এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সংগঠন শক্তিশালী করতে পিকেকে জমা দেওয়া তালিকায় তৃণমূল নেতার কাজের লোক থেকে গাড়ির চালকের নাম!

সংগঠন শক্তিশালী করতে পিকেকে জমা দেওয়া তালিকায় তৃণমূল নেতার কাজের লোক থেকে গাড়ির চালকের নাম!



অতি সম্প্রতি উপ নির্বাচনে জয়ের পর দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ পর্যালোচনা করে দেখা গেল এই উপনির্বাচনে রাজ্যের তিনটি বিধানসভা যথাক্রমে খড়গপুর, করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জের ভোটে তৃণমূল জয়লাভ করলেও নদীয়ার করিমপুরে তৃণমূলের প্রবল প্রতিপক্ষ বিজেপি হেরে গেলেও তাঁদের ভোট 4 শতাংশ বাড়িয়ে নিয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার প্রায় সাথে সাথেই তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ভোট বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোর নদীয়ার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসেছেন এবং বৈঠকে ভোট গুরু প্রশান্ত কিশোর এমন এমন তথ্য প্রকাশ করলেন যা দেখে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারলেন না।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে তপশিলি জাতি ও জনজাতির নাম চাওয়া হয়েছিল সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য। কিন্তু নদীয়ার জনপ্রতিনিধি বা নেতারা যে নাম পাঠিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে বাড়ির কাজের লোক থেকে শুরু করে গাড়ির চালক পর্যন্ত প্রত্যেকের নাম রয়েছে। এবং যাদের নাম রয়েছে তাঁদের সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই নদীয়ার নেতাদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নদীয়া জেলার বিধায়ক, ব্লক ও টাউন সভাপতিরা। এবং সেইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, নদীয়ার সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বোপরি ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বৈঠকে সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচনের রেজাল্ট নিয়ে পর্যালোচনা করা হয় এবং সেখানেই করিমপুরের বিজেপির 4% ভোট বৃদ্ধির কথাটি সামনে আসে। প্রসঙ্গ সামনে আসার পরেই নদীয়ার দলীয় নেতৃত্বকে তৃণমূল যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক থাকার কথা বলেন। এদিন বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী চাকদার বিধায়ক তথা মন্ত্রী রত্না ঘোষকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করেন। এদিন রত্না ঘোষকে লোকসভা ভোটে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে তুলে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। সাথে দলীয় নেতৃত্ব এও জানিয়েছেন, রত্না ঘোষ এর দলীয় কাজকর্মে সন্তুষ্ট নয় দল। একইভাবে নদীয়ার দলীয় পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভের মুখে পড়েন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। এদিন দুই বর্ধমানের নেতাদের সঙ্গেও তৃণমূল দলীয় নেতৃত্ব বৈঠক করেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে রাজ্যের বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি পরাজয় লাভ করলেও ভোট বাড়ানোর ইস্যুতে তাঁরা যথেষ্টই খুশি। কারণ এবারের উপনির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের একটা প্রেস্টিজ ফাইট চলছিল। তাই হেরে গেলেও সেই ফাইটে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকছে বলে মনে করছে রাজ্য বিজেপি শিবির। উপনির্বাচনের হারের পর এবার নতুন করে পুরসভা এবং 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপি আবার কোমর বেঁধে রাজনৈতিক ময়দানে নেমেছে। অন্যদিকে তৃণমূলও পিছিয়ে নেই। তাঁরাও খুব সাবধানতার সঙ্গে আগামী দিনের পুরভোট ও বিধানসভা ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে। আপাতত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা নজর রাখবেন রাজ্যের শাসক দল সাবধানী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের কথা অনুযায়ী নির্বাচনে জয় লাভ করেন নাকি এবার বিজেপি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!