এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > রাজ্যপাল কি বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকায়? হিংসার খোঁজ করতেই ধনকরকে তীব্র কটাক্ষ পার্থর

রাজ্যপাল কি বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকায়? হিংসার খোঁজ করতেই ধনকরকে তীব্র কটাক্ষ পার্থর



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাগদীপ ধনকার। আর তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব হতে শুরু করেছিলেন আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে প্রশাসন পরিচালনা, শিক্ষা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যপালের মন্তব্য অস্বস্তিতে ফেলে দেয় রাজ্য সরকারকে। তবে তৃতীয়বার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য বনাম রাজ্যপালের দ্বৈরথ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নেওয়ার পরই রাজ্যের হিংসার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

আর হিংসার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার কোচবিহার সফরকে কেন্দ্র করে রীতিমত রাজ্য বনাম রাজ্যপালের দ্বৈরথ বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের এক্তিয়ারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর এবার গোটা বিষয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে। যেখানে রাজ্যপাল বিজেপির রাজ্য সভাপতি ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করতে দেখা গেল তাকে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুক্রবার কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিককে সাথে নিয়ে কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা এবং শীতলকুচিতে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় যে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বাড়িতে উপস্থিত হন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। আর সেখানেই গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখেন তিনি। তবে বেছে বেছে বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে রাজ্যপালকে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। যেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকা পালন করছেন রাজ্যপাল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, এদিন এই প্রসঙ্গে ফেসবুকে পার্থ প্রতিম রায় লেখেন, “ভোটের ফলাফলের পর ধুকতে থাকা বিজেপিকে অক্সিজেন দেওয়ার কাজ করছেন রাজ্যপাল। সাজানো-গোছানো কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়েছেন তিনি। গত 10 এপ্রিল শীতলকুচিতে সিআরপিএফের গুলিতে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল, সেই নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করুন। তাদের বাড়িতে যান। বিজেপির হার্মাদরা কিভাবে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মারধর করেছে, তা খতিয়ে দেখুন। আক্রান্তদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক উদয়ন গুহর পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন। কিন্তু তা না বলে শুধুমাত্র বিজেপি সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির আক্রান্ত সমর্থকদের বাড়িতে একতরফা গিয়ে মূলত বিজেপির রাজ্য সভাপতি ভূমিকা পালন করছেন রাজ্যপাল।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতির সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন বিষয়ে যখন রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন, তখন তাকে বিজেপির মুখপাত্র বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তৃতীয়বার তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যে লাগাতার হিংসা নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন রাজ্যপাল। পরবর্তীতে কোচবিহার সফরকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ক্রমশ বাড়তে শুরু করে।

আর এবার বিজেপি সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে তার কোচবিহার সফর এবং বেছে বেছে বিজেপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সরব হলেন কোচবিহার জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি। যেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ভূমিকা পালন করছেন রাজ্যপাল বলে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। যে ঘটনায় রাজ্য বনাম রাজ্যপালের দ্বৈরথ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!