এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > নারদকাণ্ডে তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী’ ইডির মুখোমুখি হতেই চাপ বাড়ল আরেক দাপুটে বিজেপি নেতার?

নারদকাণ্ডে তৃণমূলের ‘প্রভাবশালী’ ইডির মুখোমুখি হতেই চাপ বাড়ল আরেক দাপুটে বিজেপি নেতার?



নারদ তদন্তে আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জার গ্রেপ্তারের ঘটনার পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নারদ স্টিং অপারেশন প্রকাশিত হয় 2016 সালে। আর সেই অপারেশনের ভিডিও থেকেই ঘুষ কাণ্ডে জড়িত একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে আইপিএস অফিসার এস এম এইচ মির্জার নাম সামনে আসে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছাড়া এক মাত্র পুলিশ অফিসার এসএমএইচ মির্জাকে ঘুষ নিতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।

আর মির্জার গ্রেপ্তারির পরেই নারদা তদন্তে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের‌ চাপ বাড়তে থাকে। কেননা মির্জা অভিযোগ জানিয়েছেন, তিনি নাকি মুকুল রায়ের নির্দেশেই ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথুর কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে তা মুকুল রায়কে হস্তান্তরিত করেন। আর তারপরেই মির্জার মুখোমুখি বসিয়ে মুকুল রায়কে জেরা করা হয়। এমনকি মির্জাকে সঙ্গে নিয়ে মুকুল রায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ভিডিওও করা হয়।

আর তারপর থেকেই জল্পনা, নারদকাণ্ডে কি সিবিআইয়ের চার্জশীটে মুকুল রায়ের নাম থাকবে? আর এইসব জল্পনার মাঝেই চাপা পরে গেছে, নারদ কাণ্ডে আরেক হেভিওয়েট নেতার চাপে পরে যাওয়ার কথা। নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিওতে তোয়ালেতে মুড়ে তৎকালীন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। তাঁকে এরফলে জেরার মুখেও পড়তে হয় – সেই জেরায় শোভনবাবু জানান, তাঁর টাকা সংক্রান্ত সব ব্যাপার দেখেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ফলে, রত্নাদেবীকেও জেরার মুখে পড়তে হয়। এদিকে, শোভনবাবুর সঙ্গে রত্নাদেবীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হয়। দুজনের মধ্যে ডিভোর্সের মামলাও চলছে। এই পরিস্থিতিতে শোভনবাবু সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। আর মির্জার গ্রেপ্তারির পরে এবার নারদ কান্ডে প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় ইডির দপ্তরে হাজিরা দিলেন। মূলতঃ তাঁর স্বামীর অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্যই তাকে ডেকে পাঠানো হয় তদন্তের জন্য।

সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগেই রত্নাদেবীকে নোটিশ ধরিয়েছিল ইডি। সেই মতো গত সোমবার রত্না চট্টোপাধ্যায় ইডির দপ্তরে হাজির হন। এর আগেও রত্না চট্টোপাধ্যায়েরকে জেরা করে তদন্তে সাহায্যকারী বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল। সূত্রের খবর, নারদা স্টিং অপারেশনের ভিডিওয় যে টাকার কথা বলা হয়েছিল সেই টাকা কিভাবে হস্তান্তর হয়েছে? বা টাকা কি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিজে রাখেন না তার স্ত্রীর হাতে দিয়ে দেন? এরকম নানা প্রশ্ন নিয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে আবার নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি।

এর আগে অবশ্য টাকা-পয়সা সংক্রান্ত ব্যাপারে রত্নাদেবীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনেছিলেন শোভনবাবুর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, রত্নাদেবী প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন শোভনবাবু বৈশাখীদেবীর পরামর্শেই নারদ কাণ্ড থেকে বাঁচার জন্য ডিভোর্স চাইছেন। কিন্তু, তিনি সেই ডিভোর্স তো দেবেনই না, উল্টে নারদ কাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতাও করবেন বলে জানিয়েছিলেন। যেখানে শোভনবাবু ও রত্নাদেবীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক তলানিতে, সেখানে ইডির মুখোমুখি হয়ে তিনি ঠিক কি বলেছেন তাই নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ত্ব তৈরী হওয়ার পর, শোভনবাবুর ওয়ার্ডের দায়িত্ব রত্নাদেবীর হাতে তুলে দেয় তৃণমূলের থিঙ্কট্যাঙ্ক। অন্যদিকে রত্নাদেবীর বাবা তথা মহেশতলার তৃণমূল বিধায়কও নিজের মেয়ে-জামাইয়ের লড়াইয়ে ছেড়ে কথা বলবেন না বলে জানান। আর তাই সব মিলিয়ে যখন নারদ কাণ্ডে সিবিআই গ্রেপ্তারি শুরু করেছে, তখন তৃণমূল নেত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের ইডির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা বাড়ছে। এই জেরার পরবর্তীতে শোভনবাবুকে নিয়ে ইডি বা সিবিআই কি সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!