এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রেলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তৃনমূল, জেনে নিন!

রেলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তৃনমূল, জেনে নিন!



রেল নিয়ে তৃণমূলের আশা নতুন কিছু নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই, বাংলার প্রতি ব্যাপক রেল দেওয়া থেকে শুরু করে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণায় বাংলার মানুষ তৃণমূলের প্রতি বাড়তি সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক পাল্টেছে‌। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রেলমন্ত্রী নেই। কেন্দ্রে এখন বিজেপি সরকার। আর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

আর বিজেপির চরম বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রেল বাজেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যুতে মাঝেমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন। আর এবার বীরভূমের রামপুরহাটে পূর্ব রেলের উচ্ছেদ নোটিশের প্রতিবাদ করে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। যে ঘটনা চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে রাজ্যজুড়ে। বস্তুত, সম্প্রতি রেলের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ জারি করে জানানো হয়েছিল, 10 ফেব্রুয়ারি রামপুরহাট স্টেশন চত্বরে পশ্চিমদিকের লোকপাড়া গেট নম্বর 23/বি সংলগ্ন নিউ কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

আর এর পরের দিন পৌরসভার 4 নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলো, পাঁচমাথা মোড় এবং 12 ফেব্রুয়ারি রামপুরহাট স্টেশন চত্বর এবং ছ ফুকো ব্রিজ এলাকা খালি করা হবে। আর রেলের তরফ থেকে এই নোটিশ পাওয়ার পরই রীতিমতো আশঙ্কায় প্রহর গুনতে শুরু করেন সেখানকার ঝুপড়িতে বসবাসকারী বাসিন্দারা। প্রায় 500 টি পরিবার উৎকণ্ঠায় তাদের দিন কাটাতে শুরু করেন। আর এবার সেই পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে রেলের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, শুক্রবার রামপুরহাট স্টেশনে তৃণমূল সমর্থিত ফুটপাত ব্যবসায়ী সমিতি এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। পরে দলের পক্ষ থেকে স্টেশন ম্যানেজারের হাতে তারা একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। এদিন তৃণমূলের এই অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল সমর্থিত ফুটপাত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রেকিব, তৃণমূলের জেলা সম্পাদক তুহিনশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, যুব তৃনমূলের সভাপতি ওয়াসিম আলি ভিক্টর সহ অন্যান্য। এদিন স্টেশন ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে আব্দুর রেকিব বলেন, “উচ্ছেদ হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কর্মহীন হয়ে পড়বেন। তাই পুনর্বাসন না দিয়ে গায়ের জোরে উচ্ছেদ হলে আগুন জ্বলবে। রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হবে। যার জন্য দায়ী থাকবে রেল। রেলের কিছু পুলিশ উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা ফুটপাত ব্যবসায়ীদের কাছে টাকার দাবি করছে। টাকা দিলে উচ্ছেদ করা হবে না, এমনটাই তারা বলছেন।”

আর সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রেলের বিরুদ্ধে তৃণমূল সরব হয়ে আদতে বিজেপিকেই বিপাকে ফেলার চেষ্টা করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু এই ব্যাপারে কি বলছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ! এদিন এই প্রসঙ্গে স্টেশন ম্যানেজার পি কুমার বলেন, “উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তাই এই স্মারকলিপি তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত এরকম কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি‌। তাই আমাদের কিছু করার নেই।”

তবে স্টেশন ম্যানেজার যে কথাই বলুন না কেন, গোটা পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত রেল যদি তাদের এই নোটিশ তুলে না নেয় এবং যদি বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে, তাহলে তৃণমূল বড় আন্দোলনে যেতে পারে বলেই মনে করছে একাংশ‌। এখন গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!