এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > শাহিনবাগ কাণ্ডে নয়া মোড়! বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে এল পুলিশ! শুরু রাজনৈতিক জল্পনা!

শাহিনবাগ কাণ্ডে নয়া মোড়! বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে এল পুলিশ! শুরু রাজনৈতিক জল্পনা!



নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী 8 ই ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল বেরোবে 11 ই ফেব্রুয়ারি। আপাতত রাজধানীতে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাজসাজ রব। কিন্তু তার মধ্যেই যে ঘটনাটি চাঞ্চল্য জাগিয়েছে, সেটি হলো শাহীনবাগের সামনে দাঁড়িয়ে কপিল গুজ্জর বলে এক ব্যক্তি বন্দুক উঁচিয়ে গুলি করে এবং তারপর তার মুখে জয় শ্রীরাম ধ্বনি শোনা যায়। রাজনৈতিক মহলে প্রত্যেকেই প্রায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রকাশ করেন। দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত রাজধানী।

হাতে মাত্র আর তিনদিন। কিন্তু তার আগেই কপিল গুজ্জরের ঘটনা সামনে আসায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, বিজেপির শিবিরেও অস্বস্তি স্পষ্ট। কারণ, শাহীনবাগে বন্দুকধারী কপিল গুজ্জর ঘটনার দিন ক্যামেরার সামনেই জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়ায় প্রত্যেকেই ধরে নেয় যে সে একান্তভাবেই একজন বিজেপি সমর্থক। এবং এই ঘটনায় বিরোধী দল থেকে প্রত্যেকেই বিজেপির দিকে তীব্র আক্রমণ করে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকার গুন্ডা লেলিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ এদিন অন্যরকম দাবি করেছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কপিল গুজ্জর আদতে আপ সমর্থক।

তবে দিল্লি পুলিশ শুধুমাত্র হাওয়ায় কথা ভাসিয়ে দেয়নি। তাঁরা হাতে যথেষ্ট প্রমাণ রেখে এই দাবি করেছে। এদিন কপিল গুজ্জরের কয়েকটি পুরনো ছবি প্রকাশ করে দিল্লী পুলিশ। এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে গত এক বছর আগে রীতিমত আপের বিশিষ্ট নেতা অতিশি সঞ্জয় সিং, মনীশ সিসোদিয়ার মত বিশিষ্ট নেতাদের সামনেই কপিল গুজ্জর আপের সমর্থক হিসেবে দলে যোগ দিচ্ছেন। এই ঘটনা সামনে আসতে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।

অন্যদিকে, দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে জানিয়েছে, কপিল গুজ্জরের ফোন দিল্লি পুলিশের হাতে আসে এবং সেই ফোন ঘাঁটার ফলে বেশকিছু ছবি পাওয়া গেছে। যার মধ্যে এই ছবিগুলি পায় পুলিশ। এছাড়াও কপিল নিজেও জানিয়েছে যে সে এবং তাঁর বাবা এক বছর আগে আপ দলে যোগদান করেছে। উপরন্তু কপিল আরও জানায়, 2008 সালে এবং 2012 সালে যথাক্রমে জংপুরা এবং প্রতাপগঞ্জ থেকে বসপার হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন কপিলের বাবা। কিন্তু তিনি কোথাও জয়লাভ করতে পারেননি। তারপর বসপা ছেড়ে তিনি ছেলে কপিলকে নিয়ে আপ দলে যোগ দেন।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশের হাতে কয়েকটি তথ্য উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ঘটনার দিন কপিল গুজ্জর একটি বাইকে চেপে দিল্লি নয়াদিল্লি এক্সপ্রেস ওয়ে হয়ে মহারানি বাঘ এবং হলি ফ্যামিলিতে আসে। সেখানে বাইক থেকে নেমে পিস্তল গুছিয়ে শাহীনবাগের দিকে পা বাড়ায় কপিল। সেদিন কপিলের সাথে সার্থক নামে এক ব্যক্তি ছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁর খোঁজ করে তদন্তে যুক্ত করেছে। সম্পূর্ণ প্রমান সিসিটিভির মাধ্যমে পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে সম্পূর্ণ ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি। আপের পক্ষ থেকে যেখানে শাহীনবাগ আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আপ সমর্থক হয়ে কপিল গুজ্জর কেন এই আন্দোলনে গুলি চালাতে গেল ? তবে পয়লা ফেব্রুয়ারির ভিডিও থেকে স্পষ্ট, কপিল গুজ্জর গুলি চালানোর পর সবার সামনে জয় শ্রীরাম বলে উচ্চস্বরে চিৎকার করেছিল। তাই রাজধানীর রাজনৈতিক মহল থেকে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টাকে অস্বীকার করা যাচ্ছেনা।

গত একমাস ধরে শাহীনবাগে সংখ্যালঘু মহিলারা একযোগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় শতাধিক মহিলা এই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই বিক্ষোভের ফলে দিল্লি শহরের ব্যস্ততম এলাকায় যানজট তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন, শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার। তবে কপিল গুজ্জর আপ এর সমর্থক হওয়ায় এবার অন্যরকম সুরে কথা বলবে কেন্দ্রীয় দল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ। আপাতত সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!