এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > সরকারি আধিকারিককে পেটানোর হুমকি, গ্রেপ্তার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, জোর শোরগোল!

সরকারি আধিকারিককে পেটানোর হুমকি, গ্রেপ্তার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, জোর শোরগোল!



ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দল এবং প্রশাসনকে পৃথকভাবে চালানোর কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্দেশ দিলেও, বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, তৃণমূল নেতারা প্রশাসনের আধিকারিকদের ওপর তাদের দাপট বজায় রেখেছেন। যার কারণে দলতন্ত্র থেকে বের হতে গিয়েও বারবার ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা। এবার ধুপগুড়ির বিডিও এবং বিএলএলআরওকে পেটানোর হুমকি দিয়ে শোরগোল ফেলে দিলেন বানারহাট তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ কায়েশ।

যদিও বা সেই যুব তৃণমূল নেতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা যায়, গত শুক্রবার ধুপগুড়ির বানারহাট থানার চামুর্চি নদীতে বেআইনিভাবে বালি, পাথর তোলা বন্ধ করতে একটি অভিযান চালান বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস এবং বিএলএলআরও প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্য। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সরকারি আধিকারিকরা এখানে তাদের কাজ করতে গেলেও, তাদেরকে চরমভাবে হেনস্থা করেন যুব তৃনমূলের নেতা মহাম্মদ কায়েশ বলে অভিযোগ ওঠে।

আর এরপরই সন্ধ্যায় বিডিও এবং বিএলএলআরও সেই তৃণমূল নেতার নামে বানারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বভাবতই একজন তৃণমূল নেতা প্রশাসনের আধিকারিকদের এভাবে হুমকি দেওয়ায় এখন নানা মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। অনেকে বলছেন, নিঃসন্দেহে সেই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে প্রশাসন রং না দেখার বার্তা দিয়েছে। তা অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কেন! কেন প্রশাসনের আধিকারিকদের শাসক দলের নেতাদের দ্বারা হুমকি, হুঁশিয়ারি শুনতে হবে!

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জনগণের মনে। এদিন এই প্রসঙ্গে বিডিও শঙ্খদ্বীপ দাস বলেন, “কিছুদিন আগেই অভিযোগ আসছিল যে চামুর্চি নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি, পাথর তোলা হচ্ছে। এদিন বিকেলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তখন লরিতে বালি তোলা হচ্ছিল। আমাদের দেখে কয়েকটি ট্রাক পালিয়ে যায়। কিন্তু যেখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল, সেখানে কোনো পারমিট দেওয়া ছিল না। পরে একটি ট্রাকের মালিক ছুটে আসেন। ওই সময় আমাদের গাড়ি কয়েকজন ঘিরে ধরে। তাদের দুজন আমাদের খুন করার হুমকি দেয়। আমরা গাড়ি স্টার্ট করলে ওরা গাড়ি থামিয়ে দেয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমরা কোনরকমে সেখান থেকে চলে আসি।”

এদিকে এই ব্যাপারে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মোহাম্মদ কায়েশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএলএলআরও বলেন, “আমরা একটি লরির মালিককে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী 65 হাজার টাকা জরিমানা করি। কিন্তু আমাদের নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। বানারহাট থানার পুলিশের অভিযানের সময় না থাকলে ওরা আমাদের মেরেই ফেলত।” এদিকে গোটা ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন ধুপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক মিতালি রায়। এদিন তিনি বলেন, “সরকারী আধিকারিককে হেনস্তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে।” যদিও বা তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত তৃণমূল নেতা কায়েস মহম্মদের দাদা মহম্মদ জাফর আনসারি।

এদিন তিনি বলেন, “ভাই অফিসারদের হেনস্থা গালিগালাজ কোনোটাই করেনি। 65 হাজার টাকা জরিমানা দিতে পারবে না বলে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। ওকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।” কিন্তু যে যাই বলুন না কেন, নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতেই তৃণমূল এখন যে কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তা অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাতেই প্রমাণিত হয়ে গেল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। তবে সামনে নির্বাচন। তাই তৃণমূল এমনটা করছে। নির্বাচন চলে গেলেই আবার অপরাধীরাই বেশি প্রাধান্য পাবে বলে দাবি করছে সমালোচক মহল।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!