এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে জঙ্গলে দিন কাটছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের, ঘটনা সামনে এলে তীব্র চাপানউতোর শুরু

রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে জঙ্গলে দিন কাটছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের, ঘটনা সামনে এলে তীব্র চাপানউতোর শুরু



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্য গেরুয়া শিবির সরব হয় রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ ওঠে, জয়ের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। অনেকাংশেই দেখা যায় এই ঘটনা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে রাজ্য জুড়ে 356 ধারা জারি করার দাবি তুলেছে বিজেপি। আর তার মধ্যেই গেরুয়া শিবিরকে শক্তি যোগাতে আরো একটি রাজনোইতিক হিংসার খবর সামনে এলো। জানা গিয়েছে, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম অঞ্চলের প্রেমগঞ্জ গ্রামের 25 থেকে 30 টি বিজেপি সমর্থক পরিবার ঘরছাড়া হয়ে দিন কাটাচ্ছেন জঙ্গলে।

স্বাভাবিকভাবেই এই অভিযোগ সামনে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ওই বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁরা তৃণমূলের অত্যাচারের ভয়ে গ্রামে ফিরতে পারছেননা। জঙ্গলের মধ্যেই তাঁরা তাঁবু খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি, সুতরাং তাঁদের ভোগান্তি যে বেড়ে চলেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

পাশাপাশি এই পরিবারগুলির অভিযোগ, তাঁরা কিন্তু বিপদের দিনেও দলকে অর্থাৎ বিজেপিকে পাশে পাননি। সূত্রের খবর, ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রেমগঞ্জ গ্রামের তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা বিজয় মিছিল করেছিলেন এবং সেখান থেকেই বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

প্রায় 25 থেকে 30 টি পরিবার এরপর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে জঙ্গলের ভেতর তাঁবু খাটিয়ে থাকতে বাধ্য হন তারপর থেকে তাদের সঙ্গে দশটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে সিপিআইএমএলের সংগঠনের বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে বেশ কিছু পরিবার ঘরছাড়া অবস্থায় জঙ্গলে দিন কাটাচ্ছেন।

তিনি আউশগ্রাম 2 পঞ্চায়েত সমিতিকে চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছেন, অসহায় পরিবারগুলিকে বাড়িতে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে। অন্যদিকে আউশগ্রাম দুই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলী জানান, আগে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়ি ফিরতে আর কোন বাধা নেই।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে জেলা বিজেপির সম্পাদক শ্যামল রায় পাল্টা জানান, ঘরছাড়া বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে ফেরানোর কথা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বাড়ি ফিরলেই আবার তৃণমূলের আক্রমণের মুখে পড়তে হতে পারে- এই আতঙ্কে ঘরছাড়ারা ঘরে ফিরতে পারছেন না। তবে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে বিজেপির ঘরছাড়াদের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘরে ফেরানো হচ্ছে।

এই ঘটনা সামনে আসা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূল বিজেপির তরজা। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, 356 ধারা জারির পেছনে এ ধরনের ঘটনাকে বিজেপি অস্ত্র হিসাবে তুলে আনবে সামনে। তাই অবিলম্বে রাজ্য প্রশাসনের উচিত, এ ধরনের ঘটনার খোঁজ নেওয়া এবং যদি কেউ রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়ে ঘরছাড়া থাকে, তাঁদেরকে ঘরে ফেরানো উদ্যোগ নেওয়া। আপাতত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেদিকে নজর থাকবে।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!