এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সর্বনাশ! শিশুরাই সবথেকে বেশি ছড়াচ্ছে করোনা? স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত কি আপাতত বিশ বাঁও জলে?

সর্বনাশ! শিশুরাই সবথেকে বেশি ছড়াচ্ছে করোনা? স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত কি আপাতত বিশ বাঁও জলে?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – যত দিন যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণ সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। করোনা আবহের প্রথম থেকেই দেশজুড়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ। আনলক পর্বে এবার স্কুল-কলেজ খোলার কথা শোনা যাচ্ছে। বেশকিছু রাজ্য ইতিমধ্যে স্কুল খুলেও দিয়েছে। কিন্তু এবার বিশেষজ্ঞদের দাবি অনুযায়ী, সুপার স্প্রেডার হিসেবে কিন্তু চিহ্নিত হচ্ছে শিশুরা। যে তথ্য সামনে আসার পরেই হইচই শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। অন্যদিকে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মতামত শোনা গেলেও করোনা সংক্রান্ত যে সমীক্ষার ফল সামনে এলো, তাতে কিন্তু এবার স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে আবারও নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে চলেছে সরকার।

এতদিন পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, শিশুদের মধ্যে করোনা ততটা সংক্রমণ ছড়াতে পারেনা। কিন্তু মঙ্গলবার আইসিএমআর এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গভ দাবি করেছেন, শিশুরাই কিন্তু ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য যে স্কুল খোলার পরিকল্পনা করেছে, সেই পরিকল্পনায় কিন্তু আইসিএমআর এর জেনারেলের বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম থেকেই বলা হয়েছে, স্কুল কলেজ খুলবে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবে প্রতিটি রাজ্য।

যেসব স্কুল ইতিমধ্যেই খুলে গেছে, সেখানে কিন্তু আইসিএমআরের দাবি যথারীতি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, করোনা ভাইরাসে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত কম। এমনকি সমীক্ষাতেও সেকথাই ধরা পড়েছিল। ভারতে 17 বছর বয়সের নিচে যারা, তাঁদের মধ্যে মাত্র 8% সংক্রমণের শিকার হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা 1 শতাংশেরও কম। তাহলে শিশুদের সুপার স্প্রেডার বলার যৌক্তিকতা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

সে ক্ষেত্রে আইসিএমআর এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গভ জানিয়েছেন, মিজোরামে কিন্তু করোনা সংক্রমণ অত্যন্ত কম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ওই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত 315 টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। যা গবেষকদের দাবি পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। তবে অন্যান্য দেশের মতো এদেশে শিশুদের মধ্যে করোনা এখনো পর্যন্ত কাওয়াসাকি ডিজিজ-এর রূপ নেয়নি। আমেরিকায় দেখা গিয়েছে, স্কুল খোলার পর এক ধাক্কায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যায়, বেশির ভাগই শিশু।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী জুলাই এর মাঝামাঝি স্কুল চালু হওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছে সে দেশে অন্তত এক লক্ষ শিশু পড়ুয়া। জুলাইয়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে 25 জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং শিশুদের মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রভাব ফেলতে পারে না বলে যে দাবী এতদিন করা হচ্ছিল, আমেরিকান অ্যাক্যাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের সমীক্ষার রিপোর্ট সে দাবি পুরোপুরি নস্যাৎ করছে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে দেখা গেছে, বিশাখাপত্তনমে স্কুল খোলার পর একই ক্লাসের 9 জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে। অতএব স্কুল খোলা হবে কি হবেনা, তা কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে স্কুল খুলে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। করোনা বর্তমানে তার ধাঁচ পাল্টেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেই অনুযায়ী এখন শিশুরাও করোনার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা কোনমতেই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!