এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > শুভেন্দু পদ থেকে সরতেই তীব্র উত্থান অভিষেকের? ‘টিকে থাকতে’ দ্রুত শিবির বদলাতে ব্যস্ত নেতারা?

শুভেন্দু পদ থেকে সরতেই তীব্র উত্থান অভিষেকের? ‘টিকে থাকতে’ দ্রুত শিবির বদলাতে ব্যস্ত নেতারা?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – ভাগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, “পরিবর্তনটাই সংসারের নিয়ম।” আর এই নিয়ম মেনেই বদলায় জীবন, বদলায় পরিবেশ পরিস্থিতি, বদলায় সমাজ পরিবেশ। রাজনীতির ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে আসে বদল। বদলায় মন্ত্রী, বদলায় নেতা, কখনো বদলায় দলের ওপর দলের নেতা। এর ফলে কেউ আনন্দিত হন কেউ বা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কেউ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করেন, কেউ বা চিন্তাভাবনা শুরু করে দেন দলবদলের ব্যাপারে।

প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক থেকে অপসারিত করা হল রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। পরিবহন মন্ত্রীর এই পদ থেকে থেকে অপসারণের ফলে মুর্শিদাবাদের রাজনীতির ক্ষেত্রেরও অনেকটা পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। দলীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে পরিবহন মন্ত্রীর ছবি আটা হোর্ডিং, ব্যানার এমনকি পরিবহন ঘনিষ্ঠ জনেরা যারা এতকাল যাবৎ গণ্যমান্য বলে বিবেচিত হতেন, আজ তাঁরাও অনেকটাই ফিকে হয়ে পড়েছেন।

মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক পদে থাকাকালীন মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতির চালিকাশক্তির বেশিটাই পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে ন্যস্ত ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলার বহু নেতৃবৃন্দ, যাঁরা অনেকেই তাকে সমীহ করতেন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক রদবদলের পর্যবেক্ষণ পদ থেকে অপসারণের ফলে মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিবহনমন্ত্রী আজ আরো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নন, বর্তমানে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছেন যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর প্রসঙ্গে জনৈক মুর্শিদাবাদ তৃণমূল নেতার মন্তব্য, ‘‘এত দিন যাঁরা শুভেন্দুর কাছাকাছি ছিলেন এই অবস্থায় তাঁরা দু’চারবার শুভেন্দু অধিকারীকে যে ফোন করেননি এমন নয়। কিন্তু অন্য প্রান্তে ফোন অবিরাম বেজে গিয়েছে। ফলে মানসিক চাপে পড়ে শিবির বদলের চেষ্টা শুরু হয়েছে।’’

এতকাল পর্যন্ত পরিবহন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের দলে যথেষ্ট ক্ষমতা ছিল, কিন্তু আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের ওপর থেকে পরিবহন মন্ত্রীর আশীর্বাদ সরে পড়ায় তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই দলের ভেতর থেকে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন পরিবহন মন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন ।

পর্যবেক্ষকের পদ থেকে পরিবহন মন্ত্রীর অপসারণের পর হতাশার সঙ্গে মোশারফ হোসেন মন্তব্য করেছেন, “শুভেন্দু অধিকারী যাওয়ার পর জেলায় তাঁর অভাব বোধ করছি।” অন্যদিকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবহন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মোশাররফ হোসেনকে নানাভাবে অভিযুক্ত করলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রাজিব হোসেন।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে বলতে শোনা গেল, “সভাধিপতি স্বাধীন ভাবে জেলাপরিষদ চালাতে গিয়ে আমাদের গুরুত্বহীন করে ফেলেছেন। কিছু বললেই এত দিন তিনি পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়েছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।’’

তাঁর এই বক্তব্যের পর অংশ তিনি কিছুটা অবশ্য কিছুটা নিজের সুর নরম করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘‘শুভেন্দুদার বিরুদ্ধে বদনাম করা হচ্ছে বোঝাতেই ওঁর নাম নিয়েছি।’’ অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বলেছেন,  “জেলা পর্যবেক্ষক হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী ভাল কাজ করেছেন। এখন তিনি দায়িত্বে নেই। তা নিয়ে অনেকে হতাশ। তবে সেটা এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। দল সংঘবদ্ধ ভাবেই কাজ করছে।”

এদিকে রাজনৈতিক গুরুত্ব বদলের সঙ্গে সঙ্গেই মুর্শিদাবাদ জেলার দলীয় তৃণমূল পার্টি অফিস গুলি থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ জেলার নানা স্থানে ঝোলানো ফেস্টূুন কিংবা ব্যানার থেকে পরিবহন মন্ত্রীর নাম মুছে যাচ্ছে। সেই স্থানে উঠে আসছে যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। যদিও মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো ছাড়া অন্য কোন নেতা-নেত্রীর ব্যানার ব্যবহার সম্পর্কে কড়া নিষেধ আছে তৃণমূল দলে, তবুও বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী ছবি নতুন করে দেখা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের স্থানে স্থানে ।

আগে এরকম বড় বড় ছবির নিচে লেখা থাকতো, ” সৌজন্য, টাউন তৃণমূল সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়।” কিন্তু এখন সেক্ষেত্রে শুধু লেখা থাকছে, ” সৌজন্য, নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়!” অর্থাৎ, পদের নাম কিন্তু পুরোপুরি উধাও। এ প্রসঙ্গে নাড়ু গোপাল বাবু জানিয়েছেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল করি। জোড়া ফুল চিহ্ন আমাদের প্রতীক। জেলায় এখন কোন পর্যবেক্ষক নেই। তাই শুভেন্দুদার ছবির বদলে যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর মূল দলের নেতা সুব্রত বক্সর ছবি টাঙানো হয়েছে সেই বার্তা দিতেই।” এর সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সরে যেতে আরম্ভ করেছে দলীয় কার্যালয়, রাস্তার মোড়, জেলা নেতাদের বাড়ি সমস্ত জায়গা থেকে।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী ও সেইসঙ্গে কৃষি কর্মাধ্যক্ষ শাহনাওয়াজ বেগম অবশ্য মুর্শিদাবাদের এই রাজনৈতিক বদলটিকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, “দল বদল করে যে দিন তৃণমূলে এসেছিলাম সে দিন শুভেন্দুদা পর্যবেক্ষক ছিলেন তাই তাঁর হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়েছিলাম। সে দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে তাঁর হাত থেকেই নিতাম!’’

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!