এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > শান্তনুকে নিয়ে শঙ্কার মেঘ গেরুয়া আকাশে, চিন্তার ভাঁজ বিজেপির কপালে

শান্তনুকে নিয়ে শঙ্কার মেঘ গেরুয়া আকাশে, চিন্তার ভাঁজ বিজেপির কপালে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গেরুয়া শিবির থেকে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতুয়াদের ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের করে নিয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পর দেড় বছর কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি গেরুয়া শিবির। দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে চলছে জলঘোলা। আর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নাগরিকত্ব আইন কার্যকর না হওয়ায় খুব স্বাভাবিকভাবেই এবার মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং সেই ক্ষোভের সামনাসামনি হতে হচ্ছে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে।

এই নিয়ে চাপানউতোর বাড়তেই সামনে আসছে শান্তনু ঠাকুরের বিজেপি ছাড়ার প্রসঙ্গটি, যা গেরুয়া শিবিরের চিন্তা বাড়াচ্ছে। গেরুয়া শিবিরে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন শান্তনু ঠাকুরকে নিয়ে। প্রকাশ্যেই বর্তমানে শান্তনু ঠাকুর নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন বর্তমানে। যদিও কৈলাস বিজয়বর্গীয় শান্তনুর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কিছু সময়ের জন্য শান্ত করে এসেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির যে বিন্দুমাত্র বদল হয়নি, তা আবারও বোঝা যাচ্ছে। অন্যদিকে সম্প্রতি বনগাঁয় গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বলে এসেছিলেন, মতামতের জন্য আলাদা করে কোনো নাগরিকত্বের প্রয়োজন নেই, তাঁরা এই রাজ্যেরই নাগরিক।

খুব স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মতুয়াদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলে দিয়েছে। আর তারপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর কি আদৌ গেরুয়া শিবিরে থাকবেন? সুযোগ বুঝে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর নাগরিকত্ব আইন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোকসভা নির্বাচন জিতেছিলেন। এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিন্দুমাত্র উচ্চবাচ্য করেনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই শান্তনু ঠাকুরকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তনু ঠাকুর তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তাঁকে শান্ত করতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় তাঁর বাড়িতে গিয়ে শান্তনুকে বলে আসেন জানুয়ারি মাস থেকে নাগরিকত্ব আইন চালু হবে। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহ রাজ্য সফরে এসে ঘোষণা করেন, করোনার টিকা দেওয়া শুরু হবার পরেই এনআরসি চালু করার কথা ভাববে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এখানেই শুরু হয়েছে যাবতীয় সমস্যা। কারণ করোনার টিকা কবে থেকে দেওয়া শুরু হবে, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। পাশাপাশি করোনার টিকা দেওয়া শুরু হওয়া মাত্রই একই দিন থেকে যে নাগরিকত্ব আইন চালু হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। যথারীতি সবমিলিয়ে শান্তনু ঠাকুরের বিপন্নতা মতুয়াদের কাছে বেড়েই চলেছে।

পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে শান্তনু ঠাকুর যেকোনো দিন দল ছাড়তে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় অবশ্য গেরুয়া শিবিরের একাংশ দাবি করেছেন, এরকম কোনো আশঙ্কা নেই। শান্তনু ঠাকুর কৈলাস বিজয়বর্গীয় হাত ধরেই গেরুয়া শিবিরে প্রবেশ করেছেন। তাই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয় কথা বলে পরিস্থিতি সামলেছেন। তবে শান্তনু ঠাকুর যার সাথেই কথা বলুক না কেন আসলে যে তাকে মতুয়াদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে সে ব্যাপারে একমত রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে কিন্তু শান্তনু ঠাকুর পিছিয়ে পড়ছেন আর তাই চিন্তিত হয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। কারণ শান্তনু যদি দলবদল করে যথারীতি মতুয়ারাও একই সাথে চলে যাবে তৃণমূল শিবিরে।

ফলস্বরূপ, ব্যাপক প্রভাব পড়বে বিজেপির ভোট ব্যাংকে। বনগাঁ ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন মতুয়ারা। সবমিলিয়ে যদি মতুয়াদের ভোটব্যাঙ্ক হারাতে হয় তাহলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় গেরুয়া শিবির বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে। আপাতত শান্তনু ঠাকুরকে নিয়ে এখন রীতিমতন চিন্তার ভাঁজ বিজেপির কপালে। তবে গেরুয়া শিবিরের একাংশের মত, শান্তনু তৃণমূলে যাবার মতন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!