এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > সোমেনের সভাপতি হতেই অনুগামীদের ‘ফতোয়া’ জারি, ক্ষোভ ছড়াচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরে

সোমেনের সভাপতি হতেই অনুগামীদের ‘ফতোয়া’ জারি, ক্ষোভ ছড়াচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরে



অধীর চৌধুরীর জায়গায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কু্র্সিতে বসলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র। আর তাঁর দায়িত্বে আসার দিনই বিতর্ককে উসকে দিয়ে ক্ষুব্ধ পরিস্থিতি তৈরি হল দলীয় অন্দরেই। সোমেন বাবু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে আসার পর সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল কংগ্রেসের তরফ থেকে। সেখানেই সোমেনবাবুর অনুগামীরা ঝাঁকে ঝাঁকে এতো ভীড় জমালেন যে মঞ্চে জায়গা হল না অধ্যাপক কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্রের। সাংবাদিকদের সামনেই ওমপ্রকাশ বললেন,”সোমেন দা কাদের নিয়ে চলবেন সেটা নিজেই ঠিক করুণ।” এক কংগ্রেস নেতার মুখে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির উদ্দেশ্যে এই বার্তা স্বাভাবিকভাবে দলীয় অন্দরেই মতানৈক্যের ভীত তৈরি করে দিল। মুখে সবার হাতে হাত রেখে চলার বার্তা দিলেও আদতে সেটা কতোখানি ফলপ্রসূ হবে সেটাই এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।

আর এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার লেবেল লাগিয়েই একরকম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে অধীর চৌধুরীকে অপসারণ করেছেন রাহুল গান্ধী। লোকসভা ভোটের আগে দলীয় অন্দেরে সব ত্রুটি গুলো মেরামত করে সংগঠন মজবুত করার আসায় সোমেন মিত্রকে এনেছেন সভাপতি পদে। কিন্তু তাঁর কুর্সিতে বসার দিনই দলীয় এক হেভিওয়েট নেতার অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল। সোমেন বাবুর অনুগামীদের উচ্ছ্বাসের দরুণ তিলধারণের যায়গাটুকু ছিল না মঞ্চে। সবুজ আবীরের হোলি খেলা হচ্ছিল যেন। স্থানীয়রা এগুলো দেখে কটাক্ষ করতেও পিছপা হলেন না। প্রশ্ন ছিল তাঁদের-আদেও কি কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে? উচ্ছ্বাসে সোমেন বাবুর অনুগামীরা এতোটা মত্ত ছিলেন যে রীতিমতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সাংবাদিক বৈঠকে। এক অনুগামী তো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেই ফেললেন যে মিডিয়াকে নাকি বৈঠকে ডাকাই হয়নি।

কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা ওমপ্রকাশ বিকালেই চলে আসনে সাংবাদিক বৈঠকে। তাঁর কপালে থাকা সবুজ আবীরে নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমেন অনুগামীদের সঙ্গে তিনিও মঞ্চে উঠতে চাইলে সরাসরি বাঁধা দেন এক অনুগামী। তাঁর মঞ্চে কোনো জায়গা নেই বলেও অপমান করা হয়। ওমপ্রকাশ বাবুর কথায়,”একটা গুন্ডা টাইপের লোক বললেন, আপনি ঢুকতে পারবেন না। আমি যদি ঢুকতে না পারি তাহলে কে পারবেন বুঝতে পারলাম না।” এ কথার প্রেক্ষিতে পাল্টা দিতে ওমপ্রকাশ বাবু বলেন,মঞ্চে ওঠার কোনো সদিচ্ছা তাঁর ছিল না। তিনি শুধু সোমেন বাবুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাতে ওঁনার দপ্তরে এসেছিলেন। এ কথা সাংবাদিকদের বলেই তিনি সটান বেরিয়ে যান। তবে সোমেন বাবু গোটা বিষয়টিই জানেন,তবুও এ ব্যাপারটা এড়িয়ে গিয়েছেন এমনটাই মনে করছেন ওমপ্রকাশ বাবু। জানালেন,সোমনে মিত্রের সঙ্গে কুড়ি বছর আগেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কাজ করেছেন তিনি। সোমেন বাবু হয়তো জানেন না। এখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিই ঠিক করবেন কাদের প্রশ্রয় দেবেন তিনি। একথা বলে তিনি সাফ কথায় বুঝিয়ে দিলেন সোমেন বাবুর অনুগামীদের নিয়ে তাঁর অসন্তোষের জায়গা রয়েছে। এখন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে নাকি নতুন সভাপতি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মোকাবিলায় সফল হবেন সেটার পেছনেই প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে আপাতত!

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!