এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সঙ্ঘই যে এখনও রাজ্য বিজেপিতে শেষ কথা – প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে আবার প্রমাণিত – বাড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

সঙ্ঘই যে এখনও রাজ্য বিজেপিতে শেষ কথা – প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরে আবার প্রমাণিত – বাড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ



আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা বহুদিন আগে ঘোষণা করে দিলেও বিজেপি কবে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছিল নানা জল্পনা। অবশেষে সমস্ত জল্পনা-কল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে গতকাল রাজ্যের 28 টি লোকসভা কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির।

তবে বিজেপির এই প্রার্থী তালিকায় সব থেকে বেশি দাপট রইল সেই সঙ্ঘঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই। তবে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে যে সমস্ত হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হাত ধরে সেই সমস্ত নেতা-নেত্রীদেরও নির্দিষ্ট আসনে প্রার্থী করে সন্তুষ্ট রেখেছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে টার্গেট করা বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর পক্ষ থেকে এই বাংলায় প্রার্থী হতে চেয়ে বহু ব্যক্তি আবেদন করেছিল। এমনকি তার মধ্যে রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতা নেত্রীদের অনেকেই ছিল। তবে সবাই যদি নির্বাচনে দাঁড়ায়, তাহলে দলের সংগঠনকে রক্ষা করবে তা নিয়ে সেই দলের প্রথম সারির নেতা নেত্রীদের নির্বাচনে লড়ার আশাকে কার্যত ভেস্তে দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল বিজেপির বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র গলায়।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল যখন বাংলার 28 টি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিজেপি, তখন তার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে রাজ্য বিজেপি সংগঠনের দায়িত্ব সামলানো শীর্ষস্তরের নেতা-নেত্রীদের। যেমন মেদিনীপুরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দমদমের শমীক ভট্টাচার্য, উত্তর কলকাতায় রাহুল সিনহা, বসিরহাটের সায়ন্তন বসু, রায়গঞ্জে দেবশ্রী চৌধুরী এবং হুগলিতে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেত্রীকে টিকিট দিয়েছে গেরুয়া শিবির।

একইভাবে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারী কোচবিহারের নিশির প্রামাণিক, মালদহের সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া খগেন মুর্মুকেও এবার টিকিট দিয়েছে বিজেপি। তুই বিজেপির গতকালের প্রকাশিত ওই প্রার্থী তালিকায় সব থেকে বেশি দাপট দেখা গেছে আরএসএস ঘনিষ্ঠ কর্তাব্যক্তিদেরই‌। যেমন উত্তরবঙ্গের বিজেপির ক্ষেত্রে সেফ সিট হিসেবে পরিচিত বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বিভিন্ন ব্যক্তি লড়বেন বলে জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত এখানে প্রার্থী করা হয় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা দীর্ঘদিনের সংঘের কার্যকর্তা হিসেবে পরিচিত সুকান্ত মজুমদারকে।

পাশাপাশি বারাসাতে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন পেশায় চিকিৎসক এবং সংঘের সাথে যুক্ত মৃনালকান্তি দেবনাথ। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ারে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা জন বার্লা, জলপাইগুড়িতে জয়ন্ত রায়, মালদহ দক্ষিণে শ্রীরুপা মিত্র চৌধুরী, জয়নগরে অশোক কান্ডারী, মথুরাপুরে শ্যামাপ্রসাদ হালদার, বীরভূমে দুধ কুমার মন্ডল, তমলুকে সিদ্ধার্থ নস্কর, ঝাড়গ্রামে কুঁয়ার হেমব্রম, আরামবাগে তপন রায় এবং বর্ধমান পূর্ব আসনে বিজেপির তরফে টিকিট পেয়েছেন পরেশ চন্দ্র দাস।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যখন নিজেদের প্রার্থী তালিকায় চমক রেখে ফিল্মস্টার সহ অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছেন, তখন সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপরই ভরসা রেখে জনসংযোগ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি অধিকারী ব্যক্তিদের রাজ্যের 28 টি লোকসভা আসনে প্রার্থী করল বিজেপি। ফলে সেদিক থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন মানুষেরা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদেরকে কিছুটা হলেও যে সমর্থন করবেন তা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে তা জানা যাবে আগামী 23 মে ভোটবাক্স খোলার পরই।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!