এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > শুভেন্দু গড়ে এগিয়ে কে? বিজেপি নাকি তৃনমূল? কি আছে অধিকারীর গড়ের ভাগ্যে!

শুভেন্দু গড়ে এগিয়ে কে? বিজেপি নাকি তৃনমূল? কি আছে অধিকারীর গড়ের ভাগ্যে!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – একসময় বিগত বাম আমলে নন্দিগ্রামের মাটি থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই নন্দীগ্রাম তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হলেও, বেশ কিছুদিন ধরেই সেখানে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দলের একটা বিরুদ্ধ গোষ্ঠী সেখানে মাথা তুলতে শুরু করেছে। আর তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর গন্ডগোলে এবার মাঠে নামতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। যার ফলে শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপি মাথা তুললে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এখানকার পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2011 সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হয়েছিলেন ফিরোজা বিবি।

পরবর্তীতে 2014 সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিধায়ক হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী 80 হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। অন্যদিকে তার ছেড়ে যাওয়া তমলুক লোকসভা উপনির্বাচনের প্রায় 1 লক্ষ 40 হাজার ভোট পেয়েছিলেন তার ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। তবে গত 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের অনেকটাই লিড কমে যায়। প্রায় 68 হাজারের মত লিড পায় শাসক দল। যেখানে বিজেপির ভোট 2016 সালে 10 হাজারের কিছু বেশি থাকলেও, এক লাফে 2019 সালে তা বেড়ে হয় 62 হাজার এর বেশি। সেদিক থেকে নন্দীগ্রাম তৃণমূলের একসময় শক্ত ঘাঁটি থাকলেও, এখানে গত লোকসভা নির্বাচন থেকে যে তৃণমূলের ভোট যে কমতে শুরু করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আর এখানেই প্রশ্ন, তাহলে শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটিতে আগামী দিনে কাদের প্রভাব বৃদ্ধি হতে চলেছে? জানা গেছে, তেমন ভাবে সাংগঠনিক কোনো দায়িত্ব না পাওয়ার কারণে শুভেন্দু অধিকারী দল এবং সরকার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূলের বাইরে বেরিয়ে পোস্টার ছাড়া সব রকম জনসংযোগে শামিল হতে দেখা যাচ্ছে তাকে। তাই এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ছে অনুভব করে বিজেপি এখানে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

একাংশ বলছেন, আমপান সহ বিভিন্ন বিষয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বড়সড় কোন সাংগঠনিক দায়িত্ব না পাওয়ার পর সেভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। উল্টে নানা মহলের তরফ থেকেই দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও তার কোনো জবাব দিতে দেখা যায়নি রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীকে। যার ফলে জল্পনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এককালে যে নন্দীগ্রাম তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখানে এখন যেভাবে বিজেপি শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে, তাতে বিজেপি যে পরিবর্তনের কথা বলছে, তা কি আবার সেই নন্দীগ্রামের মধ্যে দিয়েই সূচনা হবে, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে।

এদিন এই প্রসঙ্গে তমলুকের বিজেপির জেলা সাংগঠনিক সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, “তৃণমূলের নেতারা খালি আমি আমি করেন। তারা কেউ আমরা আমরা করেননি। সেটাই মানুষ এত দিনে ধরতে পেরেছে। তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপিকে সমর্থন করছে।” অন্যদিকে এই ব্যাপারে তৃনমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য অন্য যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় তৃণমূলের চেয়ারম্যান মেঘনাথ পাল বলেন, “নন্দীগ্রামে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক অটুট আছে। বামেদের ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে। তাতেই গেরুয়া শিবির লাফালাফি করছে। তবে তৃণমূলের ভোটে বিজেপি থাবা বসাতে পারেনি।”

কিন্তু তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে কথাই বলা হোক না কেন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি নিয়ে যেমন জল্পনা বাড়ছে, ঠিক তেমনই নন্দীগ্রামে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মাঝে যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ভারতীয় জনতা পার্টি, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে সকলের কাছেই। সব মিলিয়ে এবার নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইভাবে বিজেপির উত্থান তৃণমূলকে কতটা চাপে রাখে এবং তার ফলে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!