এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্য বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা

রাজ্য বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা



রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি বেশ কিছু বিতর্কমূলক মন্তব্য করেছেন। দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতির ময়দানে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সারাদেশ জুড়ে যখন সংশোধিত নাগরিকপঞ্জি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, সে সময় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য সাধারণের ক্ষোভকে আরো উসকে দিল বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এদিন আবারও দিলীপ ঘোষ টলিউডের বিশিষ্টজনেদের বিরুদ্ধে যেভাবে কটাক্ষ করেছেন, একটি ভিডিও সংক্রান্ত ব্যাপারে তা নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রবীণ অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়।

সম্প্রতি নাগরিকপঞ্জি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে টলিউডের বিশিষ্টজনেরা একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। এই ভিডিওটিতে প্রত্যেকের গলাতেই শোনা যায় একই কথা, ‘কাগজ আমরা দেখাবো না।’ সিএএ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে টলিউডের বিশিষ্টজনেরা এভাবেই কন্ঠ চড়ালেন। এই বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রুপম ইসলাম, নন্দনা সেন, তিলোত্তমা সোম, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, কঙ্কনা সেন শর্মা প্রমুখরা। অন্যদিকে, এই ভিডিওটির বিরুদ্ধে বুধবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করেন। ভিডিওটিতে উল্লেখিত বিশিষ্টজনদের তিনি বলেন, ‘বিশিষ্টরা নির্বোধ, নেমকহারাম’। এবং এই মন্তব্যের পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়।

এদিন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন,’কোনও রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট পদে আসীন থেকে কেউ কীভাবে এরকম কদর্য মন্তব্য করতে পারেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল। শালীনতা বজায় রাখাও উচিত ছিল।’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ সিএএ এর বিরোধীদের গুলি করে মারার দাবি জানিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। এমনকি তাঁর নিজের দলের অন্দরেও তিনি সমালোচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার দলের সদস্যদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষকে বলেন,’উনি ক্ষমতায় এলে গুলি করবেন বলেছিলেন। ভাগ্যিস, আমাদের হাতে এখনও আরও কিছু সময় রয়েছে।’এরপরে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘উনি তো রাজনৈতিক দলের একটা বড় পদে আসীন, কাজেই আমাদের মতো ছোটখাট ব্যক্তিদের নিয়ে না ভাবলেও চলবে ওঁর!’


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে বুধবার কলকাতায় বিজেপি দপ্তরে বসে সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘যেসব বুদ্ধিজীবীরা পরজীবীর মতো অন্যের ঘাড়ে বসে খাচ্ছেন, তারা কী বললেন না বললেন, তাতে দিলীপ ঘোষের কিচ্ছু যায় আসে না! যারা আমার বিরোধীতা করেছেন, তাঁরা আগে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন। ওদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, যে আপনারা যখন এয়ারপোর্টে ঢুকবেন পরিচয়পত্র ছাড়া আপনাদের ঢুকতে দেবে তো? এই ননসেন্সরা জানেই যে রেশনের দোকান থেকে ট্রেন-বিমান সবজায়গায় বিনা পরিচয়পত্র ছাড়া নামিয়ে দেবে আপনাদের। সিনেমার টিকিট না কেটে কি পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকেন? লোককে বোকা বানানো হচ্ছে যে কাগজ নেই! নেমকহারাম এঁরা। হ্যাঁ, কাগজ তো অনেকেরই নেই, তা আমরা জানি। এদের ডায়লগবাজি মানুষদের বিভ্রান্ত করে।’

দিলীপ ঘোষ এদিন আরও বলেন, ‘যাঁরা CAA বিরোধী প্রচার করছেন, ওই ভিডিওতে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি বিদেশে গিয়ে সোনার জিনিস চুরি করে দেশের মান-সম্মান ডুবিয়েছেন। বিদেশে আমাদের নাক-কান কাটিয়ে এসেছেন।’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দিলীপ ঘোষ নাম না করে এদিন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কেই আক্রমণ করেছেন। কারণ, বেশ কিছু বছর আগে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতির সুরে সুর মিলিয়ে সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়া অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র এদিন বলেন, ‘CAA, NRC নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের উর্দ্ধে গিয়ে দেশের কথা ভাবুন।’

দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য সামনে আসার পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। সাথে টলিউডের বিশিষ্ট মহলেও রাজ্য বিজেপির সভাপতির বিরুদ্ধে ক্রমশ ক্ষোভ পুঞ্জীভূত আকার ধারণ করছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বারংবার যদি এভাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বিতর্কিত মন্তব্য করতে থাকেন, তাহলে রাজ্যবাসীর কাছে তাঁর এবং তাঁর দলের ছবি ক্রমশ মুছে যেতে থাকবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, যেভাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তার খেসারত দিতে হবে তাঁকে। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!