এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > এবার দিল্লিকে সামনে রেখে তীব্র সম্মুখ সমরে মুখ্যমন্ত্রী-রাজভবন? ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ?

এবার দিল্লিকে সামনে রেখে তীব্র সম্মুখ সমরে মুখ্যমন্ত্রী-রাজভবন? ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ?



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – আবারও রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত। তবে বরাবরের মতো এবার বাংলায় নয়, ঘটনাস্থল মহারাষ্ট্র। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির বিভিন্ন কারণে মনোমালিন্য দেখা যাচ্ছে। এই মনোমালিন্যের অন্যতম কারণ হলো অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। মহারাষ্ট্র সরকারের প্রতি বিরুদ্ধ মন্তব্য করেও রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করতে যায় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। আর তাই নিয়েই রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দূরত্ব আরো বেড়ে ওঠে।

এদিনের মতান্তর অবশ্য কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে নয়, কিছুটা ধর্মীয় ভাবাবেগ এর কারণ। দেশের মধ্যে প্রথম থেকেই মহারাষ্ট্র করোনা সংক্রমণের শীর্ষে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় রাজ্যের প্রতিটি ধর্মস্থান বন্ধ রেখেছে মহারাষ্ট্র সরকার। আর তাই এবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। রাজ্যপালের দাবি, অবিলম্বে মহারাষ্ট্রে ধর্মীয়স্থানগুলি কোভিড বিধিনিষেধ মেনে খুলে দেওয়া হোক।

তবে এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের ধর্মীয় ভাবাবেগে উস্কানি দিয়ে রাজ্যপাল মন্তব্য করেছেন যেরকম, ঠিক সেভাবেই পাল্টা উত্তরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারিকে ভরিয়ে দিয়েছেন তীব্র কটাক্ষে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি যে চিঠি লেখেন, তাতে উল্লেখ করেছেন উদ্ধব ঠাকরে অর্থাৎ শিবসেনার হিন্দুত্ববাদীর কথা। কিন্তু রাজ্যের ধর্মীয় স্থানগুলি বন্ধ রাখার কারণে রাজ্যপাল এদিন মুখ্যমন্ত্রী উধব ঠাকরেকে হিন্দুত্ব ছেড়ে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন দিল্লির কথা। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লিতে জুন মাসের আট তারিখ থেকে সমস্ত ধর্মীয় স্থান খুলে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। এবং দিল্লি থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ধর্মীয় স্থান থেকে করোনা ছড়ানোর খবর পাওয়া যায়নি। পাল্টা কোশিয়ারি প্রশ্ন তোলেন, মহারাষ্ট্রের মন্দিরগুলি কেন খুলবে না? তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়েছেন, করোনার বিধি-নিষেধ মেনে মহারাষ্ট্রের সমস্ত ধর্মীয় স্থান খুলে দেওয়ার।

অন্যদিকে মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যপালের চিঠির পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। উপরন্তু রাজ্যপালকে তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট তিনি কারো কাছ থেকে নেবেন না। তবে এক্ষেত্রে তিনি কঙ্গনা রানাওয়াতের ঘটনাটি তুলে কিছুটা কোণঠাসা করেন রাজ্যপালকে। এদিন উদ্ধব ঠাকরে বলেন, মহারাষ্ট্রকে কেউ পাক অধিকৃত কাশ্মীর বললে তাঁকে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানানোর মতো মনোভাব তিনি রাখেন না।

অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরে এদিন পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, মন্দির খুললে হিন্দুত্ব আর না খুললে ধর্মনিরপেক্ষ এটা কেমন যুক্তি? বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে উদ্ধব ঠাকরের ঠান্ডা লড়াই চলছিল। কঙ্গনা রানাওয়াতের ঘটনা সামনে আসায় বিরোধিতা চরম আকার নেয়। আর এবার ধর্মস্থান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে মতান্তর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমালোচনা। তবে করোনাকালে ধর্মস্থান বন্ধ থাকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনেকেই তা প্রশংসা করেছেন।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!