারে জেলার কংগ্রেসশিবির থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!