এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বাংলা, দিল্লি, বিহার, কর্নাটক – একের পর এক রাজ্যে জোটের জটে হিমশিম অবস্থা রাহুল গান্ধীর

বাংলা, দিল্লি, বিহার, কর্নাটক – একের পর এক রাজ্যে জোটের জটে হিমশিম অবস্থা রাহুল গান্ধীর



আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগেই সারাদেশে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে সরানোর জন্য যখন প্রথম থেকেই বিরোধী মহাজোট তৈরীর কথা বলে আসছে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী, ঠিক তখনই এবার আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই কংগ্রেসের সাথে বিভিন্ন রাজ্যের সাথে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট নিয়ে তৈরি হলো প্রবল ধন্দ।

জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু রাজ্যে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তীব্র জটিলতাও তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতায় তীব্র জটিলতার জেড়ে দিল্লিতে আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে কংগ্রেসের প্রবল জটিলতা দানা বাধতে শুরু করেছে।

পাশাপাশি কর্নাটক এবং বিহারেও তৈরি হয়েছে সমস্যা। আর এই সমস্যা মেটাতেই এবার কালঘাম ছুটছে রাহুল গান্ধীর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিল্লিতে আম আদমি পার্টির নেতৃত্বে বর্তমানে নানা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় সেখানকার সাধারণ মানুষ এবারের লোকসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের ওপর অনেকটাই ভরসা রাখতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

আর সেই খাতিরে এবার এই দিল্লিতে কংগ্রেসকে নিউ দিল্লি এবং চাঁদনী চক এই মাত্র দুটি আসনই ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে আপ। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও একটি আসন দাবি করলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, দিল্লিতে এই মুহূর্তে কংগ্রেসের একটি আসন রয়েছে।

তাহলে তাঁরা কেন তাঁদের তিনটি আসন ছাড়বেন! আর যদি কংগ্রেসকে তারা এখানে তিনটি আসন এখানে ছেড়ে দেয়, তাহলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গোয়ায় কংগ্রেসকে আসন ছাড়তে হবে বলে আপের মন্তব্যে তীব্র সমস্যায় পড়েছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি। আর এহেন একটা পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেসের সভানেত্রী শীলা দীক্ষিত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দিল্লিতে কোনরূপ জোট হচ্ছে না।

এখানে কংগ্রেস একাই লড়বে। অন্যদিকে সেখানকার চল্লিশটি লোকসভা আসন নিয়ে সেই কংগ্রেস এবং লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডির মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। আরজেডি জানিয়ে দিয়েছে যে এখানে তারা 25 এবং বাকি 15 টি আসনে কংগ্রেস সহ অন্যান্য জোট শরিকরা লড়াই করবে। তবে এই 15 টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসই 12 টি আসনে দাঁড়াতে চাইছে। ফলে বাকি সামান্য তিনটি আসনে কোন দল দাঁড়াবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সমস্যা।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

ইতিমধ্যে এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতার শক্তি সিং গোহেল এবং আরজেডির লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদবের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো রফাসূত্র বেরোয়নি। এদিকে কর্নাটকের 28 টি লোকসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস 18 টি আসনে লড়তে চাইছে। ফলে বাকি থাকা 10 টি আসনে সন্তুষ্ট নয় শরিক দল জেডিএস। সেক্ষেত্রে আসন সমঝোতার নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে কর্ণাটকেও তৈরি হয়েছে বিরোধী মহাজোটের জটিলতা।

পাশাপাশি বাংলায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হবে কিনা এবং হলেও কোন আসন থেকে কে প্রার্থী দেবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিধান ভবন ও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের মধ্যে আলোচনা চললেও রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র নিয়ে সমস্যা মেটেনি। ফলে সেই দিক থেকে বাংলা নিয়েও প্রবল চিন্তায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী।

জানা গেছে, এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রদেশ নির্বাচনী কমিটিও করছেন তিনি। যেখানে অসিত মিত্র, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, শুভঙ্কর সরকার, অমিতাভ চক্রবর্তী এবং সন্তোষ পাঠকের মতো নেতারা রয়েছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী মহাজোট তৈরি করে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য শপথ নিলেও এবার রাজ্যে রাজ্যে আসন বন্টনের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন শরিক দলের বনিবনা না হওয়ায় আদৌ এই বিরোধী মহাজোট কতটা সার্থক লাভ করবে তা নিয়ে প্রবল শঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছেন হাত শিবিরের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!