এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > শাহিনবাগ নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল ইডি! ঘুম উড়ছে বিরোধীদের

শাহিনবাগ নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল ইডি! ঘুম উড়ছে বিরোধীদের



সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় জ্বলছে যেখানে গোটা দেশ, সেখানে শাহীনবাগে গত একমাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভ করে চলেছেন একশোর বেশি মহিলা। দিল্লি পুলিশ প্রথমে বল প্রয়োগ করলেও কাজ হয়নি। বিক্ষোভকারীরা অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তবে অবস্থান বিক্ষোভের জেরে এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তৈরি হয়েছে সারা দেশের মানুষের মধ্যে। শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ। বিরোধীরা এই আন্দোলনকে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই কেন্দ্রীয় শিবির দাবি করেছে, শাহীনবাগের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। একথা সত্যি প্রমাণ করে ইডি এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল।

দিল্লি নির্বাচন হতে বাকি আর দুদিন। নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী আগামী 8 ই ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগেই শাহীনবাগ নিয়ে ইডি রীতিমতো বোমা ফাটালো। এদিন শাহীনবাগকে নিয়ে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ইডি। যার ফলে দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরে গেল। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ হলে জানা যায়,  শাহীনবাগের আন্দোলনের পেছনে ক্রমাগত আর্থিক সাহায্য দিয়ে চলেছে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া নামক একটি গোষ্ঠী। তার সাথে এর মধ্যে যোগ আছে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির। এই বিবৃতি সামনে আসতেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরোধিতায় দীর্ঘদিন ধরে শাহীনবাগে অবস্থান-বিক্ষোভ চলে আসছে। এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় শতাধিক মহিলা শাহীনবাগের অবস্থানকারীদের মঞ্চের কাছে একটি 40 ফুট লম্বা ভারতের মানচিত্র রয়েছে। যার ওপরে একটি স্লোগান লেখা রয়েছে, ‘আমরা ভারতবাসীরা সিএএ, এনআরসি ও এনপিআর মানি না!’ উল্লেখ্য, শাহীনবাগের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ইতিমধ্যে এই অবস্থান মঞ্চে প্রচুর হেভিওয়েট নেতা এবং বিশুষ্ট ব্যক্তিরা পা দিয়েছেন। প্রত্যেকে কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।

শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছিল, শাহীনবাগের আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তীব্রভাবে রয়েছে। এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে তদন্তে নামে ইডি। তদন্ত সূত্রে একটি ক্যাশ ট্রেল ধরে শাহিনবাগের আন্দোলনের সঙ্গে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং পিএফআই এর যোগ দেখতে পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এই নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা হয়েছে ইডি সূত্রে। জানা গেছে, পি এফ আই এর যে 15 টি ব্যাংকে একাউন্ট আছে, তার 73 টি একাউন্টের প্রত্যেকটিতে একশো কুড়ি টাকা করে জমা পড়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি একাউন্টে 5,000 থেকে 89000 এর লেনদেনও রয়েছে দেখা যাচ্ছে। যা রীতিমত সন্দেহের উদ্রেক করেছে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

সম্প্রতি শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁদের অবস্থান মঞ্চে আসার আবেদন জানানো হয়। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, তাঁদের সাথে এসে এক কাপ চা খাওয়ার। বকলমে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই আহ্বান বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শাহীনবাগের আন্দোলনকারীদের এই আবেদনের কোন জবাব দেন না। উপরন্তু তিনি বিভিন্ন জনসভা থেকে শাহীনবাগের আন্দোলনের প্রতি কড়া মনোভাব পোষণ করে বক্তব্য রাখেন।

সম্প্রতি দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এসে শাহীনবাগ নিয়ে কংগ্রেস ও আপ সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিএএর নামে বিক্ষোভ রাজনৈতিক এক্সপেরিমেন্ট।’ তবে ইডির তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শাহীনবাগের আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন। তিনি এদিন বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘তারা (বিরোধী) একই ব্যক্তি যারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিন্দা করেছিলেন। দিল্লির নাগরিকরা কি এই জাতীয় লোককে ক্ষমতায় চান? এই লোকেরা ভারতকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের বাঁচাচ্ছেন। জামিয়া ও শাহিনবাগ সহ এই সমস্ত প্রতিবাদের পেছনে একটি রাজনৈতিক নকশা রয়েছে।’

বিগত কয়েক দিন ধরেই দেশের রাজনীতি নাগরিকত্ব ইস্যুতে উত্তপ্ত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে একের পর এক অবস্থান বিক্ষোভ চলছে এবং প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছে, তা সামাল দিতে বিজেপি সরকারকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এতদিন শাহীনবাগকে নিয়ে বিজেপির যে দাবি ছিল তা সত্যি প্রমাণ হতেই বিজেপির পক্ষে বেশ কিছুটা সুবিধা হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোন দিকে মোড় নিতে চলেছে, সেদিকে নজর রাখছে দেশের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!