এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > শুভেন্দুর পর তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী! অস্বস্তি তুঙ্গে!

শুভেন্দুর পর তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী! অস্বস্তি তুঙ্গে!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বহুদিন আগে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও সেভাবে দলের কোনো কর্মসূচিতে থাকতে দেখা যাচ্ছিল না তাকে। বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দলে ঠিকমতো গুরুত্ব না পাওয়ার কারণে চুপচাপ নীরবে নিভৃতে বসেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বিজেপি তাকে ময়দানে নামতে শুরু করেছে।

একের পর এক জনসভায় মিটিং, মিছিলে উপস্থিত হচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। আর এবার বৃহস্পতিবার রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর 2 ব্লকের সভায় উপস্থিত হয়ে নিজের প্রাক্তন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রীতিমত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সেই শোভন চট্টোপাধ্যায়। যেখানে রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায় সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গেল তাকে।

সূত্রের খবর, এদিন রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর 2 ব্লকে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি সভার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই উপস্থিত হন বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সভাতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের প্রাক্তন দল সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে 10 বছর আগে সিপিএমের কাছ থেকে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে তৃণমূল এক অভিনেত্রীকে ভোটের টিকিট দিয়েছিল। তাকে জেতিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু ভোটে জেতার পর থেকে আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি দেবশ্রী রায়। মানুষ একবার ক্ষমা করে। দুবার ক্ষমা করে না। তাই আমাকে এখন ক্ষমা চাইতে হচ্ছে। যাকে বুকের পাঁজরের মত তৈরী করেছিলাম, আজ সে পথ হারিয়েছে।”

অনেকে বলছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের দুর্দিনের সঙ্গী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন লড়াই, আন্দোলন করেছিলেন, তখন তার সঙ্গে নিত্যসঙ্গী থাকতে দেখা যেত এই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। এমনকি একসময় দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী এবং কলকাতা পৌরসভার মেয়র ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তবে মাঝে তৃণমূলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ তৈরি হয়। আর এর পরেই দলবদল করেন তিনি।

কিন্তু সেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে সক্রিয়ভাবে ময়দানে নামতে যেভাবে নিজের প্রাক্তন দলকে পথ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন, তাতে তৃণমূলের অস্বস্তি দ্বিগুণ ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি যেভাবে রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায় সম্পর্কে কটাক্ষ করলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, তাতে বিজেপি বাড়তি অক্সিজেন পেল বলেই মত একাংশের।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে এদিনের সভা থেকে রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের বিরুদ্ধে টোটো দুর্নীতি নিয়েও সরব হন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গরিব মানুষদের থেকে টোটো দেওয়ার নাম করে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছিল। কেউ পায়নি, অভিযোগ ওঠার পরেও তৃণমূল কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মানুষ এদের ক্ষমা করবে না। আমি সিপিএম, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আপনাদের কাছে বারবার এসেছি। এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছি। আপনারা সঙ্গে থাকুন।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন একদিকে শুভেন্দু অধিকারী আরেকদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায় যেভাবে একের পর এক সভা থেকে তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন তাতে ঘাসফুল শিবির এখন প্রবলভাবে অস্বস্তির মুখে। বহুদিন আগে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদান করার পর তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আর এবার বিজেপিতে বহুদিন আগে যোগদান করলেও ময়দানে নেমে একের পর এক প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই তার রায়দিঘির এদিনের এই সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে সমস্ত কটাক্ষ করা হয়েছে, তা যে ঘাসফুল শিবিরকে ব্যাপকভাবে বেকায়দায় ফেলে দিল, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!