এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > লক্ষ্য রাজবংশী ভোট, মাঠে নামছে বিজেপি-জায়গা ছাড়তে নারাজ তৃণমূল

লক্ষ্য রাজবংশী ভোট, মাঠে নামছে বিজেপি-জায়গা ছাড়তে নারাজ তৃণমূল



বাংলায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের বাস। দক্ষিণবঙ্গে যেমন রয়েছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, ঠিক তেমনই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশ ছেয়ে রয়েছে রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বে। সেদিক থেকে নির্বাচন কাছে চলে এলেই এই সমস্ত সম্প্রদায়ের মন জয় করতে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে। বর্তমানে রাজবংশী অধ্যুষিত কোচবিহার জেলায় সেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের মন জয় করতে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি। দলের বড় বড় পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় সেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের রেখে একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে তারা।

বস্তুত, গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পেছনে সবথেকে বড় কারণ, রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির দিকে চলে যাওয়া। আর তারপরই রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে সেই জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজবংশী সম্প্রদায়ের বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে। পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতি করা হয় আরেক রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি পার্থপ্রতিম রায়কে।

শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগেই এই কোচবিহার জেলা যুব তৃনমূলের সভাপতি পদে আনা হয়েছে বিষ্ণুব্রত বর্মনকে। তিনিও রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। ফলে সেদিক থেকে নিজেদের দলের বড় বড় জায়গা রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে সব সময় রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির 42 টি মণ্ডল কমিটির মধ্যে 28 টি মণ্ডল কমিটির সভাপতি পদে বসানো হয়েছে রাজবংশী সম্প্রদায়ের লোকেদের। আর কোচবিহারের শাসক থেকে বিরোধী, দুই রাজনৈতিক দল রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের দলের শীর্ষ পদে স্থান দেওয়ায়, এখন নানা মহলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক গুঞ্জন।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অনেকে বলছেন, সামনে পৌরসভা নির্বাচন। আর তারপরেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এখন থেকেই এই দুই রাজনৈতিক দল ভালো ফলের লাভের আশায় রাজবংশী মুখগুলোকে নিজেদের নেতৃত্বস্থানে নিয়ে আসতে চাইছে। যার ফলে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের দিকে বেশি করে টানতে সচেষ্ট হচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপি।

এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “আমাদের দল সর্বসাধারন মানুষের উন্নয়নের পক্ষে কাজ করেছে। কোচবিহার জেলায় রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের নিয়ে আমাদের সরকার বহু কাজ করেছে। রাজবংশী ভাষা একাডেমী, রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী সম্প্রদায়ের পুরোধা পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় আমরা তৈরি করেছি। একটা সময় রাজবংশী লোকেরা ব্রাত্য ছিল। এই প্রচার আমরা মানুষের সামনে করছি। আমাদের দলের জেলা নেতৃত্বেও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন।”

তবে তৃণমূল রাজবংশী সম্প্রদায়ের জন্য নানা উন্নয়ন করার কথা বলে ভোটকে টানার চেষ্টা করলেও, পাল্টা সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এদিন এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভানেত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, “আমাদের দলের সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ডল কমিটি বেশিরভাগ সভাপতিই রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। জেলা কমিটিতে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষকে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন ওরা কেন এসব করেনি! এখন বিজেপিকে দেখে ওরা এসব করছে। আসলে ওরা নকল করতে ওস্তাদ।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দলের দুই নেতা, নেত্রী নিজেদের মধ্যে রাজবংশী ভোট নিয়ে দড়ি টানাটানি করলেও, শেষ পর্যন্ত সেই সম্প্রদায়ের মানুষেরাই শেষ কথা বলবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রচার করলেও, শেষে ভোট বাক্সে কোচবিহার জেলার রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ কার ওপরে ভরসা রাখেন! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!